ভারতরাষ্ট্রে প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক সম্পদ সহ ১০০ কোটি কর্মক্ষম মানব সম্পদ রয়েছে। নাগরিক উন্নয়ন এবং সামাজিক উন্নয়নে বাধা কোথায়?
প্রতিটি রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্ত এক। উদ্দেশ্যও এক। রাষ্ট্র এবং জনতার উন্নয়ন। অথচ দলগুলি বাস্তবিক চায় জনতা শুধুমাত্র তাদের দলীয় চশমা দিয়ে সমাজকে দেখুক, দলীয় বিশ্বাসকে ধারণ করুক, দলীয় মতাদর্শকে প্রচার করুক, দলীয় নির্দেশে চালিত হোক। সকল দলের সিদ্ধান্ত-উদ্দেশ্য যখন এক তবে মিলিত উদ্যোগে পদক্ষেপ গ্রহণে বাধা কোথায়?
এ প্রশ্নের উত্তরও দলগুলো মিলিত উদ্যোগে খুঁজতে পারে। এ কথা বলার পেছনে কারণ যে নেই তা নয়। জনতা একাধিক রাজনৈতিক দলকে কেন্দ্র এবং রাজ্যের উভয় ক্ষেত্রে সুযোগ দিয়েছে। বলা যায় দলীয় সরকারগুলি দীর্ঘ পরিসর পেয়েছে। তারপরও সকলের জন্য শিক্ষা-জীবিকা-বাসস্থান-স্বাস্থ্য-সুরক্ষার মত মৌলিক উদ্দেশ্য পূরণ করা সম্ভব হয়নি। সুতরাং এমন সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে রাষ্ট্রব্যাপী জনতাও "সমস্যার কারণ এবং সমাধান" বিষয়ে পরস্পরের মধ্যে বাক্যবিনিময়ে কৌতূহলী হবে। সৌহার্দ্য-সম্প্রীতিও বৃদ্ধি পাবে। দশের বোঝা একের উপর চাপবে না। আমাদের রাষ্ট্র, আমাদের অধিকার, আমাদের দায়িত্ব এ বিষয়টি প্রাধান্য পাবে। এতে রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি নাগরিক সমাজ দায়িত্বশীল হবে। আলোচনা-সমীক্ষা প্রারম্ভ হলে কোথায় কী অভাব রয়েছে ইত্যাদি প্রশ্নগুলি উঠে আসবে। সমীক্ষা করলে দেখা যাবে বৃহৎ আয়তনের ভারতরাষ্ট্রে প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক সম্পদ যে পরিমাণে রয়েছে তার দ্বারা খাদ্য-বস্ত্র-বাসস্থান-চিকিৎসা ছাড়িয়ে প্রতিটি পরিবারের জন্য সমৃদ্ধশালী জীবনযাত্রার স্থায়ী বন্দোবস্ত সম্ভব হতে পারে। ভিন্ন রাষ্ট্রের উপর নির্ভরশীলতার প্রয়োজনই পড়বে না। অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, সামাজিক-সাংস্কৃতিক নিয়মনীতি ভারতরাষ্ট্র নিজ প্রয়োজন পূরণের উদ্দেশ্যে নিজেই গড়ে নিতে পারবে। ভারতের কাছে অপর একটি শক্তি হচ্ছে কর্ম সম্পাদনার জন্য ১০০ কোটির কর্মক্ষম মানব সম্পদ।
সুতরাং সিদ্ধান্তে উপনীত হতে বাধা কোথায়? নাগরিক সমাজকেই এই উদ্যোগে সম্মিলিত হতে হবে। নাগরিক সমাজকেই এই দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে। জাতি-ধর্ম-ভাষা-সংস্কৃতি নির্বিশেষে নাগরিক সমাজের সম্মিলিত শক্তিই ধাপে ধাপে সকল বাধাকে অতিক্রম করতে সমর্থ হবে।
আলোচনা-মতামতে-প্রশ্নোত্তরে সকলে স্বাগত।
লেখাটির মর্মার্থ যথার্থ বিবেচিত হলে শেয়ার করতে ভুলবেন না।
***

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন