সততা কিংবা নৈতিকতার মূল্যবোধ কেন বারংবার ব্যর্থ হয়? সমাধান কী?


সততাই মহৎ গুণ, সততাই জীবনের মূলমন্ত্র, সততাই সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা; সৎসঙ্গে স্বর্গবাস অসৎসঙ্গে সর্বনাশ ইত্যাদি বাক্যগুলি আমরা সর্বত্র শুনে থাকি। এমনকি সাধারণ মানুষও সর্বদা বলে থাকেন, সৎ মানুষজনের দ্বারা রাজ্য-রাষ্ট্র চালিত হলে এমন দুর্দশা হত না ইত্যাদি। এমন কথাও ওঠে, দল যাই হোক না কেন পরিচালনার ভার আদর্শবান নেতৃত্বের হাতে ন্যাস্ত না থাকলে জনতার ভাগ্যে দুর্দশাই ঘটবে। 

অর্থাৎ 'সততা' এমন এক যোগ্যতা যা দিয়ে সবকিছু জয় করা সম্ভব। সততার বিষয়ে জনসাধারণের কাছে এমনতর ধারণাই বদ্ধমূল হয়ে রয়েছে। আবার, অনেক সময় বলা হয় নেতৃত্বের সাথে নাগরিক সমাজকেও একইপ্রকার নৈতিক চরিত্রের হতে হবে। তবেই সমাধান সম্ভব হবে। তা বাস্তবে সম্ভব কিনা অথবা কীভাবে সম্ভব এ নিয়ে পর্যালোচনা আবশ্যক। চলুন এই রচনাটির মাধ্যমে আমরা সততার দিকে এক নতুন দৃষ্টিকোণ নিয়ে পর্যালোচনা করি। বহুল কথিত এবং পঠিত আদর্শ ও নৈতিকতার সকল শাখা-প্রশাখাগুলোর বাস্তবিক সমীক্ষা জরুরী। দেখা যাক সমস্যার কারণ এবং নিবারণ বিষয়ে কি সিদ্ধান্ত উঠে আসে। এই রচনায় সততার প্রচারিত এবং প্রায়োগিক উভয় দিকই প্রাধান্য পাবে। এটিকে মনস্তাত্ত্বিক বা দর্শনকেন্দ্রীক পর্যালোচনাও বলতে পারেন। নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিষয়ে নয়। যেমন অনেকে উদাহরণ দেখিয়ে বলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য অত্যন্ত আদর্শবান মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। তার মন্ত্রীসভা এবং একইসাথে নাগরিকবর্গও যদি তেমন আদর্শবান হতেন তবে সকল সমস্যার সমাধান হয়ে যেত।

এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত যথার্থ পর্যালোচনাই হয়নি যে, সততা-আদর্শ-নৈতিকতা মূল সমস্যা নয়। অনেকে বলবেন আমার জীবন সম্পর্কিত বেসিক জ্ঞানটুকুই নেই আবার সমাজব্যবস্থা নিয়ে লিখতে বসেছি।বাস্তবতা বলছে সততা দ্বারা সমস্যার সমাধান সম্ভব হয় না। যিনি সৎ তার জীবনে সমাধান কোথায়? সততা এক বস্তু আর সমাধান অন্য বস্তু। দুটি ভিন্ন দিক। সকলে সৎ হলেই কি সমাধান সম্ভব হয়? সততা দ্বারা সত্যিই সমাধান সম্ভব? দেখা যাচ্ছে নৈতিকতা দ্বারাও সম্ভব হয় না, অনৈতিকতা দ্বারাও সম্ভব হয় না। তাহলে উপায় কী? করনীয় কী? সমস্যার মূল কারণ কী? সমাধান কী? এ বিষয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা আবশ্যক...

আমরা হয়তো নিজের অভ্যন্তরে উঁকি দিয়ে বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করলে যথার্থ অনুধাবন করতে সক্ষম হব। নিজেকে উদাহরণ হিসেবে ধরে নিয়ে প্রশ্ন করে দেখতে পারি‒ কখন আমরা অপরকে দুঃখ দিয়েছি অথবা দুঃখ দেবার কথা ভেবেছি। যখন সোজা পথে কাজ হয় না কেবলমাত্র তখনই বাঁকা পথ নিতে বাধ্য হয়েছি। এ প্রসঙ্গে প্রবাদ বাক্যটি আপনারা নিশ্চয়ই শুনেছেন, ‘সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আঙুল বাঁকা করে নিতে হয়’। এর অর্থ মানুষ প্রথমে সোজা আঙুল দিয়ে ঘি বের করার চেষ্টা করে। অর্থাৎ সংবিধান অনুযায়ী চলাচলের চেষ্টা করে। যদি সফলতা না আসে তখন সংবিধানের বিপরীত পথ ধরে নেয়। সমাজে এইসব নেতিবাচক ঘটনাগুলিকে আমরা বিভিন্ন অপরাধের নামে জেনে থাকি। মানুষ সর্বকালে এভাবেই জীবন কাটিয়ে এসেছে। মানুষ প্রথমে সামাজিক বিধান কিংবা সংবিধানের নীতি অনুযায়ী জীবনযাপনের সাধ্যমত চেষ্টা করে। এমনকি সংবিধানের নিয়ম কঠোর হলেও প্রথমে সেইমত চলার আপ্রাণ চেষ্টা করে। এই সময়কালে অনেক বাধা-বিপত্তি-প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্মুখীন হতে হয়। তারপরও মানুষ চেষ্টা করে যায়। যখন সোজা পথে জীবন অসম্ভব হয়ে পড়ে তখনই বিকল্প পথের সন্ধানে পা বাড়ায়। বলা যায় অপরাধের পথ গ্রহণ করে অগ্রসর হয়ে যায়। বর্তমান ব্যবস্থায় এছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। সামগ্রিকভাবে বলা যায় যেখানে ১,০০০ মানুষের সুখসুবিধা প্রয়োজন সেখানে সুখসুবিধা রয়েছে কেবলমাত্র ১০ জন মানুষের জন্য। যেখানে ১,০০০ মানুষের কর্মসংস্থান প্রয়োজন সেখানে কর্মসংস্থান রয়েছে কেবলমাত্র ১০ জন মানুষের জন্য। বর্তমান ব্যবস্থা ১০ জনকে কোনোভাবে কর্মসংস্থান প্রদান করলেও ৯৯০ জনকে ছেড়ে দিয়েছে নিজেদের পরিস্থিতির উপর। ফলে সিংহভাগ মানুষ কীভাবে বেঁচে রয়েছে সে সম্পর্কে সকলে অবগত। দুর্দশায় জর্জরিত মানুষ তারপরও যেমন তেমন করে দরিদ্রতার সাথে মানিয়ে চলার চেষ্টা করে। কিন্তু দরিদ্র অবস্থায়, অসহায় অবস্থায় কয়জন কতদিন সৎ হয়ে থাকতে পারে? প্রেমপূর্ণ মনোভাব কিংবা নৈতিকতা বজায় রেখে চলতে পারে? হাতে গোনা কিছু মানুষ জর্জরিত অবস্থাতেও অন্যকে প্রতারণা করে না। তারা পরিত্যক্ত অবস্থা, জীর্ণ অবস্থা ভবিতব্য বলে মেনে নিতে বাধ্য হয়। পারিবারিক অশান্তি, সামাজিক গঞ্জনা ইত্যাদি চাপে হয় আত্মহত্যা করে ফেলে নাহয় মানসিক রোগীতে পরিণত হয়। ইচ্ছে সত্ত্বেও কেন সকলে সততা ধরে রাখতে পারে না? কথা দিয়ে কথা রাখতে পারে না? উত্তর হচ্ছে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বারংবার বাধা হয়ে দাঁড়ায়। শতভাগ মানুষের উচ্চতর আয়যুক্ত জীবিকার সুনিশ্চিত বন্দোবস্ত ব্যতীত শুধুমাত্র সততা বা নৈতিকতা দ্বারা কীভাবে জীবনযাপনের অভাব পূরণ করা সম্ভব? এইরূপ অবস্থা অসহনীয় হতে হতে একটা সময় পর অধিকাংশ মানুষ অনৈতিক পথ ধরে নিতে বাধ্য হয়। উল্টে দেখা যায় সমাজ সরাসরি তাঁদেরকেই দোষারোপ করে থাকে। সমাজের এই অভিযোগ কি সঠিক বিচার বলে মনে হয়? কয়েকজন লোক মিলে তো সমাজ গঠিত হয় না। সকলে মিলে তৈরি হয়। সেখানে শক্তিশালীরা থাকে, দুর্বলরা থাকে, শিশুরা থাকে, মহিলারা থাকে। বলার অর্থ সমস্তপ্রকার মানুষজন থাকে। ত্রুটিপূর্ণ সমাজ-ব্যবস্থায় সকলের কাছে নৈতিকতা কীভাবে আশা করা যায়? বরং নৈতিকতাকে একটি সঠিক ব্যবস্থার ‘পরিণাম’ অথবা ‘মাপকাঠি’ হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত। সততা বা নৈতিকতা মানুষের মধ্যে স্বাভাবিকভাবে সঞ্চারিত হলে বুঝতে হবে ‘ব্যবস্থা’ সঠিক রয়েছে। অন্যথায় বুঝতে হবে ব্যবস্থায় কোথাও না কোথাও ত্রুটি রয়েছে। নৈতিকতা বা অনৈতিকতা কোনো না কোনো ব্যবস্থারই পরিণাম। ব্যবস্থা যখন সঠিক হয়ে যাবে পরিণামস্বরূপ নৈতিকতা স্বাভাবিকভাবে চলে আসবে। নৈতিকতাকে তখন যন্ত্রণা নিয়ে, অভাব নিয়ে, অসহায়তা নিয়ে জোর করে ধরে রাখতে হবে না। বর্তমান ব্যবস্থা একইরকমভাবে চলমান থাকলে ৯৯০ জন যে সুখসুবিধা থেকে সর্বদা বঞ্চিতই থাকবে এতে কোনও সন্দেহ নেই। 

এবার সেইসকল নিঃস্ব মানুষকে, বঞ্চিত মানুষকে, শোষিত মানুষদের কোন নৈতিকতার পাঠ পড়াবেন? তাদের পুনরায় কী ত্যাগ করার উপদেশ দেবেন? অনুসন্ধান করলে দেখা যাবে বর্তমান ব্যবস্থায় তারা বরং নৈতিক ও মানবিক বলেই বঞ্চিত, নিঃস্ব। মানবিকতা বা নৈতিকতা কোনো যোগ্যতা বা দক্ষতা নয় যা দিয়ে বাজার থেকে প্রয়োজনীয় বস্তু-পরিষেবা ক্রয় করা যায়। ব্যবস্থা একদিকে সুযোগসুবিধা রেখেছে মাত্র ১০ জনের জন্য। অপরদিকে উপদেশের বাণী শোনাচ্ছে সৎ হতে হবে, নৈতিক হবে হবে, মানবিক হতে হবে, প্রতিদ্বন্দ্বিতাবিহীন মনোভাব রাখতে হবে ইত্যাদি। যেখানে পূর্বেই অনুমান করা যাচ্ছে ৯৯০ জন অসফল হবেই, বঞ্চিত হবেই। এইরূপ অমানবিক ও অসম্পূর্ণ ব্যবস্থায় অসফল ব্যক্তিদের আদৌ দোষারোপ করা যায়? তাহলে ত্রুটি কোথায় রয়েছে? ব্যক্তির যোগ্যতায় নাকি অযোগ্য ব্যবস্থায়? সংশোধন কীসের প্রয়োজন? ব্যক্তির নাকি ব্যবস্থার? ১,০০০ জনের মধ্যে মাত্র ১০ জনই যোগ্য এই সিদ্ধান্তই বা কতটা মানবিক? শুধুমাত্র যোগ্যতার মনোবল ১০ জনের তালিকায় প্রবেশের পক্ষে যথেষ্ট? অসম্পূর্ণ ব্যবস্থায় যারা বাধ্য হয়ে কৌশল অবলম্বন করবেন তাঁদের অমানবিক বলবেন নাকি অসম্পূর্ণ ব্যবস্থাকে অমানবিক বলবেন? এইস্থানেই প্রশ্নের উদয় হয়– ব্যক্তির অভ্যন্তরীণ সংশোধন প্রয়োজন নাকি ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থার রূপান্তর প্রয়োজন? ব্যবস্থা এমন হওয়া উচিত যেখানে শতভাগ মানুষের জন্য সুযোগ-সুবিধা সর্বদা সুনিশ্চিত থাকবে। বিষয়টি ব্যক্তিগত নয় সামাজিক। সমাজকেই নতুন করে চিন্তন-মনন করতে হবে।

যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে, কৌশল অবলম্বন করে, মেধা-অর্থ-শ্রম-শক্তি ব্যয় করে সম্পদশালীদের মধ্যে স্থান করে নিয়েছেন তারাও সর্বদা ভয়ে ভয়ে থাকেন এই ভেবে- যেকোনো সময় বঞ্চিতরা দল বেঁধে অর্জিত সম্পদ লুণ্ঠন করতে পারে। কারণ বর্তমান ব্যবস্থায় সকলের জন্য সুযোগসুবিধা এবং সম্পদ-সুরক্ষার বন্দোবস্ত নেই। এমনকি বর্তমান দর্শনও 'মানুষের আকাঙ্ক্ষা সীমাহীন' এমনতর সিদ্ধান্ত নির্দিষ্ট করে রেখেছে। নিঃস্ব, অসহায়, পরিত্যক্তদের কথা ছেড়েই দিন, যাদের দখলে কিছু না কিছু রয়েছে তাঁরাও সর্বদা ভয়ে ভয়ে জীবন কাটাচ্ছেন। সমাজব্যবস্থা এভাবেই চলমান থাকলে নিশ্চিন্তের জীবন কীভাবে আশা করা যায়? কঠোর সংগ্রাম কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করে যে সামান্য কিছু মানুষ সুখসুবিধা অর্জন করেন কিংবা সমাজের চোখে তথাকথিত সফল বলে পরিচিত হন সেইসব মানুষজনও অর্জিত সম্পদ ঠিকমত উপভোগ করতে পারেন না। কেননা তাঁরা এই ভেবে সর্বদা দুশ্চিন্তায় থাকেন, কি জানি এই সুখসুবিধা কতদিন আমাদের কাছে থাকবে। কবে কে ছিনিয়ে নিয়ে চলে যাবে কে জানে। কেননা বহু মানুষ লুণ্ঠনের চেষ্টায় প্রচেষ্টারত রয়েছে। কি জানি কখন তারা সফল হয়ে যায়। পরিবারের কাউকে অপহরণ না করে ফেলে। আত্মীয়-বন্ধুদের উপরও সর্বদা সন্দেহ থাকে এই ভেবে কে কখন প্রতারণা করে ফেলে। কিংবা মামলা মোকদ্দমায় না ফেঁসে যেতে হয়। যে কারণে নিকটজনের সম্পর্কও একরকম সন্দেহজনক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে চলে। যেটুকু সুখসুবিধা তাঁদের কাছে থাকে সেটুকুও ভয়ে ভয়ে উপভোগ করতে হয়। সুতরাং সিদ্ধান্ত এটিই বেরিয়ে আসে যে, পেয়েও অসুখী জীবন এবং না পেয়েও অসুখী জীবন। এমন সমাজব্যবস্থা আবশ্যক যেন সম্পদশালীরাও সুরক্ষিত জীবনযাপনের সুখ উপভোগ করতে পারে এবং যারা নিঃস্ব তারাও যেন সমস্তপ্রকার সুযোগ-সুবিধার অধিকারী হয়ে সমৃদ্ধশালী জীবনযাপন উপভোগ করতে পারে। অর্থাৎ সুযোগ-সুবিধা এবং সুরক্ষার দিক দিয়ে সকলের জন্য সমানাধিকারের ব্যবস্থা। এইস্থানেই অসম্পূর্ণ হতে পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থার অভিমুখে অগ্রসর হবার প্রসঙ্গ চলে আসে।

সীমিত সুযোগসুবিধা দখলের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যারা পিছিয়ে পড়ে তাঁদের বহু উপাধি, পুরস্কার, সর্বেসর্বা, মহামানব ইত্যাদি মোড়কে ভূষিত করা হয়। এটিও একপ্রকার বৈষম্য। বাস্তবতা বলছে কেউই অলস অবস্থায় কিংবা অদক্ষ অবস্থায় পড়ে থাকতে চায় না। কেউই অপরের নির্ভরশীলতায় বেঁচে থাকতে চায় না। প্রতিটি মানুষ আত্মনির্ভরশীল ও স্বাধীন জীবনযাপন উপভোগ করতে চায়। সকলেই পছন্দ ও যোগ্যতা অনুযায়ী শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ-জীবিকার বন্দোবস্ত পেতে চায়। সকলেরই কোনো না কোনো বিষয়ে রুচি রয়েছে, মেধা রয়েছে। পছন্দের কর্ম সম্পাদনেও তো আনন্দ রয়েছে। সকলেই সেই আনন্দ উপভোগ করতে চায়। শতভাগ কর্মক্ষম মানুষের জন্য সুযোগ-সুবিধার বন্দোবস্ত না করে কাউকে অলস, মেধাবিহীন ইত্যাদি বিশেষণে আখ্যায়িত করাটা আদৌ যুক্তিযুক্ত? এমনতর নেতিবাচক অবস্থা কি সততা বা নৈতিকতার অভাবের কারণে ঘটে চলেছে? অসম্পূর্ণ সমাজব্যবস্থা একমাত্র দায়ী নয় কি? অনেকে পূর্বজন্মের কর্মফলকে দায়ী করেন এবং মানুষের মধ্যে জন্মগত পাশবিক প্রবৃত্তি রয়েছে এমনটি মনে করেন। প্রথমে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া আবশ্যক যে, একটি শিশু পৃথিবীতে পাশবিক প্রবৃত্তি বয়ে নিয়ে আসে নাকি নিষ্পাপ অবস্থায় আসে। সে কি পূর্বজন্মের পাপ বয়ে নিয়ে আসে নাকি শুদ্ধ অবস্থায় আসে। নিজেদের পরিবারের সন্তানদের দেখে কখনো এমন মনে হয়েছে তাদের মধ্যে জন্মগত পাশবিক প্রবৃত্তি রয়েছে? নাকি প্রতিটি শিশু নিজ পরিবার, পরিজন, পরিবেশ, বাহ্যিক অবস্থা-ব্যবস্থা যেমন রয়েছে তেমন অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে করতে জ্ঞান অর্জন করে থাকে এবং বাস্তবিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী নিজেকে পরিচালিত করে থাকে? তাহলে বাহ্যিক অসম্পূর্ণ অবস্থা-ব্যবস্থার রূপান্তর প্রয়োজন নাকি নিষ্পাপ মনের? সমাজের তথাকথিত সিদ্ধান্তটি প্রচলিত আধ্যাত্মিক জগতের ভ্রান্ত ধারণা নাকি সঠিক সিদ্ধান্ত? এ বিষয়ে পুনরায় বিবেচনা করা উচিত নয় কি? গবেষণা-অনুসন্ধান-আলোচনা-পর্যালোচনা করলে এই সিদ্ধান্তই উঠে আসবে, বাহ্যিক অবস্থা-ব্যবস্থার রূপান্তর জরুরী। যে কারণে পুনরায় ব্যবস্থা পরিবর্তনের বিষয়টি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে।

এবার অপরাধ-অপরাধীর বিষয় নিয়ে সামান্য পর্যালোচনা করা যাক। একজন অপরাধীর ক্ষেত্রে সমাজ এই আশা করে সে যেন সঠিক শাস্তি পায়। ধরুন সাজা পেয়ে জেলবন্দি বা ফাঁসি হল। শাস্তি প্রদানের পাশাপাশি উপদেশ হিসেবে জনগণের উদ্দেশ্যে প্রচারও করা হল আর কেউ যেন অপরাধ না করে। করলে ঐরূপ শাস্তি পেতে হবে। এতেই কি সব সমস্যা মিটে যায়? সমাজ কি অপরাধমুক্ত হয়? অপর কেউ একই অপরাধে লিপ্ত হয় না? যারা অপরাধ করে তারা কি জানে না ধরা পড়লে অত্যাচারিত হতে হবে, সম্মানহানি হবে, কঠোর শাস্তি পেতে হবে কিংবা মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে? তারপরও মানুষ কেন অপরাধে লিপ্ত হয়? কোন প্রবৃত্তি তাকে অপরাধের পথে প্রেরিত করে? কেনই বা প্রেরিত করে? সেই প্রবৃত্তি কি ‘অপরাধী’ জন্মজাত নিয়ে আসে? নাকি সমাজ থেকে গ্রহণ করে? তারপরও কি বলবেন সমস্যা মনুষ্যের অভ্যন্তরে রয়েছে? আপনারা যেকোনো একটি সমস্যা উদাহরণ হিসেবে ধরে নিয়ে পর্যালোচনা করলে বুঝতে পারবেন প্রতিটি সমস্যা সরাসরি সমাজ ব্যবস্থার সাথে সংযুক্ত।

সুতরাং বিষয়টি প্রথমত দর্শনগত, তারপর ব্যবস্থাগত। এটি নিশ্চিত মানুষের অভ্যন্তরে কোনও সমস্যা নেই। নৈতিকতা কিংবা অনৈতিকতা পরিস্থিতির ফসল। পরিস্থিতিই ধাপে ধাপে বাধ্য করে অনৈতিকতার পথে ঠেলে দেয়। যদিও সামান্য কিছু মানুষ আছেন যারা প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও অনৈতিক পথ গ্রহণ করেন না। তারা সমস্ত দুঃখ সহ্য করে চলেন। এমনতর অসহনীয় জীবনই বা কীপ্রকার ভবিতব্য? সৎ-মানবিক-নৈতিক মানুষের জীবন পরিত্যক্ত হবে, অসহায় হবে, জীর্ণ হবে এটিই বা কী প্রকারের বিধান? তাদের কি সুখসুবিধার প্রয়োজন নেই? দেখা যায় সৎ মানুষকে অধিক দুঃখ-কষ্ট সহ্য করতে হয়। তাদের পরিবারের সদস্যরাও কষ্টকর জীবন চায় না। নীতিবান মানুষদের বাড়ি গেলে দেখা যায় তাদের পরিবার কত দুঃখের মধ্যে দিনযাপন করছে। তাদের আত্মীয় পরিজনরাও এইসব নীতিবান মানুষদের তিরস্কার করতে থাকে। তারা নানা রাজনৈতিক-সামাজিক সংগঠন তৈরি করে কখনো সরকারকে ফ্যাসিবাদী আখ্যায়িত করে প্রতিবাদে নামে, কখনো বিত্তশালী ব্যক্তিদের শোষক বলে তিরস্কার করে, কখনো সাধারণ অপরাধীকেও আক্রমণ করে। সরকার কেন ফ্যাসিবাদী হয়? কেন জনতাকে বঞ্চিত করে? বঞ্চনা-দুর্দশার শিকার শুধুমাত্র ভারতেই রয়েছে এমনটিও তো নয়। সরকার সকলের জন্য শিক্ষা-জীবিকা-সুখসুবিধা-সুরক্ষার বন্দোবস্ত করতে ব্যর্থ হচ্ছে বলেই মূলত এত অভিযোগ এত আন্দোলন। চলমান অর্থনৈতিক ব্যবস্থাই মূল অন্তরায়। নেতামন্ত্রীর সততা, নৈতিকতা কিংবা মানবিকতা দ্বারা জনগণের বিপুল চাহিদা পূরণ করা কীভাবে সম্ভব? সততা-নৈতিকতা-মানবিকতা কোনো যোগ্যতা বা দক্ষতা নয় যা দিয়ে সমৃদ্ধশালী জীবনযাপন প্রদান করা সম্ভব। যতখানি সরকারি রাজস্ব আদায় হয় তা বিরাট দেশের বিপুল অভাব মেটানোর পক্ষে যথেষ্ট নয়। দুশো, পাঁচশো কিংবা হাজার কোটির দুর্নীতির অর্থ মিশিয়েই বলছি। অর্থনীতিবিদগণ দেশের সকল বিভাগের চাহিদা এবং আয়-ব্যয়ের হিসেব মিলিয়ে যাচাই করে নিতে পারেন। ধরে নেওয়া যাক আদায়কৃত রাজস্ব দুর্নীতি-চুরি হলো না। সমস্ত বিভাগে যথাস্থানে ব্যয় হলো। তারপরও দেখা যাবে অভাব-বঞ্চনা-আন্দোলন-অভিযোগ যেমন ছিল তেমনই রয়েছে। জরুরী ঘাটতি মেটাতে কেন্দ্র-রাজ্য উভয়কে বিরাট অংকের ঋণের বোঝা বইতেই হবে। সমস্যা চলমান আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক ব্যবস্থায় লুকিয়ে রয়েছে। ব্যক্তি কিংবা সরকারের মধ্যে নয়। সরকার বদল হলেই সমস্যা মিটবে এমনটিও নয়। একাধিক দলীয় সরকারের বদল ইতিমধ্যে পরীক্ষিত হয়ে গিয়েছে। আদর্শবান-নীতিবান নেতৃত্বও একাধিক সুযোগ পেয়েছেন। আদর্শবান সাধারণ মানুষই হোন কিংবা নেতৃত্ব আজীবন দুঃখ-দুর্দশার জীবন ধারণ করে প্রাণত্যাগ করাও যেমন সঠিক বিধান নয় তেমনই সম্পদ অর্জন করে অসুরক্ষিত জীবনযাপনও সঠিক বিধান নয়। আবার, ব্যবস্থা যেমন-তেমন নির্মাণ করে ‘জনতা ভাল হলে ব্যবস্থা সফল হবে’ এবং ‘জনতা মন্দ হলে ব্যবস্থা বিফল হবে’ এটিও সঠিক বিধান নয়। জনতাকে বাধ্য হয়ে অসম্পূর্ণ ব্যবস্থার নীতিকে মেনে নিতে হবে এটিও সঠিক বিধান নয়। মানুষ অন্তরে যেমন বাহ্যিক জগতের ব্যবস্থাপনাও তেমন হওয়া উচিত। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, ভাষা, সংস্কৃতি তথা মূর্খ, জ্ঞানী, দরিদ্র, বিত্তশালী সকলকে প্রথম সারিতে রেখেই ব্যবস্থা নির্মিত হওয়া উচিত। যেখানে শিশু, যুব, বৃদ্ধ, অসুস্থ্য, প্রতিবন্ধী, তৃতীয় লিঙ্গ সহ সকলের সমৃদ্ধশালী জীবনযাত্রার ব্যবস্থাপনা আজীবন সুরক্ষিত থাকবে। রাষ্ট্রে প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক যেমন সম্পদ রয়েছে তেমনই উৎপাদন এবং ব্যবস্থা পরিচালনার জন্য নানা স্তরের মেধাসম্পন্ন মানব সম্পদ রয়েছে। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধাগুলি বিদ্যমান। অটোমেশন, রোবোটিক, এআই ইত্যাদি পন্থাসমূহ কর্ম সম্পাদনায় ব্যবহুত হলে সময়-পরিশ্রমের স্বল্প ব্যায়ে দ্রুত সকল প্রয়োজনীয় বস্তু-পরিষেবা উৎপাদন সম্ভব। প্রশ্ন হচ্ছে এই সার্বিক উন্নয়নের পথে বাধা কোথায়? মানুষ সমৃদ্ধশালী হলে, সুরক্ষিত হলে পশু-পক্ষী-জলবায়ু তথা প্রকৃতি-পরিবেশের অন্যান্য দিকগুলির ব্যবস্থাপনাও সম্ভব হবে। 

উপরোক্ত আলোচনা থেকে এই সিদ্ধান্তই বেরিয়ে আসে, বাস্তবিক জীবনের সাথে সমন্বয় রয়েছে এমন দর্শনের উপর ভিত্তি করে একটি পূর্ণাঙ্গ সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত। জীবন বাস্তবে প্রতিনিয়ত সুখসুবিধা উপভোগ করতে চাইছে, সুতরাং আমাদের একটি সুখকেন্দ্রিক ব্যবস্থা আবশ্যক। যদি সকলের কাছে সমস্তপ্রকার সুখ উপভোগের জন্য সঠিক বন্দোবস্ত থাকতো তবে কেউই অনৈতিক পথ নির্বাচন করতো না। প্রকৃতিগতভাবে মনুষ্য চেতনায় যে স্বাভাবিক মানবিকতা রয়েছে তা বিকৃত করতে হতো না। সকলে যেমন জ্ঞান অর্জন করতে চাইছে করতে পারছে, যেমন কর্ম সম্পাদন করতে চাইছে করতে পারছে, যেমন বস্তু-পরিষেবা উপভোগ করতে চাইছে পেয়ে যাচ্ছে, যেমন সুরক্ষিত জীবন পেতে চাইছে পেয়ে যাচ্ছে এমন ব্যবস্থাপনা থাকলে স্বার্থসিদ্ধির জন্য মিথ্যা কিংবা শোষণ-বঞ্চনার প্রয়োজন হতো না। সম্পদ সঞ্চয়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মগ্ন থাকতে হতো না। সকলের কাছে সমস্তরকম সুযোগ-সুবিধার অধিকার সুনিশ্চিত থাকলে হারানোর ভয় থাকতো না। সকলে নিজের এবং পরিবারের সমৃদ্ধশালী জীবনযাপনের আনন্দ উপভোগে ব্যস্ত থাকতো। এটি সাম্য-অসাম্যের কথা নয়, কারণ প্রতিটি মানুষের পছন্দ-অপছন্দে ভিন্নতা থাকবে। এটিই প্রাকৃতিক নিয়ম। বিষয়টি হচ্ছে সকলে যেমনভাবে জীবনযাপন করতে চায় তেমনভাবে জীবনযাপন করবার স্বাধীনতা থাকা। এই স্বাধীনতার বন্দোবস্ত অন্য কেউ করে দেবে না। ব্যক্তিগত উদ্যোগের সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তা চিরস্থায়ী নয়। সকলকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, উদ্যোগ নিতে হবে। বিশেষ করে সামাজিক মনোভাবাপন্ন মানুষকে সর্বাগ্রে এগিয়ে আসতে হবে, দায়িত্ব নিতে হবে। মূল কথা সকলের সুখসুবিধা নির্মাণের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ সমাজব্যবস্থা আবশ্যক। যেন প্রতিটি ব্যক্তির অংশগ্রহণের সুযোগ এবং অধিকার সুনিশ্চিত থাকে। 

এবার করণীয় কী? অসম্পূর্ণ ব্যবস্থা থেকে পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থায় উত্তরণ কীভাবে সম্ভব? ব্যবস্থা পূর্বেও একাধিকবার বদলেছে, প্রয়োজন অনুযায়ী পুনরায় বদলাবে এতে অবাক হবার কিছু নেই।

প্রথমত, নতুন ব্যবস্থার একটি প্রস্তাবনা জরুরী। 

দ্বিতীয়ত, সম্মিলিত আলোচনা-পর্যালোচনা দ্বারা পরবর্তী সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া জরুরী।

তৃতীয়ত, নতুন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ জরুরী। 

পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠা ব্যতীত কোনও উপদেশ, সচেতনতা, সহায়তা পূর্ণতায় পৌঁছাবে না। ব্যক্তিগত উদ্যোগের সহায়তা ক্ষণিকের মরুদ্যান হতে পারে মাত্র। একমাত্র রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাই সকলের সমস্ত দায়িত্ব বহন করতে পারে। রাষ্ট্রব্যবস্থা যত উন্নত হবে নাগরিকের জীবনযাত্রার মান তত উন্নত হবে। যা ব্যক্তিগত কিংবা সংস্থাগত উদ্যোগে সম্ভব নয়। রাষ্ট্রের দায়িত্বই হচ্ছে সকলের জন্য শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ-জীবিকা-সামাজিক সুখসুবিধা-সুরক্ষা-স্বতন্ত্রতার সুবন্দোবস্ত সুনিশ্চিত করা। এমনকি ভেজালমুক্ত খাদ্য, আধুনিক চিকিৎসা, ভ্রমণ-বিনোদনের বন্দোবস্তও রাষ্ট্রব্যবস্থাই সুসম্পন্ন করতে পারে। চলমান অসম্পূর্ণ আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে জীবিকা-জানবাহন-আবাসের বন্দোবস্ত কোনোক্রমে সম্ভব হলেও তা আজীবন সুরক্ষা প্রদান করে না। আপনি চাকরি, ব্যবসা, সংসার যাই করুন না কেন চলমান অসম্পূর্ণ ব্যবস্থা প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং প্রতিহিংসাকে বাহবা দেয়। তা না করলে সুযোগ পাওয়া যেমন মুশকিল, সুযোগ ধরে রাখাও মুশকিল। অপরদিকে পরবর্তী প্রজন্মকেও পুনরায় একই সংঘর্ষ করে যেতে হয়। সে স্বদেশে হোক কিংবা বিদেশে। স্বদেশে প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে, মানব সম্পদ রয়েছে, প্রযুক্তিও বিকশিত হয়েছে। সহজে এবং স্বল্প সময়ে সকলের জন্য সুখসুবিধার বন্দোবস্ত করা সম্ভব যা পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে। প্রয়োজন যথার্থ ব্যবস্থাপনার। যা চলমান অসম্পূর্ণ ব্যবস্থায় সম্ভব নয়। চলমান রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা কতজনের জন্য কতখানি বন্দোবস্ত করতে পারে তার সীমারেখা সকলের জানা। 

চলমান জীবিকার চালনার পাশাপাশি সমাজ ব্যবস্থার দায়িত্ব বিষয়ে অবহিত হোন। পরিচিত-অপরিচিত জনের সাথে আলোচনা করতে থাকুন। কী প্রকার ব্যবস্থাপনা হলে আপনার জন্য এবং অপরের জন্য কাঙ্ক্ষিত জীবনযাপন-সুরক্ষা-স্বতন্ত্রতা সম্ভবপর হবে সেসব বিষয়ে উদ্যোগী হোন। সকল নাগরিকের সমৃদ্ধশালী জীবনযাত্রার উদ্দেশ্যে, সর্বসাধারণের উদ্যোগে নতুন আঙ্গিকে গণজাগরণ বিকশিত হোক। কোনোপ্রকার বিরোধীতা-বৈরীতা না করেই। সুরক্ষা-স্বতন্ত্রতা প্রয়োজন সকলের। রাষ্ট্রের সমস্ত সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তির অধিকার সকল নাগরিকের অধিকার।

জাতি-ধর্ম-ভাষা-সংস্কৃতি-দল-শ্রেণী নির্বিশেষে সম্মিলিত উদ্যোগে নতুন এবং পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থার উদ্যোগ প্রারম্ভ হোক। ব্যবস্থা পূর্বেও একাধিকবার বদলেছে, পুনরায় বদল নতুন কিছু নয়। এবারের পরিবর্তনের সাথে আপনার এবং পরিবারের অধিকারের পাশাপাশি সমাজের সকলের অধিকার বুঝে নিন। চলমান 'নাম কা ওয়াস্তে' গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মূল কাঠামোকে একই  রেখে শুধুমাত্র আস্তরণের বদল ফলাফলে নতুনত্ব আনবে না। এটিই মূল প্রশ্ন। কী প্রকার আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক ব্যবস্থা সকলের জন্য আবশ্যক সে বিষয়ে সচেতন হোন। পুনরায় বলছি নিজ স্বার্থ, পরিবারের স্বার্থ বুঝে নিন। যারা সমাজ-ব্যবস্থা বদলের কিংবা সমানাধিকারের বার্তা প্রেরণ করছেন তাদের প্রস্তাবনা যাচাই করুন, প্রশ্ন করুন। তারা ক্ষমতাধীন  হলে জনগণের প্রয়োজন পূরণের বন্দোবস্ত কীভাবে সুনিশ্চিত করবে? দুর্নীতির নিরসন কীভাবে করবে? প্রতিদ্বন্দ্বিতার সমাপ্তি কীভাবে সম্ভব হবে? ক্ষমতার বণ্টন কিংবা অধিকারের সুরক্ষা কীভাবে করবে? বিচার ব্যবস্থা কেমন হবে? সামগ্রিক ম্যানেজমেন্ট প্ল্যানিং বা ব্যবস্থাপনা কী থাকবে? সে ULM সংস্থা হোক, মার্কসীয় মতবাদ হোক কিংবা অন্য কোনও দলীয়-নির্দলীয়-সামাজিক সংস্থা হোক। তুলনামূলক পর্যালোচনা জরুরী। সমীক্ষা জরুরী। সমীক্ষা পরবর্তী যে ব্যবস্থা যথোচিত প্রমাণিত হবে সেটিকে গ্রহণ করা, প্রচার করা জরুরী। অসম্পূর্ণ ব্যবস্থাই জনতার আত্মবিশ্বাসের অভাবের মূল কারণ। জনতার মৌলিক অধিকারগুলো জন্মগতভাবে সুনিশ্চিত-সুরক্ষিত করা হয়নি। ভারতবর্ষে যে পরিমাণ প্রাকৃতিক সম্পদ এবং মানব সম্পদ বিদ্যমান তাতে প্রতিটি পরিবারের সমৃদ্ধ জীবনযাত্রার স্থায়ী এবং সুরক্ষিত ব্যবস্থাপনা সম্ভব। কাউকেই অপরের উপর আর্থিক নির্ভরশীলতার প্রয়োজন পড়বে না। রাষ্ট্র জনতার, রাষ্ট্রের সমস্ত সম্পদের অধিকারী জনতা। জনজাগরণ জরুরী, জনতার সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরী। 

একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রব্যবস্থা নির্মাণে সরাসরি অংশগ্রহণ করুন। নিজ উদ্যোগ-অবদান রাখুন। নিজের অধিকার বুঝে নিন। নিজের স্বার্থেই।

সকলে স্বাগত। 

মতামত জানাতে পারেন। ভালো লাগলে লাইক শেয়ার কমেন্ট করতে ভুলবেন না। 

-মাধব রঞ্জন সরকার, যোগাযোগ- 9830925502.

***




মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

রাষ্ট্র ব্যবস্থায় যে অধিকারগুলো জন্মগতভাবে থাকা জরুরী

কিউবার ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের কারণ কী?

ব্যবস্থাগত অসম্পূর্ণতা নাকি নেতৃত্বের ব্যর্থতা?