মনুষ্য সমাজে "Survival of the fittest" বা "যোগ্যতমের টিকে থাকার বাস্তবতা-যৌক্তিকতা কী?
মনুষ্য জাতির সমাজব্যবস্থা যেভাবে গড়ে উঠেছে সেখানে "Survival of the fittest" বা "যোগ্যতমের টিকে থাকা'র অর্থ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হওয়া। প্রতিদ্বন্দ্বিতা অর্থ দিয়ে হবে কিংবা শারীরিক শক্তি দিয়ে হবে। দুটি খেলাতেই ৯০% মানুষ চিরকাল যেমন পিছিয়ে ছিল ভবিষ্যতেও পিছিয়ে থাকবে।
অপরদিকে সমাজব্যবস্থার নিয়ম বলছে মেধা থাকতে হবে এবং নৈতিকতার দিক দিয়ে আদর্শবান হতে হবে। দেখা যাচ্ছে মেধা এবং সততার দিক দিয়েও অনুপাত সেই যৎসামান্য। এ দুটির কোনোটাই কারখানায় উৎপাদন করা য়ায় না। তাহলে সিংহভাগ মানুষের জীবন এমনতর নিরাশার দোলাচলেই ভাসতে থাকবে?
শিল্প-সাহিত্য, নাটক-সিনেমা, তথ্য-প্রযুক্তি, উপদেশ-অনুষ্ঠান, বিদ্যালয়-গবেষণা, সরকার পক্ষ-বিরোধী পক্ষ ২৪ ঘণ্টা যে কর্মরত রয়েছে তা কোন উদ্দেশ্যে? ফলাফলের চিরকালীন অনুপাত তো সেই এক।
এই সিদ্ধান্ত যে একদিনে নির্ধারিত রয়েছে তাও তো নয়। সমাজব্যবস্থার দীর্ঘকালীন ফলাফলের অনুপাত।
বাস্তবতার নিরিখে সমাজের অবস্থা যেন একদিকে চোরকে লুণ্ঠন করতে বলা হচ্ছে অপরদিকে গৃহস্থকে সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে। মূল কথা মনুষ্য জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে দার্শনিক সিদ্ধান্ত যেমন রয়ে গিয়েছে অস্পষ্ট তেমনই কাঙ্ক্ষিত জীবনযাত্রাও থেকে গিয়েছে অসম্পূর্ণ।
রহস্য-অসঙ্গতি, সমস্যার কারণ ঠিক কোথায়? স্থায়ী নিবারণের উপায় কী?
***
ব্যবস্থা ধীরে হলেও ধাপে ধাপে ব্যবস্থা সব দেশেই পরিবর্তন হচ্ছে, ইউরোপের দেশগুলো একসময় নিজেদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে, লড়াই করেছে আজ কি সেই লড়াই রয়েছে। তারা সমাধানসূত্র বের করেছে, তাতে অন্য সকলে একমত হয়েছে। আমি বলছি না ইউরোপ আদর্শ। সমস্যা সেখানেও রয়েছে। উভয়ের লাভ হবে এমন নীতি প্রণয়ন হলে, প্রচারিত হলে এবং লাভ প্রমাণিত হলে অন্য দেশেও কার্যকরী হবে.. জগৎ পরিবর্তনশীল, একইসাথে মানুষের চিন্তা চেতনাও পরিবর্তনশীল, আমরা নিজের জীবনেও পুরোনো ধ্যান-ধারণা বদলাচ্ছি না?
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন