অর্থনৈতিক রূপান্তর প্রক্রিয়া কীভাবে হবে?

 


প্রাচীন, নবীন কিংবা ভবিষ্যকালীন দর্শনতত্ত্ব, ধর্মতত্ব কিংবা সমাজতত্ত্ব তা যেন ব্যক্তি স্বাধীনতাকে সীমাবদ্ধ না করে, সমালোচনামূলক চিন্তন-মননকে বাধাগ্রস্ত না করে, নিরপেক্ষ ও উন্মুক্ত মনে যেন বিশ্বকে অন্বেষণ করতে পারে এবং উদ্ভাবনী শক্তির নিরন্তর বিকাশ ঘটাতে পারে।

এইপ্রকার সার্বজনীন মনোভাব উৎপন্ন হবে শিক্ষাব্যবস্থা থেকে। শিক্ষাব্যবস্থা ত্রুটিমুক্ত হলে ব্যক্তিগত উপদেশ কিংবা সাংগঠনিক কর্মযজ্ঞের প্রয়োজনীয়তা থাকবে না। প্রশ্ন হচ্ছে এমনতর শিক্ষাব্যবস্থার সূচনা কীভাবে সম্ভব? শিক্ষা হস্তগত রয়েছে পুঁজির কাছে। অর্থবান না হলে শিক্ষাবান হওয়া যায় না। অর্থ সংকটের এই জাগতিক সমস্যার সুরাহা কীভাবে সম্ভব? অপরদিকে শিক্ষা হওয়া উচিত বাস্তবিক এবং প্রায়োগিক। এমন নয় যে, ডিগ্রি রয়েছে কিন্তু বাস্তবায়নের উপায় বা কাজ শেখা নেই, এমনকি যে থিয়োরি পড়া হয়েছে তা প্রয়োগ করা যাচ্ছে না। অর্থাৎ চলমান ব্যবস্থা দ্বারা যেটুকু রপ্ত হয়েছে তার প্রায়োগিক প্ল্যাটফর্ম নেই। যে শিক্ষার্থী যে বিভাগে যতখানি শিখতে চায় তার জন্য ততখানি শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ-গবেষণার ব্যবস্থাপনা থাকা উচিত। জাতি-ধর্ম-ভাষা-সংস্কৃতি-দলমত নির্বিশেষে রাষ্ট্রের সকল শিক্ষার্থীর শিক্ষণ-প্রশিক্ষণের বন্দোবস্ত সরকারী উদ্যোগে বিনা খরচে হওয়া উচিত। প্রতিটি শিক্ষার্থীকে কর্মোপযোগী করে গড়ে তোলা শিক্ষা ব্যবস্থার উদ্দেশ্য। শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ শেষে শিক্ষার্থীর কর্মসংস্থান সুনিশ্চিত থাকবে। যে কর্ম সম্পাদন করবে, তাতে যে বস্তু-পরিষেবা উৎপন্ন হবে তা রাষ্ট্র সকলের স্বার্থে ব্যবহার করবে। জীবিকার জন্য মানব সম্পদ এবং প্রাকৃতিক সম্পদ সহযোগে উৎপাদনশিল্পের নির্মাণ-বণ্টন সহ সামগ্রিক সামাজিক উন্নয়নের দায়িত্ব সরকার পালন করবে। সরকার পক্ষ ব্যক্তি মালিকানাধীন সংস্থাগুলোর সাথে চুক্তি করতে পারে। এ কাজে সরকার পক্ষের সাথে নাগরিক পক্ষ সহ বিরোধী দলের বিরোধ নয় বরং সহযোগী হতে হবে। অবশ্যই তা চলমান নীতি দ্বারা সম্ভব নয়। অস্থিরতা-অসহযোগিতা-মতবিরোধ উৎপন্ন করবে না এমন নীতির প্রণয়ন আবশ্যক হবে। নতুন অর্থনীতির প্রয়োগ পরবর্তী যে উদ্বৃত্ত মুনাফা উৎপন্ন হবে তা সরকার নেবে। এক্ষেত্রে সরকার যদি পরিবারকে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা করে সে অর্থও ঘুরেফিরে সরকারের কাছেই ফেরত আসবে। অর্থনীতির এই রূপান্তর প্রক্রিয়া কী হবে তা গুরুতর প্রশ্ন হলেও অসম্ভব নয়। আমরা এ বিষয়ে বিগত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন রাজ্যে বহু আলোচনা করেছি এবং সেসব আলোচনার ভিডিও একাধিক ইউটিউব চ্যানেলে উপস্থাপন করা হয়েছে। আপনারা যারা এই রচনাটি পড়ছেন তারা যেমন আমন্ত্রিত তেমনই পরিচিত অর্থনীতি বিশেষজ্ঞদের আমন্ত্রণ জানাতে পারেন। নতুন অর্থনীতি কী হবে সেইসকল পদক্ষেপগুলি পুস্তকে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। শুধুমাত্র অর্থের অভাবে প্রচার প্রক্রিয়া মন্থর গতিতে এগোচ্ছে। রাষ্ট্রের কাছে উভয় প্রকার সম্পদের বিপুল উপস্থিতির পরও কোথায় অসম্পূর্ণতা রয়েছে তা সুনির্দিষ্টকরণ এবং অনুসন্ধানের দায়িত্ব শুধুমাত্র সরকার পক্ষের না হয়ে নাগরিক পক্ষ নিক, বিরোধী পক্ষ নিক। তবে এক্ষেত্রে নাগরিক পক্ষকেই প্রাথমিক পদক্ষেপ নিতে হবে। সম্মিলিত নাগরিক শক্তিই মৌলিক শক্তি। সরকারের কাছে নীতি নির্ধারণের, পরিকল্পনার, বাস্তবায়নের জন্য সকল স্তরের বিভাগীয় টিম রয়েছে। ব্যবস্থার বদল না করেও চলমান সরকার নীতির বদল ঘটিয়ে ধাপে ধাপে কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারে। সরকারকে সকল আলোচনা, পরিকল্পনা, সিদ্ধান্ত মিডিয়ার সামনে তথা জনতার কাছে উন্মুক্ত রাখতে হবে। সরকার পক্ষ যদি ব্যর্থ হয়, উদাসীন হয় তবে নাগরিক পক্ষকে দায়িত্ব নিতে হবে। নাগরিক পক্ষকে সম্মিলিত হতে হবে। রাষ্ট্রীয় স্তরের রাজনৈতিক মঞ্চ নির্মাণ করতে হবে। সংগঠিত হতে হবে। এতে সকল বিরোধী পক্ষের সাথে অন্যান্য সামাজিক সংগঠনের যোগদানের বিষয়টিও উন্মুক্ত থাকতে হবে।

জরুরী মৌলিক প্রয়োজন সহ সকল প্রকার সামাজিক উন্নয়ন সরকারি উদ্যোগে নির্মাণ করা হবে। পরিকাঠামোগত উন্নয়ন ধাপে ধাপে চলবে। যেমন প্রতিটি পরিবারের জন্য আবাস, যাতায়াত, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, বিনোদন, পার্ক, স্টেডিয়াম, জিম ইত্যাদি।
***

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

রাষ্ট্র ব্যবস্থায় যে অধিকারগুলো জন্মগতভাবে থাকা জরুরী

কিউবার ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের কারণ কী?

ব্যবস্থাগত অসম্পূর্ণতা নাকি নেতৃত্বের ব্যর্থতা?