মধ্যযুগীয় এই সহিংস মাধ্যম কি প্রকৃত গণ স্বাধীনতার, সমৃদ্ধির, সুরক্ষার একমাত্র উপায়? নাকি মনুষ্য সমাজের কাছে প্রকৃত পথের সন্ধান এখনও অজানা?


 

ধ্বংসাত্মক উপায়ে একাধিক রাষ্ট্রে পরিবর্তন হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু পুনরায় একই ঘটনার পুনরাবৃত্তিও ঘটছে। মনুষ্য সম্পদ সহ প্রাকৃতিক সম্পদ বিনষ্ট হচ্ছে। তফাৎ থাকছে শুধু দলের, দলপতির। মধ্যযুগীয় এই সহিংস মাধ্যম কি প্রকৃত গণ স্বাধীনতার, সমৃদ্ধির, সুরক্ষার একমাত্র উপায়? নাকি মনুষ্য সমাজের কাছে প্রকৃত পথের সন্ধান এখনও অজানা?

স্বাধীনতা প্রাপ্তির পরও নিজ রাষ্ট্রের প্রাকৃতিক সম্পদ এবং মানব সম্পদের উপর ভিত্তি করে “বিকল্প অর্থনীতি” নির্মাণ সম্ভব হয়নি। প্রচেষ্টা যে হয়নি তা বলা যায় না। আধ্যাত্মিক সংগঠনের মাধ্যমে যেমন হয়েছে তেমনই রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক বিকল্পের মাধ্যমেও হয়েছে। উভয় প্রচেষ্টার ক্ষেত্রেই পুঁজির হাত ছেঁড়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি। মূল সমস্যা এখানেই। অর্থনীতিই মূল চালিকাশক্তি। পরিবারের অর্থনীতি দুর্বল হলে যেমন ধারদেনার জালে পড়তে হয় রাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও তাই। অর্থশক্তির সাম্রাজ্যবাদ। হয় আপনি অর্থশক্তির কাছে হাত পাতবেন নাহয় অর্থশক্তি আপনার দুর্বলতা বুঝে উদ্ধারের বন্ধুত্ব পাততে আসবে। অধিক মুনাফা তৈরিই পুঁজির মূল উদ্দেশ্য, বৈশিষ্ট্য। যা শোষণ-শাসন-বঞ্চনা ব্যতীত সম্ভব নয়। পুঁজিচালিত ব্যবস্থায় যে সরকারই আসীন হোক না কেন রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক মুক্তির উপায় সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে অপরকে একতরফা দোষারোপ সঠিক সমীক্ষা নয়।
যতদিন পর্যন্ত বিকল্প অর্থনীতির দ্বারা আত্মনির্ভর কাঠামো চলমান না হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া, বিপ্লব-প্রতিবিপ্লব, হিংসা-হত্যা-প্রতিহিংসা চলমান থাকবে। সহিংস বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ, লুণ্ঠন, আন্দোলন ঠেকাতে কিংবা আত্মরক্ষার্থে বাধ্য হয়ে প্রশাসনের বন্দুকের ব্যবহার, নেতা-মন্ত্রীদের পিটিয়ে হত্যা ইত্যাদি যে সমাধান নয় তা সকলেই জানে। নেতিবাচক মাধ্যম ব্যবহার করে সরকার পরিবর্তন করে পুনরায় যারা ক্ষমতাসীন হবেন কিছুকাল পর তাদের সাথেও একই দুরবস্থার পুনরাবৃত্তি ঘটবে। ইতিহাস তো এই উদাহরণই দেখাচ্ছে। যারা ভেবেছিলেন আমরা সরকারে আসীন হলে সমাধান করে দেব শেষ পর্যন্ত দেখা গিয়েছে নিজ পরিবার-পরিজনের পরিবর্তন ব্যতীত অধিক কিছু করবার উপায় থাকে না। এ যাবতকালের ইতিহাস হিংসাত্মক-ধ্বংসাত্মক ইতিহাস। ফলে রাষ্ট্রব্যবস্থা পরিবর্তনের বিকল্প উদাহরণ কিংবা ফর্মুলা আমাদের কাছে নেই। উপায় হচ্ছে শান্তিপূর্ণ বিকল্প প্রক্রিয়া। প্রশ্ন হচ্ছে কীভাবে? চলমান সময়ে সমাজের মৌলিক দায়িত্ব এখানেই। এই দায়িত্ব পালনে নাগরিক সমাজ জাতি, ধর্ম, ভাষা, সংস্কৃতি, দলমত নির্বিশেষে যত দ্রুত সম্মিলিত হবে বিশ্বে শান্তি-সমৃদ্ধির উপায়ের তত দ্রুত সৃজন সিদ্ধান্ত সম্ভব হবে। বহু সংস্কৃতির দেশ ভারতের ক্ষেত্রে বলতে পারি বিকল্প দেশীয় অর্থনীতির সৃজন ব্যতীত পরনির্ভরতার দ্বারা সাফল্য কীভাবে সম্ভব এ বিষয়ে চাইলে কেউ আলোকপাত করতে পারেন। কারণ ভারত রাষ্ট্রের মতন উদাহরণ অন্য কোনও রাষ্ট্রের কাছে নেই। ফলে ভারতের মডেল ভারতকেই তৈরি করতে হবে। যদিও তা ভিন্ন রাষ্ট্রের কাছেও প্রযোজ্য। পূর্বের অসফল ফর্মুলা বর্তমানকালে প্রয়োগ করলে পুনরায় পূর্বের ফলাফলই আসবে।
সংক্ষেপে এই।
আলোচনায় মতামতে সকলে স্বাগত।
***

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

রাষ্ট্র ব্যবস্থায় যে অধিকারগুলো জন্মগতভাবে থাকা জরুরী

কিউবার ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের কারণ কী?

ব্যবস্থাগত অসম্পূর্ণতা নাকি নেতৃত্বের ব্যর্থতা?