প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণের উপায় কী?
পশু জীবনের সাথে মনুষ্য জীবনের মূল পার্থক্য এই যে সকল পশুপ্রাণীর জীবনযাপন আদিতে যেমন ছিল বর্তমানেও একইপ্রকার রয়েছে। মনুষ্য জাতি সভ্যতা গড়েছে, সমাজব্যবস্থা গড়েছে, সংস্কৃতি গড়েছে, সুখসুবিধা-সুরক্ষার উদ্দেশ্যে গবেষণার পরিসর তৈরি করেছে এবং নিরন্তর প্রচেষ্টা করে চলেছে। মানুষ স্বয়ং যেমন সুখী হতে চায় তেমনই অপরকে সুখী দেখতে চায়, এমনকি প্রকৃতি-পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার তাগিদেও সে নিরন্তর প্রচেষ্টারত। সুখের প্রাপ্তি এবং দুঃখের নিরসনই হচ্ছে মনুষ্য চেতনার অভিপ্রায়। এই সিদ্ধান্তটিকে নিজ জীবনের সাথে যাচাই করে নিতে পারেন। নেতিবাচক পরিণতির মূলে রয়েছে বাধ্যবাধকতা এবং বাহ্যিক অবস্থা-ব্যবস্থা-পরিস্থিতি। মনুষ্য-ব্যবস্থায় সর্বাধিক প্রভাবশালী বিষয় হচ্ছে অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক অধিকার। এ পর্যন্ত মানুষ যে উপায়ে ব্যবস্থা নির্মাণের প্রয়াস করেছে (সশস্ত্র কিংবা গণতান্ত্রিক) সেখানে উদ্দেশ্য এটিই ছিল, “আমাদের দল সরকারে ক্ষমতাসীন হলে সমস্যার নিস্পত্তি করে দেবে”। বাস্তবতা বলছে দল বদলেছে, নেতৃত্ব বদলেছে কিন্তু গড়পড়তা অর্থনৈতিক ক্ষমতা এবং রাজনৈতিক অধিকারের অনুপাতে পরিবর্তন সাধিত হয়নি। গুটিকয়েক বিত্তশালী এবং সিংহভাগ দরিদ্র। মৌলিক সমস্যা এখানেই। পরিবর্তন কোন মাধ্যমে কী প্রক্রিয়ায় হলে কিংবা কী-প্রকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হলে জাতি, ধর্ম, ভাষা, সংস্কৃতি, দলমত নির্বিশেষে প্রতিটি পরিবারের প্রতিটি সদস্য গণতন্ত্রের বাস্তবিক সমানাধিকারের সুখসুবিধা-স্বাধীনতা-স্বতন্ত্রতা উপভোগ করবে এইটিই মূল প্রশ্ন।
সশস্ত্র কিংবা গণতান্ত্রিক যে-কোনও উপায়ে ক্ষমতাসীন হওয়া কঠিন নয়। ইতিপূর্বে উভয় প্রচেষ্টা হয়েছে এবং কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য যে পূরণ হয়নি সেকথা সকলের জানা এবং তা পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে। সরকার প্রতিষ্ঠার পর কোন প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি স্তব্ধ হবে এবং কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য পূরণে রাষ্ট্র ক্রমাগত উন্নয়নমুখী হবে এই প্রসঙ্গই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠা জরুরী। অর্থাৎ সরকার পক্ষ, রাজনৈতিক দল, সমাজব্যবস্থা বিষয়ে কর্মরত ব্যক্তি কিংবা সংগঠনের কাছে সাধারণের প্রশ্ন হওয়া উচত, “আপনারা কেন ব্যর্থ? কিংবা ক্ষমতায় আসীন হলে সমাধান কীভাবে করবেন”? এইভাবে ক্রমাগত প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া এবং সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া। এক্ষেত্রে কোনও দলের কিংবা ব্যক্তির অসহযোগিতার প্রশ্ন থাকবার কথা নয়। বিষয়টি সামাজিক।
বিকল্প মাধ্যম বা রূপান্তর প্রক্রিয়া কী হবে এ নিয়ে ভারতে বহু সংগঠন কার্যরত রয়েছে। এ বিষয়ে ULM যে নতুন ব্যবস্থার প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেছে সেটিকে বহু ব্যক্তি এবং সংগঠনের কাছে সর্বাধিক যথার্থ বলে বিবেচিত হয়েছে। আপনারাও অপরের মুখে শুনে নয় স্বয়ং অধ্যয়ন-আলোচনা-সমীক্ষা করে নিতে পারেন।
এক্ষেত্রে দার্শনিক প্রেমজীৎ সিরোহী রচিত ‘সম্পূর্ণ জীবন দর্শন - সুখী জীবনের অজ্ঞাত সূত্র’ এবং 'সম্পূর্ণ সমাধান - নতুন সামাজিক রাজনৈতিক অর্থব্যবস্থা' পুস্তক দুটি অধ্যয়ন করুন। পিডিএফ কপি বিনামূল্যে উপলব্ধ রয়েছে এবং কাগজের পুস্তক অ্যামাজন, ফ্লিপকার্ট সহ অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে রয়েছে।
নতুন ব্যবস্থার প্রস্তাবনায় মোট ৬’টি নতুন মডেল রয়েছে।
• নতুন অর্থনৈতিক মডেল
• নতুন রাজনৈতিক মডেল
• নতুন শিক্ষা ও কর্মসংস্থান মডেল
• নতুন জীবনশৈলী ও সাংস্কৃতিক মডেল
• নতুন পারিবারিক মডেল
• নতুন দর্শনের মডেল
ইতিমধ্যে উক্ত পুস্তকদ্বয় হিন্দি, ইংরেজি, রাশিয়ান, বাংলা, পাঞ্জাবী, গুজরাতি, মারাঠি ভাষায় উপলব্ধ হয়ে গিয়েছে। অন্যান্য ভাষাতেও অনুবাদের কাজ চলছে। আলোচনার জন্য অনলাইন অফলাইন মুক্তমঞ্চ রয়েছে। আলোচনা-পর্যালোচনার পর যদি এই প্রস্তাব অব্যবহারিক বলে প্রমাণিত হয় তবে সংস্থা প্রচার স্তব্ধ করে দেবে। মুক্তমঞ্চে যদি ভিন্ন কোনও থিয়োরি সঠিক বলে প্রমাণিত হবে সেটিকে সকলে গ্রহণ করে নেবে। ইতিমধ্যে বহু ব্যক্তি ও সংগঠন আলোচনায় যুক্ত হয়েছেন, নিয়মিত যুক্ত হয়ে চলেছেন। ULM Bangla এবং ULM Hindi সহ অন্যান্য ভাষার ইউটিউব চ্যানেলে সেইসকল আলোচনার অডিও-ভিডিও উপস্থাপন করা হয়েছে।
পুস্তকের লিংক কমেন্ট বক্সে রয়েছে।+
আলোচনায় সকলে স্বাগত।
যোগাযোগ- 9830925502
***
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন