বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলংকার সাম্প্রতিক সমস্যার কারণ-নিবারণের উপায় কোন পথে সম্ভব?

 


অর্থনৈতিক অধিকার এবং রাজনৈতিক ক্ষমতা নির্দিষ্ট দলের কিংবা গোষ্ঠীর হাতে নয় সরাসরি জনতার হাতে নিহিত থাকবে, এবং শিশু থেকে প্রবীণ প্রতিটি নাগরিকের ব্যক্তিগত জীবনের সুখসুবিধা-সুরক্ষা সুনিশ্চিত থাকবে এমন রাষ্ট্রব্যবস্থার নির্মাণ জরুরী। সমস্যা হচ্ছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রবিধান তৈরি হলেও এইপ্রকার স্থায়ী নিবারণের উদ্দেশ্যে পরিকল্পনা হয়নি। ফলে প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন উভয় দিক দিয়ে বিধান তথা ব্যবস্থাগুলিকে অসম্পূর্ণ বলতে দ্বিধা নেই। প্রান্তিক জনতার সামগ্রিক মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা, সমস্যা মোকাবিলার পরিকল্পনায় জনতা সহ সকল গোষ্ঠীর সাথে সম্মিলিত আলোচনায় সামিল করা (তথ্য, আলোচনা, সিদ্ধান্ত উন্মুক্ত রাখা) ইত্যাদিতে সরকার পক্ষ এবং নাগরিক পক্ষের সরাসরি আদান প্রদানে স্বচ্ছতা না হলে কোনও না কোনও সময়কালে বিক্ষোভ হওয়া স্বাভাবিক। এইপ্রকার বিক্ষোভ ধ্বংসই ঘটায়, গঠনমূলক উন্নয়ন নয়। ফলে অদূরে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। উদাহরণস্বরূপ বাংলাদেশ প্রসঙ্গে একটি চলতি কথা সমাজ মাধ্যমে ঘুরেও বেড়াচ্ছে যে পূর্বে বাংলাদেশ বারকয়েক স্বাধীনতা লাভ করছে, পুনরায় স্বাধীনতার প্রস্তুতি চলছে। এতে বিরোধী পক্ষ সহ শত্রু পক্ষ ইন্ধন জুগিয়ে নেতিবাচক পরিস্থিতি তৈরির সুযোগ নেবে এটিই স্বাভাবিক।
রাষ্ট্রের প্রতিটি পরিবারের ব্যক্তিজীবনের সুখসুবিধা-সুরক্ষার পাশাপাশি সামাজিক আবশ্যকতা পূরণের নিরিখে অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থার নির্মাণ আবশ্যক। কোনোপ্রকার গোপনীয়তা ব্যতীত এই সিদ্ধান্তে সামগ্রিক জনতাকে সামিল থাকাটা জরুরী। প্রতিটি ব্যক্তির এবং প্রতিটি গোষ্ঠীর স্বার্থ পূরণ হবে এমন ব্যবস্থাপনা নির্মাণ হলে বিরোধিতার সম্ভাবনা থাকবে না। যেমন ধর্মীয় বিশ্বাস নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। বিশ্বাস পালনে সকল নাগরিক স্বতন্ত্র থাকবে। অপরের ব্যক্তিজীবনে হস্তক্ষেপ শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে পরিগণিত হবে। ইত্যাদি। সকল নাগরিকের শিক্ষা, জীবিকা, সুখসুবিধা, সুরক্ষার বিষয়ে সামাজিক উন্নয়ন মূল আধার বলে পরিগণিত হতে হবে।
রাষ্ট্রের আভ্যন্তরীণ একতা শক্তিশালী থাকা অন্ত্যন্ত জরুরী। অর্থনীতি ভেঙ্গে পড়লে শক্তিশালী রাষ্ট্রের উপর আত্মসমর্পণ ব্যতীত উদ্ধারের পথ খোলা থাকে না। তখন ব্যাখ্যাগুলি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব বা চক্রান্ত হয়েছে বলে প্রচারিত হয়। ইতিহাস তাই বলছে।
বিশ্বের যে-কোনও প্রতিবেশী দেশ প্রসঙ্গে বলতে হয় ধর্মকে ব্যবহার করে, দুর্বলতাকে মাধ্যম করে কিংবা অন্য কোনো পদ্ধতি অবলম্বন করে সাম্রাজ্যবাদী মনোভাব মধ্যযুগীয় কায়দা। একই পুনরাবৃত্তি পূর্বের ফলাফলই প্রদান করবে। সকল দেশ একে অপরের পরিপূরক হয়ে উঠুক, হয়ে উঠতে সহায়তা করুক।
***
মতামতে স্বাগত।
***

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

রাষ্ট্র ব্যবস্থায় যে অধিকারগুলো জন্মগতভাবে থাকা জরুরী

কিউবার ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের কারণ কী?

ব্যবস্থাগত অসম্পূর্ণতা নাকি নেতৃত্বের ব্যর্থতা?