সশস্ত্র উপায়ে বা নিরস্র উপায়ে রাষ্ট্রের পতন, অতঃপর..?
নাগরিক সমাজ রাষ্ট্র-ব্যবস্থা নিয়ে এখনও পর্যন্ত নানা ভাবনায় বিভক্ত হয়ে রয়েছে। সমাজের কোনো অংশ চলমান সরকারের উপর আশা রাখছে। কোনো অংশ আশাহত হয়ে অভিযোগ-আন্দোলন করছে। আশাপক্ষদের ভাবনা হচ্ছে সরকার নিশ্চয়ই কথা রাখবে, আরও সময় দেওয়া উচিত ইত্যাদি। অপরদিকে আশাহতপক্ষের অভিযোগ, সরকার যে উদ্দেশ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তাতে ব্যর্থ হয়েছে। সরকারের একই অবস্থা চলমান থাকলে ফলাফল যা আসছে তাই আসবে।
অপর একটি অংশ নানাপ্রকার ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা-সমীক্ষাও করছে কিন্তু কেমন ব্যবস্থা সকলের কল্যাণ করবে, মৌলিক সমাধানে কার্যকরী হবে সেই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারছে না।
একটি সংখ্যা বিরোধী দলগুলোতে আস্থা রাখছে। কিন্তু দ্বিধা-দ্বন্দ্ব সর্বক্ষণ ছায়ার মতন সেঁটেই থাকছে।
একটি সংখ্যা কোনোকিছুতে ভরসা না রেখে, না ভেবে, না জড়িয়ে ব্যক্তিগত-পারিবারিক স্বার্থসিদ্ধির চিরকালীন লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। তারা দিনরাত খাটছে, ইএমআই মেটাচ্ছে। তাদের কারোর উপরই ভরসা নেই। তাদের সিদ্ধান্ত, যে যায় লংকায় সেই হয়ে যায় রাবণ… ইত্যাদি। এরই মধ্যে একটি অংশ নতুন জেনারেশনকে উস্কে দিয়ে নানা দেশে সরকার ফেলেও দিচ্ছে। যেন একটা নব্য ট্র্যাডিশন তৈরি হচ্ছে। সরকার বদলাচ্ছে, নতুন সরকার এসেও যে ব্যবস্থাপনার সুরাহা করতে পারছে তাও দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না। অর্থাৎ পাল্টে দিলেও সেই একই পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
দেশে হাজার হাজার রাজনৈতিক দল রয়েছে। সকল দলেরই এক সিদ্ধান্ত আমাদের দল ক্ষমতা পেলে সমস্যা থাকবে না। আদর্শবান নেতৃত্ব, বিকল্প দলীয় সরকার সবই পরীক্ষিত হয়ে গিয়েছে। অপরদিকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পরিবর্তে ধর্মীয় বিধানের ভিত্তিতে রাষ্ট্র নির্মাণ সর্বোত্তম সর্বোত্তম এমনতর সিদ্ধান্তও শক্তিশালী হচ্ছে। যদিও ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনার প্র্যাকটিস পূর্বে হয়ে গিয়েছে, তা পুনরায় ফিরিয়ে আনলে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল সফলতা পাবে কিনা এই প্রশ্ন তো থাকছেই। তাহলে উপায় কিছুই নেই? বিশ্বের সব দেশে সবকিছু তো নেতিবাচক নয়। যখন পুরাতনকে মেরামত করেও কাজে দিচ্ছে না তখন নতুন নিয়ে আরও ভাবনা অধিক সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরী। কিংবা আরও তুলনামূলক সমীক্ষা-সিদ্ধান্ত জরুরী। মূল যে কাজটি অবশিষ্ট রয়েছে তা হচ্ছে ‘ব্যবস্থা’। আমরা এ বিষয়ে বারংবার বলে আসছি নেতৃত্ব কিংবা দল সমস্যা নয়। মূল কেন্দ্র হচ্ছে ব্যবস্থা। ব্যবস্থা কেমন তা সুনির্দিষ্ট করা সহজ নয় বলে অনেকে এই বিষয় এড়িয়ে চলেন। কথা হচ্ছে ভিত (ব্যবস্থা) যদি পোক্ত না হয় তবে কাঠামো (নানা রাজনৈতিক দল, নেতৃত্ব ইত্যাদি) টেকসই হবে কীভাবে। ব্যবস্থায় অর্থনীতি, রাজনীতি, শিক্ষানীতি, কর্মসংস্থাননীতি, সংস্কৃতি, পারিবারিক ব্যবস্থা, জীবন দর্শনের সিদ্ধান্ত ইত্যাদির মেলবন্ধন জড়িত। নীতিগত সিদ্ধান্তই মূল বিষয়। কী প্রকার আর্থিক নীতি প্রতিষ্ঠিত হলে দুর্নীতির প্রয়োজন পড়বে না। যেমন, প্রতিটি শিক্ষার্থীর শিক্ষা ও জীবিকা সুনিশ্চিত থাকলে, প্রতিটি পরিবারের সুখসুবিধা-স্বাস্থ্য-সুরক্ষার ব্যবস্থাপনা সুনিশ্চিত থাকলে দুর্নীতিও ধাপে ধাপে নির্মূল হতে থাকবে। অর্থাৎ পরিবারের প্রয়োজনীয়তা পূরণের সুনিশ্চিত বন্দোবস্ত থাকলে সম্পদ সঞ্চয়ের প্রাসঙ্গিকতা কমে আসবে। একইসাথে মুদ্রানীতিও এমন থাকবে চাইলেও মুদ্রা নিজ প্রয়োজন ব্যতীত অপরের কাছে ব্যক্তিগতভাবে প্রেরণ করা যাবে না। যেন অর্থ প্রেরণের প্রয়োজনও না পড়ে ইত্যাদি। অর্থাৎ ব্যবস্থা শিশু, যুব, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী, অসুস্থ্য সহ সকলের প্রয়োজন সরাসরি পূরণ করবে। কাউকেই অপরের উপর আর্থিক নির্ভরতার প্রয়োজন পড়বে না ইত্যাদি নতুন নতুন নীতির প্রণয়ন করা। এইপ্রকার রাষ্ট্র-ব্যবস্থায় রাজনীতি, শিক্ষানীতি, কর্মসংস্থাননীতি সহ সকল শাখায় নতুন নতুন নীতির সৃজন জরুরী।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন