একাধিক স্ত্রী-পুরুষের সাথে শারীরিক সম্মন্ধ কি অবৈধ?
একাধিক স্ত্রী-পুরুষের সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা আইনিভাবে বৈধ কিনা, বিষয়টির নীতিগত ব্যাখ্যা কী এ প্রসঙ্গে সমাজের কাছে একদিকে যেমন অস্পষ্টতা রয়েছে তেমনই বহুল আলোচিত এই বিষয়টি নিয়ে নানা বিতর্কও ভাসমান রয়েছে। একাধিক ব্যক্তির সাথে শারীরিক সম্পর্ক সাধারণত এখন আর এভাবে চারিত্রিক অবনতি হিসেবে দেখা হয় না। এর মূল্যায়ন নির্ভর করে ব্যক্তিগত, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও সামাজিক রীতিনীতির উপর। কিছু সংস্কৃতিতে বহুবিবাহ স্বীকৃত হলেও, অধিকাংশ সমাজে এটিকে নৈতিকভাবে দোষের বা চারিত্রিকভাবে মন্দ বলে মনে করা হয়।
ব্যক্তিগত ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ
- কিছু ব্যক্তি মনে করেন যৌন সম্পর্ক স্থাপন একটি ব্যক্তিগত পছন্দ, যা চারিত্রিক অবনতির সঙ্গে যুক্ত নয়।
- সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন হতে পারে। কিছু ধর্মীয় সংস্কৃতিতে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করা বৈধ। আবার অনেক সমাজে বিবাহ বহির্ভূত বা একাধিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে চারিত্রিক অবনতির কথা বলা হয়।
চারিত্রিক মূল্যায়নের কারণ
- অনেক ধর্মীয় ও নৈতিক বিশ্বাস অনুসারে যৌনতা কেবলমাত্র বৈবাহিক সম্মন্ধের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত।
- বিভিন্ন সংস্কৃতির নিজস্ব নৈতিকতা ও মূল্যবোধ থাকে। একটি নির্দিষ্ট সংস্কৃতিতে যা গ্রহণীয়, অন্য সংস্কৃতিতে তা অগ্রহণীয় হতে পারে।
- একজন ব্যক্তির নিজস্ব নৈতিকতা ও মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে তিনি নিজের বা অন্যের আচরণকে বিচার করতে পারেন। এতে বৈপরীত্যও থাকতে পারে। ব্যক্তি স্বাধীনতার দিক দিয়ে দেখলেযার যাদের সাথে কিংবা যার সাথে ম্যাচিং হবে কিংবা পরস্পর পরস্পরের প্রতি আগ্রহী হবে তারা সম্পর্ক গড়বে। শারীরিক-মানসিক ইচ্ছে দমিয়ে রাখা যায় না। ফলে অনেকে গোপনে মিলিত হতে বাধ্য হচ্ছে। অনেকে স্ব-মৈথুনের আশ্রয় নিচ্ছে। একে সমাজের একটি অংশ ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বলে থাকে, আবার অনেকে বিপরীত মনোভাব পোষণ করে। যদিও এতে কারোর সমস্যা বা অসুবিধা হবার কথা নয়। প্রতিটি মানুষ তার পছন্দ অনুযায়ী বাঁচবে এ অধিকারের প্রতিও সংশয় থাকবার কথা নয়।
- সমাজের একটি বিশেষ অংশ নির্দিষ্ট আচরণকে ভালো-মন্দ কিংবা নৈতিক-অনৈতিক বলে মনে করে এবং সেই অনুযায়ী অন্যদের কাছেও একই ধরনের সামাজিক প্রত্যাশা থাকে।
শেষ কথাঃ
একাধিক স্ত্রী-পুরুষের সাথে শারীরিক সম্পর্ক রাখা তার চারিত্রিক অবনতি কিনা তা নির্ভর করে ব্যক্তি, সংস্কৃতি, ধর্ম এবং সমাজের নিজস্ব প্রত্যাশার উপর। এটি সার্বজনীনভাবে নির্ধারিত বিষয় নয়।
নারীপুরুষ নির্বিশেষে সকলের শিক্ষা, জীবিকা, সুখসুবিধা, সুরক্ষার মত মৌলিক অধিকারের সুনিশ্চিতকরণ জরুরী। সমাজব্যবস্থা যেখানে সকলের জীবন-জীবিকার মৌলিক সুরক্ষা প্রদানেই ব্যর্থ সেখানে ব্যক্তিগত সম্মন্ধের ক্ষেত্রেও যে অনধিকার প্রবেশ, শোষণ-শাসন ও নিরাপত্তাহীনতার অভাব পরিলক্ষিত হবে সেটিই স্বাভাবিক। নারী-পুরুষ-তৃতীয় সহ সকলের অর্থনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা-স্বতন্ত্রতা থাকা জরুরী। অর্থাৎ প্রতিটি নাগরিকের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা সুরক্ষিত করাই সমাজের প্রকৃত উদ্যোগ হওয়া উচিত। যেন কাউকেই অপরের উপর অর্থনৈতিক দিক দিয়ে নির্ভরশীল না থাকতে হয়। উভয় সঙ্গী অর্থনৈতিক দিক দিয়ে আত্মনির্ভর হলে বিচ্ছেদের ভয়, শোষিত হবার ভয় কিংবা শোষণ করবার গোপন অভিপ্রায় থাকবে না। উভয়ই উভয়ের কাছে অভিপ্রায়গুলো খোলাখুলি আলোচনা করতে সমর্থ হবে, ফলে যে উদ্দেশ্যে সম্বন্ধ স্থাপন করতে চায় সেই উদ্দেশ্য প্রাপ্ত করতে সমর্থ হবে। একেকটি সম্পর্কে একেক প্রকার সুখ রয়েছে, বহু মানুষ সেইভাবে জীবনকে উপভোগ করতে চায়। দেখতে হবে কাউকে যেন বাধ্য হতে না হয়। সম্বন্ধ হোক পরস্পরের প্রতি প্রেমের আগ্রহে, পরস্পরের সম্মতিতে। প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ নিজেদের সঙ্গী কাকে নির্বাচন করবে, কখন নির্বাচন করবে, কীভাবে সম্পর্ক করবে, কতজনের সাথে গড়বে, কতদিন সম্পর্ক রাখবে সেসব নিজেরা বুঝে নেবে। আপনিও আত্মনির্ভরশীল তথা স্বাধীন-স্বতন্ত্র হলে নিজেই বুঝে নিতে চাইবেন এবং বুঝে নিতে সক্ষম হবেন। বাস্তবে কতজন চাইবে অপরজন আপনার ব্যক্তি স্বাধীনতাকে কন্ট্রোল করুক? বিত্তশালী মানুষের ক্ষেত্রে ব্যক্তি স্বাধীনতার উপদেশ আদৌ কাজে আসে? গরীবের শূন্য ঝুলি শুধুমাত্র উপদেশ গ্রহণের জন্যই কি বরাদ্দ থাকবে?
মতামতে, প্রশ্নে সকলে স্বাগত।
***


মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন