ঋত্বিক ঘটকঃ এক জলন্ত অগ্নিকুণ্ড, একটি উন্মুক্ত পর্যালোচনা

 


কমিউনিস্ট পার্টি এবং বামপন্থীদের প্রতি ঋত্বিক ঘটকের ক্ষোভের কারণ কী ছিল?


ঋত্বিক ঘটকের বামপন্থীদের প্রতি পর্যালোচনা ছিল মিশ্র ও সমালোচনামূলক, যেখানে তিনি মার্কসবাদী আদর্শে বিশ্বাস রাখলেও কমিউনিস্ট পার্টির সাংস্কৃতিক নীতি ও মতাদর্শিক বিভাজন নিয়ে গভীরভাবে অসন্তুষ্ট ছিলেন এবং এর বাস্তবায়নে ঘাটতি দেখেছিলেন। তিনি মনে করতেন, স্বাধীনতার পরেও ঔপনিবেশিক শাসনের জাল কাটেনি এবং পার্টির উচিত ছিল জনগণের প্রকৃত পরিবর্তনকে তুলে ধরা, যা তিনি তাঁর সিনেমায় দেখিয়েছেন।


• মার্কসবাদী আদর্শের প্রতি বিশ্বাস:
ঘটক ছিলেন একজন দৃঢ় মার্কসবাদী, যিনি ঔপনিবেশিক শাসনের অবসানকে একটি 'মহা বিশ্বাসঘাতকতা' বলে মনে করতেন এবং ভারতের স্বাধীনতার স্বপ্নকে পূর্ণরূপে বাস্তবায়িত হয়নি বলে বিশ্বাস করতেন।


• সাংস্কৃতিক নীতি নিয়ে অসন্তোষ:
তিনি কমিউনিস্ট পার্টির সাংস্কৃতিক কার্যক্রম নিয়ে গভীরভাবে সমালোচনামুখর ছিলেন। তিনি মনে করতেন, পার্টির সংস্কৃতির বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট নীতিমালা ছিল না এবং সাংস্কৃতিক কর্মীদের ভূমিকা নিয়ে পার্টির মধ্যে একটি দ্বন্দ্ব ছিল। তিনি বিশ্বাস করতেন, একজন শিল্পী তার শিল্পের মাধ্যমেই মানুষের সেবা করেন, শারীরিক সংগঠনে তার ভূমিকা গৌণ হলেও শৈল্পিক কাজ হাজার গুণ বেশি শক্তিশালী। কিন্তু পার্টির দৃষ্টিভঙ্গিতে সংস্কৃতিকে স্রেফ "টাকা উপার্জনের যন্ত্র" বা জনসভা-সম্মেলনে ভিড় (জনগণ নয়, ভিড়) ধরে রাখার মাধ্যম হিসেবে দেখা হতো।


• জনসংযোগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার:
ঋত্বিক ঘটকের কমিউনিস্ট পার্টির উপর ক্ষোভের প্রধান কারণ ছিল পার্টি কর্তৃক তাঁর কাজকে নিজেদের 'জনসংযোগ'-এর জন্য ব্যবহার করার চেষ্টা, এবং একই সাথে পার্টির 'সাংস্কৃতিক নীতি'র প্রতি তাঁর সমালোচনা। তিনি মনে করতেন, পার্টি তাঁদের নিজেদের প্রচারের জন্য এবং সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য শিল্পকে একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিল। তাঁর ১৯৫৪ সালের 'অন দ্য কালচারাল ফ্রন্ট' শীর্ষক একটি থিসিস-এ তিনি এই বিষয়গুলি নিয়ে গভীর সমালোচনা করেছিলেন।
ঋত্বিক ঘটক মনে করতেন যে কমিউনিস্ট পার্টি তাঁর মতো শিল্পীদের কাজের মাধ্যমে নিজেদের জনসম্পর্ক বাড়ানোর চেষ্টা করত। তিনি এটিকে তাঁর শিল্পকে শুধুমাত্র একটি প্রচারমূলক কাজে ব্যবহার করার প্রচেষ্টা হিসাবে দেখতেন।


• শিল্পীর ভূমিকাকে অবমূল্যায়ন:
পার্টি শিল্পীদের কাজকে মূলত প্রচারমূলক এবং অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে দেখত। কিন্তু ঘটকের দৃঢ় বিশ্বাস ছিল যে, একজন শিল্পীর প্রধান কাজ হল তার শিল্পের মাধ্যমেই পার্টি এবং মানুষের সেবা করা। তিনি মনে করতেন, শারীরিক জমায়েতের চেয়ে শিল্পের মাধ্যমে চেতনা তৈরি করা অনেক বেশি শক্তিশালী।


• শিল্পীর স্বাধীনতা ও সম্মান:
ঘটক মনে করতেন, দলের উচিত শিল্পীদের প্রতি যথাযথ মনোযোগ দেওয়া এবং তাদের সৃজনশীল কাজে হস্তক্ষেপ না করা। তিনি দলের এই মনোভাবের তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন।


• পার্টির অভ্যন্তরীণ বিভাজন:
১৯৫০-এর দশকে পার্টির অভ্যন্তরীণ মতাদর্শিক বিভাজন ঘটককে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। তেলেঙ্গানা আন্দোলন শেষ হওয়ার পর পার্টির নতুন লাইনের পরিবর্তন ঘটককে দ্বিধান্বিত করে তোলে এবং পার্টির সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিন্ন হয়।


• শিল্প ও রাজনীতির মেলবন্ধন:
ঘটক বিশ্বাস করতেন শিল্পকে সত্যবাদী হতে হবে এবং শিল্পীর নিজস্ব দৃষ্টি থাকা জরুরি। তিনি তাঁর চলচ্চিত্রে রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনকে তুলে ধরতে চেয়েছিলেন, বিশেষত গ্রামীণ প্রেক্ষাপটে।


• ব্যক্তিগত ও পার্টির কাজের পার্থক্য:
তিনি পার্টির সাংস্কৃতিক কর্মীদের বিশেষ কার্যকলাপ এবং একজন শিল্পীর নিজস্ব সত্তার মধ্যে পার্থক্য বোঝাতে চেয়েছিলেন। তিনি অনুভব করতেন, শিল্পীর কাজ শুধু পার্টির কাজের অংশ নয়।


• রাজনৈতিক সমালোচনা:
'আমার লেনিন' (Amar Lenin) চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি মহানগর বাম রাজনীতির তীব্র সমালোচনা করেন এবং তৃণমূল স্তরে পরিবর্তন আনার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন।


• ব্যক্তিগত আক্রমণ ও বহিষ্কার:
মতবিরোধের জেরে ১৯৫৪-৫৫ সাল নাগাদ ঋত্বিক ঘটককে কমিউনিস্ট পার্টি এবং ইন্ডিয়ান পিপলস থিয়েটার অ্যাসোসিয়েশন (IPTA) থেকে বহিষ্কার করা হয়। তার বিরুদ্ধে "ট্রটস্কাইট" সহ আরও প্রায় তেইশটি অভিযোগ আনা হয়েছিল, যা তার কাছে ভিত্তিহীন এবং অসম্মানজনক মনে হয়েছিল। তারপরও কম্যুনিস্ট পার্টি নিজেদের কর্মপন্থা সংশোধন না করে আজও ঋত্বিক ঘটককে নিজেদের কর্মী মনে করে প্রচারের কাজে ব্যবহার করে চলেছে।


পরিশেষে, ঘটক ছিলেন একজন বিপ্লবী শিল্পী যিনি মার্কসবাদের আদর্শে বিশ্বাসী হয়েও, সেই আদর্শের বাস্তবায়নে কমিউনিস্ট আন্দোলনের ঘাটতি ও সীমাবদ্ধতাগুলো নিজ কাজের মাধ্যমে তুলে ধরেছিলেন।
তাঁর ক্ষোভ ছিল দলের সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি, শিল্পকলার প্রতি যথাযথ সম্মানের অভাব এবং শিল্পীদের সৃজনশীল কাজকে ব্যবহারিক রাজনৈতিক প্রচারণার স্তরে নামিয়ে আনার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে।

***

"ভাবো, ভাবো, ভাবা প্র্যাকটিস করো"


"ভাবো, ভাবো, ভাবা প্র্যাকটিস করো" - এই বিখ্যাত উক্তিটি ঋত্বিক ঘটক তাঁর পরিচালিত শেষ পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র 'যুক্তি তক্কো আর গপ্পো' (১৯৭৪)-তে ব্যবহার করেছিলেন। 


সংলাপটি ছবিতে ঋত্বিক ঘটকের নিজের অভিনীত চরিত্র, চিন্তাশীল ও আদর্শবাদী লেখক নীলকণ্ঠ বাগচীর মুখে শোনা যায়।


প্রসঙ্গ: 

ছবিতে যখন উৎপল দত্ত অভিনীত চরিত্র (সত্যজিৎ বসু) নীলকণ্ঠকে বাংলাদেশ নিয়ে তাঁর ভাবনার কথা বলেন, তখন নীলকণ্ঠ বাগচী কিছুটা উপহাসের ছলে বা গভীর চিন্তার খোঁচা হিসেবে এই কথাটি বলেন। এটি মূলত দর্শকদের এবং সমাজের তথাকথিত সুশীল সমাজের প্রতি তাঁর একটি বার্তা ছিল, যাতে তারা প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে ভাবতে শেখে।


বাস্তব জীবন: 

যদিও এটি একটি চলচ্চিত্রের সংলাপ, ঋত্বিক ঘটক বাস্তব জীবনেও প্রায়শই এই কথাটি বলতেন বলে জানা যায়। এটি তাঁর দর্শনের একটি মূল অংশ ছিল, যেখানে তিনি মানুষকে প্রশ্ন করতে, বিশ্লেষণ করতে এবং নিজেদের চিন্তাভাবনা ব্যবহার করে সিদ্ধান্ত নিতে উৎসাহিত করতেন। 


এই উক্তিটির মাধ্যমে তিনি বাঙালির মানসিক জড়তাকে কাটিয়ে উঠে সমাজ ও জীবন সম্পর্কে সচেতনভাবে চিন্তা করার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছিলেন। 


প্রশ্ন জাগে, ৫০ বছর পরও বাঙালি জাতি এবং সমাজের তথাকথিত সুশীল সমাজ কি কিছুই ভেবে উঠতে পারেনি? কাজের গতিপথ ক্রমাগত উচ্চতর হবার কথা, পরিধি ব্যাপ্তি পাবার কথা। নাকি কাজের উদ্দেশ্যই নির্ধারণ করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি ? 


মতামত পেলে ভালো লাগবে।


মেসেজটি ভাল লাগলে লাইক কমেন্ট শেয়ার করতে ভুলবেন না।

***

#ঋত্বিক_ #ঋত্বিক_ঘটক #rittwikkumarghatak


***



"যুক্তি তক্কো আর গপ্পো" (১৯৭৪) ছবির বিষয়বস্তুর গুরুত্ব কী? 


ঋত্বিক ঘটক জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে নানা লেখনী, আলোচনা, ভিডিও ভেসে বেড়াচ্ছে। ফলে আরও কিছু কথা যেন না বললেই নয়। যা বলতে চাই তা তাঁর অন্তিম ছবিটি 50 বছর পূর্বেই বলে দিয়েছে। যা আজও সমান প্রাসঙ্গিক। সুতরাং এক্ষেত্রে আমি উপস্থাপক মাত্র। যারা ছবিটি দেখে উঠতে পারেননি তাদের কাছেও এই সংক্ষিপ্ত বিবরণটি কাজে দেবে।

ঋত্বিক পরিচালিত শেষ চলচ্চিত্র "যুক্তি তক্কো আর গপ্পো" (১৯৭৪), যা মূলত তাঁর আত্মজীবনীমূলক ছবি হিসেবেও বিবেচিত, তার বিষয়বস্তু অত্যন্ত গভীর এবং রাজনৈতিক। ছবিটি মূলত সেই সময়ের (সত্তর দশকের গোড়ার দিক) ভারত এবং বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক, রাজনৈতিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের এক সমালোচনামূলক চিত্র। 


এই ছবির মূল বিষয়বস্তুগুলো হলো:


উত্তর-ঔপনিবেশিক হতাশা: 
স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে যে স্বপ্নের ভারত গড়ার কথা ছিল, তা বাস্তবায়িত না হওয়ায় সমাজের সর্বস্তরে যে মোহভঙ্গ ও হতাশা তৈরি হয়েছিল, তাই এই ছবির প্রধান পটভূমি।

বাস্তুহারাদের জীবনযন্ত্রণা: 
দেশভাগের ফলে সৃষ্ট উদ্বাস্তু সমস্যা এবং তাদের শিকড়হীনতার গভীর যন্ত্রণা ছবিটিতে ফুটে উঠেছে।

বুদ্ধিজীবীদের সংকট: 
ছবিতে ঋত্বিক ঘটক নিজেই নীলকণ্ঠ বাগচী নামক একজন "broken intellectual" বা বিচ্ছিন্ন এবং হতাশ বুদ্ধিজীবীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যিনি মদ্যপানে আসক্ত। এই চরিত্রের মাধ্যমে তিনি তৎকালীন বুদ্ধিজীবী সমাজের দিশাহীনতা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতাকে তুলে ধরেছেন।

নকশাল আন্দোলন ও যুবসমাজ: 
ছবিটি যখন তৈরি হয়, তখন পশ্চিমবঙ্গ নকশাল রাজনীতিতে অত্যন্ত উত্তাল ছিল। নীলকণ্ঠের এক যুবক সঙ্গী ছিল নকশাল আন্দোলনের সমর্থক। এই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তিনি তরুণ প্রজন্মের জন্য সঠিক দিকনির্দেশনার অনুপস্থিতিকে দেখিয়েছেন।

দ্বান্দ্বিকতা: 
ছবির নামকরণ থেকেই বোঝা যায়, এটি কেবল একটি সরলরৈখিক গল্প নয়, বরং সেই সময়ের বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের একটি সংকলন — যেমন দেশীয় বনাম বিদেশী ভাষা, শহুরে বনাম গ্রামীণ সংস্কৃতি ইত্যাদি।

আশার আলো: 
এত হতাশার মধ্যেও, নীলকণ্ঠ বিশ্বাস করতেন যে তাঁর স্বপ্নের বাংলা একদিন আবার পুনরুজ্জীবিত হবে, যা ছবিতে এক আশাবাদী সুরও বহন করে। 

সংক্ষেপে, "যুক্তি তক্কো আর গপ্পো" হলো সত্তর দশকের পশ্চিমবঙ্গের এক অস্থির সময়ের দলিল, যেখানে একজন হতাশ কিন্তু আশাবাদী শিল্পী তাঁর চারপাশের সমাজের পতন ও পুনরুত্থানের সম্ভাবনাকে যুক্তি, তর্ক এবং গল্পের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। 

"বুদ্ধিজীবী সমাজের দিশাহীনতা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতা" ছিল, আছে, থাকবে। ঋত্বিক যার আজীবন ভুক্তভোগী।

নাগরিক সমাজের নব উদ্যোগে জনশক্তি তৈরিই স্থায়ী বিধান। যেখানে জাতি ধর্ম শ্রেণি দলমত নির্বিশেষে সকলে একসমান থাকবে। এতে কারোর উপরই জনতাকে নির্ভরশীল হতে হবে না। এটাই বলবার চেষ্টা করে চলেছি। 

মতামতে সকলে স্বাগত।
ভাল লাগলে লাইক শেয়ার কমেন্ট করতে ভুলবেন না।

***
#RitwikGhatak #ঋত্বিক_ঘটক 
"যুক্তি তক্কো আর গপ্পো" (১৯৭৪) ছবির বিষয়বস্তু কী?

***

ধর্ম বিষয়ে ঋত্বিক ঘটক

ঋত্বিক ঘটক মূলত একজন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মী এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন, যিনি তাঁর শিল্পকর্মে সামাজিক বাস্তবতা এবং দেশভাগের যন্ত্রণাকে তুলে ধরেছিলেন। ইসলাম বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম নিয়ে সরাসরি কোনো ধর্মতাত্ত্বিক মন্তব্য করার চেয়ে তিনি তাঁর কাজ ও দর্শনে ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরোধিতা করেছেন এবং মানবতাকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছেন। 
তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে প্রাসঙ্গিক কিছু বিষয়:
  • দেশভাগ ও মানবিক সংকট: ঘটক তাঁর চলচ্চিত্রে দেশভাগের ফলে সৃষ্ট মানবিক সংকট, বাস্তুচ্যুত মানুষের দুঃখ-কষ্ট এবং পরিচয়হীনতাকে প্রধান বিষয় করেছেন। তিনি এই বিভাজনের জন্য মুসলিম লীগ এবং কংগ্রেস উভয়কেই দায়ী করেছিলেন এবং এটিকে একটি "লজ্জাজনক" ও "মিথ্যা স্বাধীনতা" হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। এই প্রেক্ষাপটে তিনি ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে মানুষের সাধারণ দুঃখ-কষ্টকে বড় করে দেখেছিলেন।
  • ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরোধিতা: সত্যজিৎ রায় একবার মন্তব্য করেছিলেন যে ঋত্বিক ঘটকের চলচ্চিত্র "ধর্মের উপর আক্রমণ নয়, বরং ধর্মীয় গোঁড়ামির উপর আক্রমণ"। ঘটক তাঁর চলচ্চিত্রে যুক্তিবাদের ওপর জোর দিয়েছেন এবং ধর্মীয় অন্ধবিশ্বাসকে প্রশ্ন করেছেন।
  • সর্বজনীন মানবতাবাদ: তাঁর কাজ বামপন্থী আদর্শ এবং মানবতাবাদী চেতনায় অনুপ্রাণিত ছিল। তিনি মানুষের সংগ্রামের কথা বলতেন এবং তাঁর কাছে শিল্পের সত্যতা ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের সীমানায় আবদ্ধ ছিল না। তাঁর চলচ্চিত্রে হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টান—এমন কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের বিদ্বেষ নেই।
  • ফোক আইকনোগ্রাফি: যদিও তাঁর চলচ্চিত্রে হিন্দু পুরাণের বা ফোক আইকনোগ্রাফির ব্যবহার দেখা যায়, তবে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে তিনি এগুলোকে কেবল আখ্যানের অনুষঙ্গ হিসেবে ব্যবহার করেননি, বরং তাঁর রাজনৈতিক ও সামাজিক বক্তব্য প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছেন। 
  • সংক্ষেপে, ঋত্বিক ঘটক ইসলামকে পৃথকভাবে আক্রমণ বা প্রশংসা করার পরিবর্তে, সামগ্রিকভাবে ধর্মীয় গোঁড়ামি এবং দেশভাগের রাজনীতির বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন, যা মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছিল। তাঁর কাছে মানবতাই ছিল মুখ্য।
***


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

রাষ্ট্র ব্যবস্থায় যে অধিকারগুলো জন্মগতভাবে থাকা জরুরী

কিউবার ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের কারণ কী?

ব্যবস্থাগত অসম্পূর্ণতা নাকি নেতৃত্বের ব্যর্থতা?