মন্দির-মসজিদ নির্মাণের জমি বরাদ্দ হয়, কিন্তু শিল্পের জন্য পাওয়া যায় না
মন্দির-মসজিদ নির্মাণ কিংবা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যেমন লক্ষ লক্ষ মানুষ একত্রিত হয়ে যায়, জায়গা-জমি সহ কোটি কোটি অর্থ মুহূর্তে যোগাড় হয়ে যায় তেমনই দেশের প্রতিটি পরিবারের প্রতিটি সদস্যের সুখসুবিধা-সুরক্ষার জন্য শিক্ষা-স্বাস্থ্য-শিল্পকারখানা-কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে জনসমাজ একত্রিত হলেই তো মৌলিক সমস্যার নিরসন হয়ে যায়। বিরাট এই দেশে প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক সম্পদ কিংবা মানব সম্পদের তো কমতি নেই।
ধুমধাম-উদ্যম-আগ্রহ-শ্রদ্ধাভক্তি সহযোগে মন্দির-মসজিদ নির্মাণ হলেও শিল্প নির্মাণ হয় না। মন্দির-মসজিদের জমিতে চাষাবাদ হবে না। ফলে কৃষক আন্দোলনও হবে না। সেইসব জমিতে শুধুমাত্র মন্দির-মসজিদই ফলতে পারে।
ছবিতে বাগেশ্বর বাবা ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী গত রবিবার কলকাতায় আয়োজিত ৫ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ অনুষ্ঠানে যোগদান করেছেন। ছবিটি কলকাতা বিমান বন্দরের। যিনি 'বাগেশ্বর ধাম সরকার' নামেও পরিচিত, ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের ছত্রপুর জেলার বাগেশ্বর ধাম নামক একটি বিখ্যাত হিন্দু মন্দিরের প্রধান পুরোহিত ও আধ্যাত্মিক নেতা। তিনি তাঁর 'অলৌকিক' ক্ষমতাবলে দেশব্যাপী পরিচিতি লাভ করেছেন। যেমন- মানুষের অন্তরের অবস্থা জেনে সমস্যা বুঝে সমাধান প্রদান করেন। বিশাল ভক্তসংখ্যার পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগও রয়েছে। তিনি যেমন নির্দিষ্ট বিমানে উচ্চশ্রেণীর আসনে বিরাজমান হয়ে যে কোনো স্থানে ভ্রমণ করতে পারেন তেমন স্তরের জীবনযাত্রা ৯০ শতাংশ ভক্তের ভাগ্যে জুটছে না কেন? ভক্তরা যে কীসের দোষে দোষী কে জানে!
তিনি চাইলেই তাঁর অলৌকিক ক্ষমতাবলে ভক্তকুলের জীবন সংগ্রামের নিরসনও তো করে দিতেই পারেন। স্বয়ং ঈশ্বরও যে কেন অসহায় ভক্তকুলের সংসারে দৃষ্টিপাত করছেন না। এর উত্তর একমাত্র তিনিই জানেন।
অপরদিকে আদিকাল থেকেই ধর্ম এবং রাজনীতি উভয় ক্ষেত্রের নেতৃত্ববর্গ ও ধর্মগুরুদের জীবনযাপনের মধ্যে যেমন সাদৃশ্য রয়েছে তেমনই ভোটদাতা ও ভক্তগণের জীবনযাপনের মধ্যেও সাদৃশ্য রয়েছে।
সকল রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব, সরকার এবং সকল ধর্মের গুরুদের কথাই বলছি। আমি ধর্ম পালনের বিপক্ষে কিছুই বলছি না। বলছি সাধারণ নাগরিক যদি ১০ শতাংশের মতন জীবনযাপন পেত তাহলে আরও প্রাণ খুলে নিশ্চিন্তে ধর্ম পালন করতে পারতো। ১০ শতাংশের মতন বাদ দিলাম, তাদের ছিটেফোঁটাও যদি পেত এই রচনা লিখতে হতো না।
রাজনীতিবিদদের সন্তানরা যুক্তরাজ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স-এর মতো দেশের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে লেখাপড়া করে এবং সকলের নিশ্চিত কেরিয়ার তৈরি হয়ে যায়।
অপরদিকে ৯০ শতাংশ নাগরিকের ছেলেমেয়েরা সরকারি বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। এবার আরেক প্রসঙ্গ মনে পড়ে যায়। সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা মোটা মাইনের চাকরি নিয়ে গর্ব করলেও নিজেদের সন্তানদের প্রাইভেট বিদ্যালয়ে পড়ান। এও যে কী লেভেলের আদর্শ বলে বোঝানো যায় না।
ভারত হিন্দু রাষ্ট্র না হলে মুসলমান রাষ্ট্র হয়ে যাবে, মুসলমান রাষ্ট্র না হলে হিন্দু রাষ্ট্র হয়ে যাবে। অতএব যে-কোনও একটি পক্ষ অবলম্বন করতেই হবে।
এই লেখনীর মূল উদ্দেশ্য নিয়ে পুনরায় পুনরাবৃত্তি করতে হচ্ছে। রাজনৈতিক নেতৃত্ব কিংবা কোনও ধর্মের ধর্মগুরুদের মুখে কখনো শোনা যায় না আসুন আমরা রাষ্ট্রের প্রতিটি পরিবারের প্রতিটি সদস্যের অর্থনৈতিক সুখসুবিধা-সুরক্ষার ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলি, সামাজিক পরিষেবাদির অবকাঠামো নির্মাণ করি, সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করি। এই পদক্ষেপে অভাব-অসঙ্গতি কোথায়? এইটিই তো মূল কাজ। এই কাজটি সম্পন্ন হলেই তো ৯৯% সমস্যার নিরসন হয়।
আর ভিন্ন উপায় কিছু আছে? কী বলবেন?
***

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন