জীবনের অর্থ কী? জীবনের মূল উদ্দেশ্য কী? What is the meaning of life? What is the principle aim of life?

 


সমাজ বলছে তোমায় সফল হতে হবে,

সাফল্যের অর্থ বলে দিয়েছে অর্থ উপার্জন,

তবে কত পরিমাণ অর্থ উপার্জন করলে কেউ সফল বলে গণ্য হবেন তা কিন্তু নির্ধারিত করেনি।

 

আবার কি বিড়ম্বনা দেখুন সমাজ না অর্থ উপার্জনের উপায় করে দিয়েছে,

না পথ দেখিয়ে দিয়েছে,

না সুযোগ করে দিয়েছে,

না কোনো দায়িত্ব নিয়েছে,

কোনো সহায়তা না করে শুধুমাত্র ফলাফল দাবী করছে।

 

সাফল্য কী?

সাফল্যের উদ্দেশ্য কী?

সাফল্যের মাপকাঠি কী ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ প্যারামিটারগুলো সুনির্দিষ্ট না করেই সমাজ শুধুমাত্র সাফল্য দাবী করে চলেছে।

 

ফলে ব্যক্তি আজীবন যে ক্রাইসিটি বহন করে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করছে তা হচ্ছে এই অর্থের ক্রাইসিস, এই অর্থ মানে টাকাপয়সা নয় meaning ক্রাইসিস।

 

সারাজীবন প্রতিটি মুহূর্ত সে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে।

জীবন দর্শন, অর্থনৈতিক দর্শন এমনকি জীবনশৈলীর দার্শনিক সিদ্ধান্তও সুনির্দিষ্ট করে নির্ধারিত করা হয়নি। ফলে ব্যক্তি জীবনযাপনের প্রতিটি মুহূর্তে যে সিদ্ধান্তই নিচ্ছে অস্পষ্টতা-অসন্তুষ্টতা থেকেই যাচ্ছে।

 

ব্যক্তি অন্তরে যা কিছু ভাবছে তা বহির্জগতের সাথে মিলছে না, বহির্জগত যা দাবী করছে তার সাথে অন্তরের সিদ্ধান্ত মিলছে না। এই দোলাচলেই জীবন ফুরিয়ে যাচ্ছে।

অর্থাৎ এই জীবন লইয়া কী করিব এই প্রশ্ন নিয়েই জীবন প্রদীপের সমাপ্তি ঘটছে।

 

পৃথিবীতে বহু ব্যক্তি সংঘর্ষ করে সমাজ নির্দেশিত সফলতা অনুযায়ী সম্পদশালী-বৈভবশালী হবার পরও জীবনকালের কোনও না কোনও সময়ে এই মিনিং ক্রাইসিসে ভুগেছেন। তাঁরা সেকথা অকপটে প্রকাশও করে গিয়েছেন।

 

ফলে এই মিনিং ক্রাইসিস যে শুধুমাত্র নিরাপত্তাহীন দরিদ্রের জন্য বরাদ্দ তা নয় বরং প্রভূত বিত্তশালীর জন্যও একইভাবে প্রযোজ্য।

 

অর্থাৎ ব্যক্তি যত সম্পদই গড়ুক না কেন সে অসন্তুষ্ট থাকছে, যত সম্পর্কই তৈরি করুক না কেন অসন্তুষ্ট থাকছে। এখনও পর্যন্ত সমাজে এই সিদ্ধান্তই বহাল রয়েছে। বিকল্প কোনও সিদ্ধান্ত সার্বিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

 

এই ক্রাইসিস ব্যক্তিকে কিভাবে তাড়া করছে তা বিশেষ মানুষের মৃত্যুসজ্জায় অন্তিম বক্তব্যেও উঠে এসেছে।

 

মৃত্যুশয্যায় জীবনের ক্রাইসিস নিয়ে অনেকে কথা বলেছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন একজন বিখ্যাত প্রযুক্তি নির্বাহী, লেখক ও অ্যাপলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জোবস, যিনি বলেছেন তার জীবনকে চালিত করার জন্য "মৃত্যু সম্পর্কে সচেতন থাকা" সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার ছিল। তিনি আরও বলেন, "মৃত্যুর মুখোমুখি হলে সমস্ত বাহ্যিক প্রত্যাশা, অহংকার, লজ্জা বা ব্যর্থতার ভয় হারিয়ে যায়, শুধুমাত্র যা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ তাই টিকে থাকে"।

 

অনেক ক্ষেত্রে, জীবনের শেষ পর্যায়ে মানুষ বুঝতে পারে, "সামাজিক অবস্থান বা সম্পদ গুরুত্বপূর্ণ নয়" বরং "জ্ঞান অর্জন" বা অভিজ্ঞতা অর্জন করা গুরুত্বপূর্ণ।

 

যদিও আর্থিক নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, তবে মৃত্যুর সময় এটি এত বেশি গুরুত্বপূর্ণ থাকে না সেকথাও অনেকে বলে গিয়েছেন।

 

জীবন অর্থহীন— এমন ধারণা বিভিন্ন দার্শনিক এবং সাহিত্যিকদের কাজের মাধ্যমে উঠে এসেছে। তাদের অনেকে সরাসরি "জীবন অর্থহীন" না বললেও তাঁদের কাজ ও দর্শনের মাধ্যমে মানুষের অস্তিত্বের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বা জীবনের অর্থহীনতার ধারণাকে অন্বেষণ করেছেন।

 

 

আপনাদের জীবনের অভিজ্ঞতা এ প্রসঙ্গে কী সিদ্ধান্ত দেয়? জীবনের মুখ্য উদ্দেশ্য কী বলে হয়?

 

মতামতে সকলে স্বাগত।

***

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

রাষ্ট্র ব্যবস্থায় যে অধিকারগুলো জন্মগতভাবে থাকা জরুরী

কিউবার ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের কারণ কী?

ব্যবস্থাগত অসম্পূর্ণতা নাকি নেতৃত্বের ব্যর্থতা?