প্রাক্তন স্বামীর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ চ্যাম্পিয়ন মেরি কমের
মেরি কমের এই
বক্তব্য একটি বিরাট বিতর্কের জন্ম দিয়েছেঃ যদি তিনি একাধিক পরকীয়া করেন তবে তা রাসলীলা, কিন্তু যদি
স্বামী ঘরের দেখাশোনা করেন তাহলে সে অকেজো!!!
সাফল্য অনেকের
মাথায় চড়ে বসে, অনেকের মাথা ঘুরে যায়।
সম্প্রতি, ইন্ডিয়া
টিভির "আপ কি আদালত" অনুষ্ঠানটিতে, বক্সিং কিংবদন্তি এবং রাজ্যসভার সাংসদ
এমসি মেরি কম প্রথমবারের মতো তার ব্যক্তিগত জীবন এবং বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে খোলামেলা কথা
বলেছেন। তিনি তার প্রাক্তন স্বামী কারুং ওনলার (অনলার) এর বিরুদ্ধে আর্থিক জালিয়াতি,
সম্পত্তি দখল এবং তার উপার্জনের উপর নির্ভর করার মতো গুরুতর অভিযোগ এনেছেন।
যখন রজত শর্মা
শোতে বলেন যে তার স্বামী সন্তানদের দেখাশোনার জন্য তার ফুটবল ক্যারিয়ার ছেড়ে দিয়েছেন,
মেরি কম তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন:
"এ কেমন
সফল ক্যারিয়ার? সে রাস্তায় ফুটবল খেলত। সত্যি বলতে, বিয়ের পরে সবকিছু আমার উপার্জনের
উপর নির্ভর করত সে। সে এক টাকাও আয় করত না। এ কেমন পুরুষ যে একজন মেয়ের উপার্জনে
বেঁচে থাকতে পারে?"
বিষয়টি কেবল
একটি সাক্ষাৎকারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। মেরি কম অভিযোগ করেছেন যে তার স্বামী তার
উপার্জন থেকে কোটি কোটি টাকা প্রতারণা করেছেন, তার নামে ঋণ নিয়েছেন, সম্পত্তি বন্ধক
রেখেছেন এবং কিছু জমি তার নামে স্থানান্তর করেছেন। তিনি আরও বলেন, ২০২২ সালে আঘাতের
পর তার আসল রূপ উন্মোচিত হয় এবং তিনি হাতেনাতে ধরা পড়েন।
কিন্তু তার প্রাক্তন
স্বামী, অনলারও প্রতিশোধ নেন। একটি মিডিয়া সাক্ষাৎকারে তিনি মেরি কমের বিরুদ্ধে বিবাহ
বহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ করেন। অনলার দাবি করেন যে ২০১৩ সালে মেরি কমের একজন জুনিয়র
বক্সারের সাথে সম্পর্ক ছিল, যার ফলে পারিবারিক কলহ হয়, কিন্তু পরে তারা আপস করে
মিটিয়ে নেন। তিনি আরও বলেন, ২০১৭ সাল থেকে মেরি কম তার বক্সিং একাডেমিতে কর্মরত একজনের
সাথে অবৈধ সম্পর্কে ছিলেন। অনলার বলেন যে তার কাছে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট এবং অন্যান্য
প্রমাণ রয়েছে। তিনি আরও বলেন,
"সে একা
থাকতে চেয়েছিল এবং অন্য কারো সাথে সম্পর্ক রাখতে চেয়েছিল। আমাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে।
সে যদি স্বামী হিসেবে অন্য কাউকে গ্রহণ করে আমার কোনও আপত্তি নেই, তবে আমাকে যেন দোষারোপ
না করেন। যদি আপনি আমাকে দোষারোপ করেন, তাহলে প্রমাণ দেখান।"
মেরি কমের জীবনীর উপর ভিত্তি করে "মেরি কম" শিরোনামে ২০১৪ সালে হিন্দি চলচিত্র নির্মিত হয়েছিল। এতে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া অভিনয় করেছেন এবং ছবিটি বক্স অফিসে সফল হয়েছিল। ছবিতে একজন মা হওয়ার পর খেলাধুলায় ফেরা, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ জেতার সংগ্রাম, স্বামীর সংসার দেখা, প্রসংশা, কেরিয়ারে সহায়তা, মোটিভেশন ইত্যাদি দেখানো হয়েছিল। ছবির প্রসঙ্গ তুলে অনেকেই বলছেন বেঁচে থাকা অবস্থায় মেরির জীবনী নিয়ে ছবি করা উচিত হয়নি। ছবিটি যারা দেখেছেন তারা অনেকে "না দেখলেই ভাল হত" এমনটিও বলেছেন।
***
আমাদের প্রশ্নঃ
দেশে লক্ষ লক্ষ
মহিলা আছেন যারা তাদের স্বামীর আয়ের উপর নির্ভর করে জীবনযাপন করেন। এমন পরিস্থিতিতে
যদি একজন স্বামী তার স্ত্রীর ক্যারিয়ারের জন্য চাকরি ছেড়ে দেন এবং পরিবারের যত্ন
নেন, তাহলে এটি কীভাবে ভুল? এটি কি 'নির্ভরতা' নয়, বরং পারস্পরিক সহায়তা?
ভালো আয়ের অনেক
পুরুষ যৌতুক ছাড়াই এমন মহিলাদের বিয়ে করেন যাদের চাকরি নেই। এটি স্বাভাবিক বলে বিবেচিত
হয়।
উল্টোদিকে ভালো
চাকরির মহিলারাও কি এমন পুরুষদের সাথে বিয়ে করতে রাজি হন যাদের চাকরি নেই? পরিসংখ্যান
এবং সামাজিক চিন্তাভাবনা থেকে জানা যায় যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পুরুষদের কাছ থেকে বেশি
উপার্জন বা স্থিতিশীল চাকরির আশা করা হয়, যেখানে বিপরীতটি খুব কমই দেখা যায়।
বিচ্ছেদের পর,
স্ত্রীরা তাদের স্বামীদের কাছ থেকে ভরণপোষণ দাবি করে কারণ তাদের আয়ের কোনও উৎস নেই।
মেরি কামের ক্ষেত্রে, তার স্বামী তার পুরো জীবন পরিবারের যত্ন নেওয়ার জন্য উৎসর্গ
করেছিলেন এবং আয়ের কোনও উৎস নেই। এমন পরিস্থিতিতে, মেরি কমকে ভরণপোষণ দেওয়া কি উচিত
নয়?
আমাদের দেশে,
সরকার পুরুষ নির্যাতন থেকে নারীদের রক্ষা করার জন্য অসংখ্য আইন প্রণয়ন করেছে এবং এগুলি
প্রণয়ন করা উচিত ছিল। তবে, অনেক পুরুষও নিষ্ঠুর নারীদের শিকার হন; তাদেরকেও রক্ষা
করা উচিত, আইন প্রণয়ন করা উচিত।
***
এবার বিচ্ছেদের বিষয়টিতে আলোকপাত করা যাক।
পারস্পরিক নির্ভরতা থেকে একে অপরের প্রতি প্রেমের উৎপত্তি হয়। তখন একজন বুঝতে পারে অন্যজনের সান্নিধ্য ছাড়া সম্পূর্ণরূপে সুখী হওয়া সম্ভব নয়। যখন একজন অপরজনের গুরুত্ব অনুভব করতে পারে তখন পরস্পরের মধ্যে প্রেম হয়ে যায়। বৃক্ষের মূল এবং শাখার সাথে যে সম্বন্ধ সেটিই প্রেমের সম্পর্ক। অপরদিকে, পারিবারিক সুখ প্রাপ্তির জন্যও প্রেমই মূল আধার হওয়া উচিত। পরিবারের অর্থ হচ্ছে দুই বা অধিক ব্যক্তি দীর্ঘ সময় অবধি একসাথে থাকতে চায়। দীর্ঘ সময় অবধি একসাথে বসবাসের ফলেই পারিবারিক সুখের উদয় হয়। এইজন্যই পরিবার নামক কাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। সাধারণভাবে প্রেমের অর্থ হচ্ছে, যখন কারোর সান্নিধ্য পেয়ে সুখ প্রাপ্তি হতে থাকে এবং ক্রমাগত বসবাস করার ইচ্ছে জাগ্রত হতে থাকে। এমনটি হলে বুঝতে হবে প্রেমের সম্বন্ধ তৈরি হচ্ছে।
মূলত আর্থিক বৈষম্যের বাধাটি নির্মূল হয়ে গেলে, অর্থাৎ প্রতিটি নারী-পুরুষ আত্মনির্ভরশীল হলে গোপন অভিসন্ধির দ্বিধা নিয়ে সম্পর্কে জড়ানোর দুশ্চিন্তা থাকবে না। বরং নিজেদের সম্মতিতেই সম্পর্ক তৈরি হবে। বাধ্যবাধকতাবিহীন সম্পর্কের মধ্যেই বাস্তবিক প্রেম থাকে, যা কেবলমাত্র পরস্পরের সম্মতির উপর নির্ভর করে। যদি সম্পর্কের বিজ্ঞানকে বুঝতে চাই তাহলে জানা যাবে, আমরা নানারকম সম্বন্ধ থেকে ভিন্ন ভিন্ন সুখ উপভোগের জন্যই সম্পর্ক তৈরি করে থাকি। সম্পর্কের সুখ আমরা এমনতর পরিবেশ থেকেই পূর্ণরূপে গ্রহণ করতে পারি যেখানে কোনোপ্রকার বাধ্যবাধকতা থাকে না। আমাদের সম্পর্ক শুধুমাত্র সেইসব সুখ উপভোগের জন্যই তৈরি হোক যার জন্য আমরা সম্পর্ক স্থাপন করতে চাই। সঠিক সম্পর্ক কেবলমাত্র তখনই সম্ভব হবে যখন পরস্পরের প্রতি আকর্ষণ অথবা প্রেমের অনুভব থাকবে। অপরদিকে স্ত্রী-পুরুষ সকলে আর্থিক দিক দিয়ে স্বতন্ত্র হলে একে অপরের প্রতি কেউ মালিকানা মনোভাব দেখাবে না। তখন একে অপরের সাথে থাকার একটিই কারণ এবং একটিই প্রয়োজন থাকবে তা হল বাস্তবিক প্রেম। সম্পর্কের কোনো সময়সীমা থাকা উচিত নয়। যতদিন প্রেম রয়েছে একসাথে থাকবে। যখন প্রেম সমাপ্ত সম্পর্কও সমাপ্ত। যখন সম্পর্ক সমাপ্ত সহাবস্থানও সমাপ্ত। শুধুমাত্র যার সাথে প্রেম অনুভব হবে তার সাথে জীবন কাটাবে। ফলে কোনো সমস্যা ছাড়াই সকলের জীবন সুখপূর্ণভাবে চলতে থাকবে।
উভয়পক্ষ আর্থিক দিক দিয়ে স্বতন্ত্র এবং আত্মনির্ভরশীল হলে পরস্পরের মধ্যে অহংকার বা হিংসার কারণ উৎপন্ন হবে না।
বিচ্ছেদ হওয়া উচিত সহজ-সরল।
মতামতে সকলে স্বাগত।
ভাল লাগলে লাইক কমেন্ট শেয়ার করতে ভুলবেন না।
***
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন