অন্ধবিশ্বাস-কুসংস্কার মুক্তির প্রাথমিক পদক্ষেপ কী?

 

ধরুন একটি দরিদ্র পরিবার প্রবল কুসংস্কারাচ্ছন্ন ও অন্ধবিশ্বাসী। এবার তাকে আগে উপদেশ দেওয়া দায়িত্ব নাকি শিক্ষা, জীবিকা   উপায় না পেয়ে 

 

দরিদ্রের অন্ধবিশ্বাস-কুসংস্কার মুক্তির উপদেশ আগে জরুরী নাকি শিক্ষার-স্বাস্থ্যের-জীবিকার তথা আর্থিক উন্নয়ন আগে করা দরকার

 

শিক্ষা-জীবিকা-সুখসুবিধা-সুরক্ষার সার্কেল প্রথমে পূরণ হওয়া জরুরী। এটিই সমাজের মূল উদ্দেশ্যে হওয়া উচিত। দেশে সম্পদ রয়েছে, কাজের মানুষ রয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন-বিতরণের কাঠামো নির্মিত হয়নি। শিক্ষা-জীবিকা-সুখসুবিধা-সুরক্ষার উদ্দেশ্যে সরকারের কাছে চাপ গেলে সরকারও প্রস্তুতিপর্ব প্রারম্ভ করে দেবে। কী প্রকার অর্থনীতি রাজনীতি হলে কেউ দুর্নীতি করতে পারবে না, করবার প্রয়োজনও পড়বে না তেমন নীতির প্রণয়ন, প্রতিষ্ঠার উদ্যোগও শুরু হয়ে যাবে। চলমান সরকার পদক্ষেপ না নিলে নাগরিক সমাজ বিকল্প সরকার গড়ে নেবে। যদি এই কথাগুলো আমাদের মতন মুষ্টিমেয় কিছু মানুষ বলছেন, বিষয়ে অধিক আলোচনা, প্রচার হওয়া জরুরী।

 

অন্ধবিশ্বাস-কুসংস্কারের পেছনে অর্থই জড়িত। শিল্পপতিরাও একদিকে ধার্মিক সাজছে অপরদিকে শোষণ করছে। জেনেবুঝেই করছে। সাধারণের মধ্যেও সকলে কোনও না কোনও লাভের জন্য জেনেবুঝেই করছে। সরকারও মৌলিক বন্দোবস্ত করতে ব্যর্থ, ফলে সমাজে স্বীকৃত ধর্মকে ব্যবহার করে যাচ্ছে। বাস্তবতা হচ্ছে যত বাটপার তত ধার্মিক। ত্রুটিপূর্ণ আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক ব্যবস্থাই মূল কারণ। শিক্ষা-জীবিকা-সুখসুবিধা-সুরক্ষার সার্কেল পূরণ করা হয়নি। তা হলে আর্থিক লেনদেনের বুজরুকি সব বন্ধ হয়ে যাবে। এটিই সমাজের মূল উদ্দেশ্যে হওয়া উচিত। যেহেতু চলমান ব্যবস্থায় কেউ নিজেকে সুরক্ষিত অনুভব করছে না, আবার দরিদ্রের পাশেও যেহেতু কেউ নেই ফলে অনেকে নানা বিশ্বাস প্র্যাকটিস করে যাচ্ছে।

 

ধর্মের প্রকৃত অর্থও শেখানো হয়নি দ্বিতীয়ত, সকলের শিক্ষার, স্বাস্থ্যের, জীবিকার, সুখসুবিধার, সুরক্ষার বন্দোবস্ত করা যায়নি। যা ধারণ করলে সকলে সুখী হবে, আনন্দিত হবে, সুরক্ষিত হবে তাই হবে ধর্ম। আজকের সময়ে আমরা বলতে পারি সকলের শিক্ষার, স্বাস্থ্যের, জীবিকার, সুখসুবিধার, সুরক্ষার যথাযথ আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে উঠলেই তা হবে প্রকৃত ধর্ম।

***

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

রাষ্ট্র ব্যবস্থায় যে অধিকারগুলো জন্মগতভাবে থাকা জরুরী

কিউবার ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের কারণ কী?

ব্যবস্থাগত অসম্পূর্ণতা নাকি নেতৃত্বের ব্যর্থতা?