কেন ভারতের তুলনায় চীন এগিয়ে?

ভারতের তুলনায় চীন কেন এগিয়ে এবং ভারত কীভাবে উন্নয়নের পলিসি গ্রহণ করে সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে রূপায়িত হতে পারে এই আলোচনা-সমীক্ষাকে যারা গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন না তাদের জন্য এই রচনা নয়।

• চীন ১৯৭৯ সালেই তাদের অর্থনীতি উন্মুক্ত ও সংস্কার শুরু করেছিল, যা ভারতের (১৯৯১) চেয়ে প্রায় এক দশক আগে। এই "হেড স্টার্ট" বা আগে শুরু করার সুবিধা চীনকে বিশ্ববাজারে শক্তিশালী অবস্থান তৈরিতে সাহায্য করেছে।

• চীন তার জিডিপির প্রায় ৪০-৫০% অবকাঠামো ও উন্নয়নে বিনিয়োগ করে, যেখানে ভারতের বিনিয়োগের হার বর্তমানে প্রায় ৩০%। চীন হাই-স্পিড রেল, মেগা হাইওয়ে এবং আধুনিক সমুদ্রবন্দরের এক বিশাল নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে, যা পণ্য পরিবহনের খরচ কমিয়ে তাদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করেছে।


• চীন নিজেকে বিশ্বের "কারখানা" হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। চীনের একটি শক্তিশালী সাপ্লাই চেইন ইকোসিস্টেম রয়েছে, যেখানে কাঁচামাল থেকে শুরু করে চূড়ান্ত পণ্য পর্যন্ত সব তৈরি হয়। অন্যদিকে, ভারত সেবামূলক বা সার্ভিস সেক্টরে বেশি উন্নতি করলেও উৎপাদন খাতে (Manufacturing) চীনের চেয়ে পিছিয়ে।

• চীন শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং নারীদের কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণের ওপর আগে থেকেই জোর দিয়েছে। এর ফলে তাদের বিশাল কর্মবাহিনী অত্যন্ত দক্ষ ও উৎপাদনশীল হয়ে উঠেছে।

• চীনের রাজনৈতিক ব্যবস্থা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে সহায়ক, যেখানে ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ভূমি অধিগ্রহণ বা বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায়ই সময় অধিক নিয়ে থাকে।

• পরিশেষে, চীনে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টির মূল কারণ হলো উৎপাদন ও রপ্তানি খাতে বৈশ্বিক আধিপত্য, বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার, পরিকাঠামোগত উন্নয়ন এবং সরকারের কর্মমুখী নীতি। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে, চীন উৎপাদন শিল্পে সস্তা শ্রম, উন্নত প্রযুক্তি, এবং বিদেশী সরাসরি বিনিয়োগ (FDI) আকর্ষণের মাধ্যমে কোটি কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে।

চীন যেসব অনন্য উদ্যোগ এবং পলিসি গ্রহণ করেছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা রইলঃ


১০০০ ট্যালেন্ট প্রোগ্রাম

চীনে ১০০০ ট্যালেন্ট প্রোগ্রাম (Thousand Talents Plan বা TTP) হলো ২০০৮ সালে শুরু হওয়া একটি জাতীয় পর্যায়ের প্রতিভা সংগ্রহের উদ্যোগ, যার মূল লক্ষ্য ছিল বিদেশ থেকে উচ্চপদস্থ বিশেষজ্ঞ গবেষকদের চীনে ফিরিয়ে আনা। 


উদ্দেশ্য: 

বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা দক্ষ চীনা গবেষক এবং -চীনা বিশেষজ্ঞদের চীনে কাজ করার জন্য আকৃষ্ট করা, যাতে দেশের বিজ্ঞান প্রযুক্তিতে উদ্ভাবন ঘটানো যায়। এটি মূলত চীনের মেধাপাচার (brain drain) রোধ করে "মেধা অর্জন" (brain gain)-এর একটি কৌশল।

সুযোগ-সুবিধা: 

এই প্রোগ্রামের আওতায় গবেষকদের বিপুল পরিমাণ আর্থিক অনুদান (যেমন: মিলিয়ন ইউয়ান পর্যন্ত সেটেলমেন্ট বোনাস), গবেষণার জন্য বিশাল বাজেট (- মিলিয়ন ইউয়ান) এবং আবাসন সুবিধা দেওয়া হয়।

বিভাগসমূহ: 

এতে মূল প্রোগ্রামের পাশাপাশি অনূর্ধ্ব ৪০ বছর বয়সীদের জন্য "ইয়াং থাউজেন্ড ট্যালেন্ট" (Young Thousand Talents) এবং বিদেশি বিশেষজ্ঞদের জন্য আলাদা বিভাগ রয়েছে।

বিতর্ক নিরাপত্তা: 

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটি ব্যাপক বিতর্কের মুখে পড়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই (FBI) অভিযোগ করেছে যে, এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে মেধাসম্পদ চুরি (intellectual property theft) এবং গোপন প্রযুক্তি হস্তান্তরের চেষ্টা করা হয়।

বর্তমান অবস্থা: 

আন্তর্জাতিক চাপ তদন্তের মুখে ২০১৯ সালের পর থেকে চীন এই প্রোগ্রামের নাম প্রকাশ্যে ব্যবহার করা কমিয়ে দিয়েছে এবং এটিকে অন্যান্য প্রতিভা প্রকল্পের সাথে একীভূত করেছে। 



জুনিয়র ট্যালেন্ট প্রোগ্রাম


চিনে "জুনিয়র ট্যালেন্ট প্রোগ্রাম" মূলত দেশটির বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনী খাতে মেধাবী তরুণদের আকৃষ্ট করার জন্য ডিজাইন করা বিভিন্ন উদ্যোগের একটি অংশ। এটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিত "Thousand Talents Plan"-এর একটি শাখা হিসেবে শুরু হয়েছিল। 

 টার্গেট গ্রুপ: 

সাধারণত ৪০ বছরের কম বয়সী গবেষক, বিজ্ঞানী এবং প্রযুক্তিবিদদের এই প্রোগ্রামের আওতায় আনা হয়। যারা বিদেশের নামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি (PhD) করেছেন এবং অন্তত বছরের গবেষণার অভিজ্ঞতা আছে, তারাই মূলত এর যোগ্য।

আর্থিক সুবিধা: 

মনোনীত প্রার্থীদের প্রায় লক্ষ থেকে ১০ লক্ষ ইউয়ান (RMB) এককালীন বোনাস এবং থেকে মিলিয়ন ইউয়ান পর্যন্ত গবেষণা অনুদান দেওয়া হয়।

অন্যান্য সুবিধা: 

এর অধীনে আবাসন ভর্তুকি, উন্নত চিকিৎসা সুবিধা এবং সন্তানদের শিক্ষার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।

নতুন সংস্করণ: 

বর্তমানে এটি "Youth of Excellence Scheme" বা "Qiming Program"-এর মতো নতুন নামে পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া ২০২৫ সাল থেকে তরুণ STEM মেধাবীদের জন্য বিশেষ 'K-Visa' চালু করা হয়েছে, যা কোনো পূর্ব নিয়োগপত্র ছাড়াই চিনে আসার সুযোগ দেয়।

আবেদনের মাধ্যম: 

আগ্রহী প্রার্থীদের সাধারণত চিনের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। বিস্তারিত তথ্যের জন্য China Scholarship Council-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট চেক করা যেতে পারে। 



চীনের গবেষণা  পরিকাঠামো খাতে  বিনিয়োগ দেখে অবাক হতে হয়

গবেষণা (R&D) এবং পরিকাঠামো (Infrastructure) খাতে চীনের বিশাল বিনিয়োগ কোনো আকস্মিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি তাদের দীর্ঘমেয়াদী 'জাতীয় পুনরুত্থান' কৌশলের একটি মূল অংশ। চীন বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি এবং তারা ২০৪৯ সালের মধ্যে (পিআরসি- ১০০তম বার্ষিকী) বিশ্বের শ্রেষ্ঠ শক্তিতে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।


চীন কেন এই খাতে এত গুরুত্ব দেয়, তার প্রধান কারণগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:


. 'মধ্যম আয়ের ফাঁদ' (Middle-Income Trap) এড়ানো

চীন দীর্ঘদিন ধরে সস্তা শ্রম এবং রপ্তানি-নির্ভর অর্থনীতির ওপর ভিত্তি করে এগিয়েছে। কিন্তু বর্তমানে শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা ভিয়েতনাম বা ভারতের মতো দেশগুলোর সাথে সস্তায় প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে। 

সমাধান: 

চীন এখন 'Made in China 2025' প্রকল্পের মাধ্যমে উচ্চ-প্রযুক্তির (যেমন: চিপ তৈরি, রোবোটিক্স, ইলেকট্রিক গাড়ি) দিকে ঝুঁকছে। এর জন্য প্রচুর গবেষণা প্রয়োজন। 

. প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা নিরাপত্তা

বিশেষ করে আমেরিকার সাথে বাণিজ্যিক প্রযুক্তিগত দ্বন্দ্বের (Trade War) পর চীন বুঝতে পেরেছে যে, বিদেশের ওপর নির্ভরশীলতা তাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

সেমিকন্ডাক্টর এআই: 

উন্নত চিপ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার জন্য তারা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে যাতে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা তাদের অর্থনীতিকে থামিয়ে দিতে না পারে। 


. পরিকাঠামো দিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সচল রাখা

চীনের জিডিপির একটি বড় অংশ আসে নির্মাণ এবং পরিকাঠামো খাত থেকে।

যোগাযোগ ব্যবস্থা: 

দ্রুতগতির ট্রেন (High-speed Rail), বিশাল সব সেতু এবং আধুনিক বন্দর তৈরির মাধ্যমে তারা দেশের অভ্যন্তরে পণ্য মানুষের যাতায়াত সহজ করেছে, যা সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে দেয়।

শহরায়ন: 

উন্নত পরিকাঠামো গ্রাম থেকে মানুষকে শহরে আসতে উৎসাহিত করে, যা একটি বিশাল ভোক্তা বাজার তৈরি করে।

. বৈশ্বিক প্রভাব বিস্তার (Belt and Road Initiative)

পরিকাঠামো খাতে চীনের দক্ষতা কেবল দেশের ভেতর সীমাবদ্ধ নয়। 'বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ' (BRI)-এর মাধ্যমে তারা এশিয়া, আফ্রিকা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রাস্তা বন্দর তৈরি করছে। এটি চীনকে বিশ্ব রাজনীতি বাণিজ্যে একটি কেন্দ্রীয় অবস্থানে নিয়ে যাচ্ছে। 

. ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির নেতৃত্ব

চীন কেবল বর্তমানকে নিয়ে ভাবছে না, তারা আগামী দশকের প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ করতে চায়:

সবুজ শক্তি (Green Energy): 

সোলার প্যানেল, উইন্ড টারবাইন এবং ইলেকট্রিক ভেহিকেল (EV) ব্যাটারি প্রযুক্তিতে চীন বর্তমানে বিশ্বে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করছে।

কোয়ান্টাম কম্পিউটিং: 

ভবিষ্যতের ডেটা নিরাপত্তা সুপার কম্পিউটিংয়ে এগিয়ে থাকতে তারা বিশাল গবেষণা তহবিল বরাদ্দ করেছে।

এক নজরে মূল লক্ষ্যসমূহঃ

গবেষণা ও উন্নয়ন - উচ্চ-প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং বিদেশের ওপর নির্ভরতা কমানো।

পরিকাঠামো - অভ্যন্তরীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নিরবচ্ছিন্ন লজিস্টিক চেইন নিশ্চিত করা।

শক্তি ও পরিবেশ - জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ক্লিন এনার্জি লিডার হওয়া।

সারকথা:

চীনের জন্য এই বিনিয়োগ কেবল টাকা খরচ নয়, বরং এটি তাদের টিকে থাকা এবং বিশ্বমঞ্চে শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখার একটি অপরিহার্য লড়াই।


কেন চীন কৃষি ক্ষেত্রে অধিক বিনিয়োগ করে?

বর্তমানে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং কৃষিখাতকে আধুনিক করতে অভ্যন্তরীণ বৈশ্বিকউভয় ক্ষেত্রেই বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করছে।

চীনের সাম্প্রতিক কৃষি বিনিয়োগের প্রধান দিকগুলো হলো:

প্রযুক্তি উদ্ভাবন: 

চীন এখন কৃষি প্রযুক্তিতে বিশ্বের শীর্ষ বিনিয়োগকারী দেশগুলোর একটি। ২০২৪-২৮ সালের 'স্মার্ট এগ্রিকালচার অ্যাকশন প্ল্যান' অনুযায়ী তারা এআই (AI), ড্রোন এবং বিগ ডাটার মাধ্যমে চাষাবাদ আধুনিক করছে। ২০২৩ সালে চীন কৃষি উদ্ভাবনে প্রায় . বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপীয় ইউনিয়নের তুলনায় অনেক বেশি।

উচ্চ-মানের কৃষিজমি: 

২০২৪ সালের শেষ নাগাদ চীন প্রায় ১০০ কোটি মু (প্রায় ৬৬. মিলিয়ন হেক্টর) জমিকেহাই-স্ট্যান্ডার্ডবা উন্নত মানের কৃষিজমিতে রূপান্তরিত করেছে, যা সাধারণ জমির তুলনায় ১০% বেশি ফলন দেয়।

বিদেশি বিনিয়োগ সহযোগিতা: 

'বেল্ট অ্যান্ড রোড' প্রকল্পের আওতায় চীন ভিয়েতনাম, লাওস মিয়ানমারের মতো দেশগুলোতে উচ্চফলনশীল বীজ প্রযুক্তিগত সহায়তায় বিনিয়োগ করছে। এছাড়া ব্রাজিলসহ বিভিন্ন দেশ থেকে সয়াবিনের মতো পণ্য আমদানিতেও তারা বড় অংশীদার।

ভর্তুকি সহায়তা: 

২০২৫ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, চীনের কৃষিখাতে সরকারি সহায়তার পরিমাণ বার্ষিক প্রায় ৮৪২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা প্রাক-মহামারি সময়ের চেয়েও বেশি।

এই বিপুল বিনিয়োগের ফলে ২০২৪ সালে চীনের শস্য উৎপাদন রেকর্ড ৭০৬. মিলিয়ন টনে পৌঁছেছে।

বিশ্বের দৃষ্টি এখন চীনের দিকে। কিছু বছর আগেও যে দেশে দুর্ভিক্ষের মতন সমস্যা প্রবল আকারে ছিল, চরম দারিদ্রতা ছিল সে দেশ কীভাবে সামগ্রিক শাখায় এত উন্নতি করে ফেলল তাকে ম্যাজিক বললেও কম বলা হয়। চীন রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন ও নাগরিক উন্নয়নের পলিসি তৈরি করেছে এবং বাস্তবায়ন করেছে। যে অর্থকেন্দ্রিক ব্যবস্থাকে মূল বাধা হিসেবে মনে করা হয়, অর্থাৎ পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় চীন পুঁজিকে ব্যবহার করেই বিশ্বে প্রথম স্থান অর্জন করেছে এবং এই গতি দ্রুত ক্রমবর্ধমান। ভারত ও চীন একই সময়ে উন্নয়ন যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে যে সকল কারণে চীন ভারতের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে সে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা এবং প্রয়োগ মূলত সরকারি স্তরের কাজ। অপরের থেকে শিখে, সহায়তা নিয়ে এগিয়ে যাওয়াকে সরকার পক্ষ যদি প্রয়োজনীয় না মনে করে তবে জনতাকে এই দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে। দেশ জনতার, নির্দিষ্ট গোষ্ঠী কিংবা দলের নয়। কোন পলিসি-প্রক্রিয়া প্রয়োগ হলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন বাস্তবায়িত হবে এই বিষয়ে অধিক আলোচনা হলে স্পষ্টতাও অধিক বৃদ্ধি পাবে। কেন সম্ভব নয়, কীভাবে সম্ভব এই দিকগুলো উন্মুক্ত হতে থাকবে। প্রাকৃতিক সম্পদ ও মানব সম্পদে সমৃদ্ধ হয়েও ভারত কেন পিছিয়ে? এই সমীক্ষাই জরুরী। প্রতিহিংসা-প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয় বরং ব্যর্থতা স্বীকার করে ত্রুটি সংশোধন করে অগ্রগতির উদ্যোগ নেওয়া এবং সহযোগিতা গ্রহণ করাই রাষ্ট্রের তথা নাগরিক গোষ্ঠীর মূল উদ্যোগ হওয়া উচিত। এই কাজ সরকার জরুরী না মনে করলে জনতাকেই দায়িত্ব নিতে হবে। কারণ নাগরিক জীবনের এই করুণ পরিণতি এভাবে চলতে পারে না। সমৃদ্ধ রাষ্ট্র নির্মাণে ব্যক্তিগত কিংবা দলগত বিরোধের সম্ভাবনা অবান্তর। রাষ্ট্র তথা প্রতিটি পরিবারের কল্যাণে সকলের ভূমিকা জরুরী। চলমান ব্যবস্থাতেও নাগরিক সমাজ সম্মিলিত জোরালো দাবী জানালে সরকার পক্ষ বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করবে। তা না করলে নাগরিক সমাজ বিকল্প ব্যবস্থার উদ্যোগ নেবে।

 ***


মার্কসবাদ যেখানে হোঁচট খেয়েছেঃ 


সকলের সমৃদ্ধি সম্ভবঃ


বিস্তারিত জানতে ULM Bangla ইউটিউব চ্যানেল দেখুনঃ

ভাল লাগলে কমেন্ট শেয়ার করতে ভুলবেন না।

।।মতামতে স্বাগত।।

***

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

রাষ্ট্র ব্যবস্থায় যে অধিকারগুলো জন্মগতভাবে থাকা জরুরী

কিউবার ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের কারণ কী?

ব্যবস্থাগত অসম্পূর্ণতা নাকি নেতৃত্বের ব্যর্থতা?