প্রেম কী? প্রেম-সুখ উপভোগের পেছনে মূল বাধা কী? বিচ্ছেদ কি বিষাদের না সুখের? সম্বন্ধ সম্পর্কিত জটিলতার মূল কারণ, রহস্য এবং সমাধান


     

প্রেম হচ্ছে একে অপরের প্রতি সম্বন্ধ। সম্বন্ধ নির্ভর করে দুজনের সম্পর্ক দুজনের প্রতি কতটা 'উপযোগী’। যে যার প্রতি যতখানি উপযোগী’ হবে তাদের মধ্যে ততখানিই সম্বন্ধ থাকবে। এই সম্বন্ধকেই প্রেম অথবা প্রেমের আকর্ষণ বলা হয়ে থাকে। যখন আমরা একে-অপরের উপযোগিতার তাৎপর্য বুঝতে পারি এই ভেবে যে আমাদের সুখ পরস্পরের যোগদান ছাড়া সম্ভব নয় তখনই অন্যের প্রতি আমাদের আকর্ষণ তৈরি হয়। এই আকর্ষণকেই প্রেম বলা হয়। এই উপলব্ধি যে স্তরের হবে সেই স্তরের প্রেম উৎপন্ন হবে। ব্যক্তিগত স্তরে যেহেতু আমরা একা সেহেতু সেখানে সম্পর্ক তৈরির জন্য অন্য কেউ থাকে না। তবে পারিবারিক স্তরের প্রেমকে বোঝার জন্য একটি উদাহরণ নেওয়া যেতে পারে। যখন স্ত্রীর কাছ থেকে স্বামী সুখ পেতে থাকে তখন তার প্রেম হতে থাকে। তখন সে বুঝে যায় স্ত্রীর কাছ থেকে যেমন সুখ পাচ্ছি সেই প্রকার সুখ স্ত্রী ব্যতীত উপভোগ করতে পারব না। সামাজিক স্তরের সুখকেও আমরা একইভাবে বুঝে নিতে পারি। যদিও সামাজিক স্তরের সুখকে অনুভব করা একটু কঠিন হয়ে যায় কেননা বিভিন্ন প্রকার সুখের মধ্যে সমাজের ভিন্ন ভিন্ন যোগদান থাকে। যিনি বুঝতে পারেন তিনিই তা অনুভব করতে পারেন। এইজন্য বলা হয় বাস্তবিক জ্ঞান থেকেই প্রেম উৎপন্ন হয়। যখন আমাদের ভেতর প্রেম উৎপন্ন হবে কেবলমাত্র তখনই তা অনুভব করতে পারব তার আগে নয়। যেমন কোনো একটি অনুভব তখনই হয় যখন সেই বিষয় সম্পর্কিত কোনো ঘটনা ঘটে থাকে। অর্থাৎ অপরের যোগদান ছাড়া আমরা সামান্য সুখই উপভোগ করতে পারি, তাও বহু সংঘর্ষের পর। সুতরাং পারস্পরিক নির্ভরতার জ্ঞান থেকে একে অপরের প্রতি প্রেমের উৎপত্তি হয়ে থাকে। সে বুঝতে পারে অপরের সান্নিধ্য ছাড়া সম্পূর্ণরূপে সুখী হওয়া সম্ভব নয়। আর তখন অপরের গুরুত্বও অনুভব করতে পারে। যার ফলে তার অপরের সাথে প্রেম হয়ে যায়। যেমন বৃক্ষের মূল এবং শাখার সাথে যে সম্বন্ধ সেটিই প্রেমের সম্পর্ক। পারিবারিক সুখ প্রাপ্তির জন্য প্রেমই হচ্ছে আধার। পরিবারের অর্থ হচ্ছে দুই বা অধিক ব্যাক্তি দীর্ঘ সময় অবধি একসাথে থাকা। দীর্ঘ সময় অবধি থাকার ফলে পারিবারিক সুখের উদয় হয়। এইজন্য পরিবার নামক কাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। সাধারণভাবে প্রেমকে বুঝতে হলে এইভাবে জানতে হবে যে কারোর সান্নিধ্য পেয়ে যখন সুখ প্রাপ্ত হচ্ছে এবং তার সাথে ক্রমাগত বসবাস করার ইচ্ছে তৈরি হচ্ছে। যতক্ষণ পর্যন্ত তার ইচ্ছে থাকবে ততক্ষন অবধি সেই সুখও যেন প্রাপ্তি হতে থাকে। এইরকম আকর্ষণকেই প্রেম বলা হয় এবং প্রেমের সাধারণ পরিভাষাও এটিই। কিছুদিন পর সেই সামান্য প্রেম গভীর হতে থাকে। তখন কেবলমাত্র নিজের সুখ প্রাধান্য পায় না বরং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সুখও প্রাধান্য পেতে থাকে। একেই পারিবারিক প্রেম বলে। এরপর প্রেমের বোধ আরো প্রসারিত হলে তা সামাজিক এবং তারপর সমষ্টিগত হতে থাকে। অর্থাৎ ব্যক্তিগত প্রেম, পারিবারিক প্রেম, সামাজিক প্রেম এবং সমষ্টিগত প্রেম। প্রেমের এই চারটি স্তর রয়েছে।


প্রথমতনিজের প্রতি প্রেম,

দ্বিতীয়তপরিবারের প্রতি প্রেম,

তৃতীয়তসমাজের প্রতি প্রেম এবং

চতুর্থতসমষ্টির প্রতি প্রেম।


যে স্তরের জ্ঞান বোধ হবে সেই স্তরের প্রেম হবে এবং যে স্তরের প্রেম হবে সেই স্তরের কর্ম হবে। যে স্তরের কর্ম হবে সেই স্তরের পরিণাম আসবে। যার মাধ্যমে কারোর ব্যক্তিত্ব প্রস্ফুটিত হবে।


 


বিচ্ছেদের বিরহ সইতে না পারিঃ

প্রেম কিংবা বিবাহ পরবর্তী সময় কবে একজন অপরজনকে ছেড়ে যেতে চাইবে সেই দুশ্চিন্তায় বহু মানুষ প্রেম বা বৈবাহিক  সম্পর্কে জড়াতে ভয় পান। হয়তো তারা ভাবেন সম্পর্কে জড়ালে একজনের লাভ হলে অপরজনের ক্ষতি হতে পারে। অথবা দুজনেরই ক্ষতি হতে পারে। দুজনই সমান লাভবান হবেন এমনটি ভেবে কেউই নিশ্চিত হতে পারেন না। অর্থাৎ সম্পর্ক শুরু হবার পূর্বেই মনের ভেতর বহু আনুসঙ্গিক বিষয় ঘুরপাক খেতে থাকে। এমনতর অবস্থায় সম্পর্কে জড়ালেও আশানুরূপ সম্বন্ধসুখ থেকে উভয়ই বঞ্চিত হন। হয়তো এইপ্রকার ভীতির কারণেই বহু মানুষ প্রেম এবং বিবাহের বিষয়টিকেপ্রেমের ফাঁদকিংবাবৈবাহিক বন্ধনবলে ব্যাঙ্গ করে থাকেন। কারণ কে কী প্রকার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রেম অথবা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে চাইছে তা সঠিকভাবে বুঝতে পারা যায় না। আবার, প্রেম কিংবা বিবাহ যে সম্পর্কই হোক না কেন তা থেকে মুক্ত হবার পথে বিপুল ঝক্কি-ঝামেলা পোহাতে হয়। এমনকি জটিল আইনি প্রক্রিয়াও উভয়পক্ষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, আর্থিক,  এমনকি সামাজিক জীবনযাপনের স্বাভাবিকতাকে বিনষ্ট করে ফেলে। এইস্থানে দেখা যাচ্ছে মূলত দুটি মুখ্য সমস্যা উদয় হয়েছে।


এক, বিপরীত সঙ্গীর মনোভাব বুঝতে না পারা, অর্থাৎ ম্যাচিং সঙ্গী-সঙ্গিনী না পাওয়া,


দুই, মাঝপথে কেউ বিচ্ছেদ চেয়ে বসার দুশ্চিন্তা।


যে-কোনো কাজের মত সম্পর্কের পেছনেও যে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য থাকবে এমটিই স্বাভাবিক। তা হতে পারে নিখাদ সম্পর্কজনিত সুখ উপভোগের বাসনা, হতে পারে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের আকাঙ্ক্ষা, হতে পারে একত্রে উভয়দিক থেকে ভোগের কামনা-বাসনা, অথবা থাকতে পারে অন্য কোনো গোপন অভিসন্ধি। দু'টি অভিসন্ধিমূলক সমস্যারই ব্যাখ্যাসহ মূল কারণ এবং স্থায়ী সমাধান প্রদানের প্রচেষ্টা থাকবে এই রচনায়। প্রণয়ঘটিত সমস্যা ছাড়াও পারিবারিক জটিলতার ক্ষেত্রেও একইরকম বুঝে নিতে পারি। অর্থাৎ পারিবারিক কলহ, বিবাদ, বিভাজন, মতামতের ভিন্নতা, অর্থনৈতিক অসন্তোষ, মামলা-মোকদ্দমা, হত্যা-হিংসা ইত্যাদি সমস্যাগুলিরও মূল কারণ এবং স্থায়ী সমাধান থাকবে। প্রেম কিংবা বৈবাহিক সম্পর্কের বাইরেও বিভিন্নপ্রকার সম্পর্ক বিদ্যমান থাকে। সেইসব সম্পর্কগুলি থেকেও আমরা নানাপ্রকার সুখ অনুভব করে থাকি। যেমন মায়ের থেকে মাতৃসুখ, পিতার থেকে পিতৃসুখ, ভাই-বোনের থেকে ভ্রাতৃত্ব সুখ, দাদু-ঠাকুমা-দিদিমার কাছ থেকেও ভিন্নতর সুখ পেয়ে থাকি। এরপর বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়-পরিজন, সহকর্মী ছাড়াও যাদের সাথে যেমন সম্পর্ক তাদের থেকে সেইরূপ সুখ প্রাপ্ত করে থাকি। অর্থাৎ ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, সমষ্টিগত সম্পর্কগুলি থেকে বিভিন্নপ্রকার সুখ অনুভব করে থাকি। সম্পর্কজনিত সুখ পরিপূর্ণভাবে উপভোগের মাঝে যে বিষয়টি প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায় তা হচ্ছে অর্থনৈতিক। আর্থিক পরনির্ভরতা যত অধিক থাকবে সেই সম্পর্কও ততটাই বাধ্যবাধকতার বন্ধনে আবদ্ধ  মধ্যে থাকবে এবং উক্ত সম্পর্ক থেকে সুখের পরিবর্তে দুঃখ অধিক উৎপন্ন হবে।

এবার খানিকটা মনের ভাব নিয়ে কথা যাক। আমাদের মন কী চায়? মনের অভিপ্রায় কী? জীবনের মূল উদ্দেশ্যই বা কী? এই মৌলিক প্রশ্নের উত্তর সম্পর্কে স্পষ্ট হওয়া অত্যন্ত্য জরুরী। জীবনযাপনের সমস্ত কর্মকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সুখী হতে চাওয়া। সকলেই পছন্দের জ্ঞান, কর্ম ভোগের মাধ্যমে সমৃদ্ধশালী জীবন উপভোগ করতে চায়। সকলেই শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান, সুখসুবিধা এবং সুরক্ষিত জীবনযাপন পেতে চায়। জীবনের উদ্দেশ্যও তাই। সুখী এবং সমৃদ্ধশালী জীবনযাপন উপভোগ করতে চাওয়াটা দোষের নয়। সকলে নিজ পছন্দ অনুযায়ী সুখসুবিধার জীবনযাপন উপভোগ করতে চাইবে এমনটিই স্বাভাবিক। প্রতিটি ব্যক্তির পছন্দ-অপছন্দ থাকবে, জীবনযাপনের মধ্যে বৈচিত্র থাকবে এমনটিও স্বাভাবিক। এটি সমস্যা নয়। বরং জীবনে বৈচিত্র থাকলে ক্লান্তি-বিরক্তি-একঘেয়েমি-অবসাদ চেপে ধরে না।

মূল সমস্যা হচ্ছে সকলের জন্য শিক্ষা, কর্মসংস্থান, সুখসুবিধা, সুরক্ষার একসমান সুযোগ না পাওয়া, অর্থাৎ পছন্দ অনুযায়ী জীবনযাপনের বন্দোবস্ত না থাকা। একইসাথে ম্যাচিং সঙ্গী-সঙ্গিনী নির্বাচনের ব্যবস্থা না থাকা। যদি জীবনযাপনের মৌলিক ইচ্ছেগুলি পূরণ হয়ে যায় তবে কেউই অপরের কাছে থেকে সম্পর্কের সুখ ব্যতীত অন্য কিছু প্রাপ্তির আশা করবে না। সেজন্য প্রাথমিক পদক্ষেপ হচ্ছে সকলের জন্য জীবনযাপনের আবশ্যিক দিকগুলিকে সুনিশ্চিত করা। যেন সম্পর্কজনিত সুখ প্রাপ্তির ইচ্ছে ব্যতীত অন্য কিছুর আশায় একজন অপরজনের উপর নির্ভরশীল না থাকে। তবেই চাওয়া-পাওয়ার গোপন অভিসন্ধি থাকবে না। এমনটি সম্ভব হলে তবেই সমস্ত সম্পর্ক প্রেমের আধারে নির্মিত হবে। অর্থাৎ শুধুমাত্রসম্বন্ধ-সুখউপভোগের জন্যই সম্পর্ক স্থাপিত হবে। নানাপ্রকার সম্পর্ক বিষয়ে পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।


বিচ্ছেদ হওয়া উচিত সহজ-সরল

অর্থনৈতিক বিষয়টির সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা পূর্বেই করা হয়েছে।

প্রথমত, উভয়পক্ষ আর্থিক দিক দিয়ে স্বতন্ত্র এবং আত্মনির্ভর হলে পরস্পরের মধ্যে অহংকার বা হিংসার কারণ উৎপন্ন হবে না। এজন্য-

প্রথমতঃ নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের মর্যাদা তথা সমস্ত কর্মের মুল্যাংকন একসমান থাকা উচিত। সেজন্য অসম্পূর্ণ রাষ্ট্র-ব্যবস্থা সমস্যার মূল কারণ। একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা নির্মাণের উদ্দেশ্যে জাতি-ধর্ম ও দলমত নির্বিশেষে সকল স্তরের মানুষের উদ্যোগ ও যোগদান জরুরী। ফলে সকল কর্মীর মুল্যাংকনও একসমান থাকা উচিত। একজনের ৫ হাজার অপরজনের লাখ এই অন্যায় এবং বৈষম্য চলমান থাকলে গোপন অভিসন্ধির খেলা চলতেই থাকবে। সম্পর্কগুলোও প্রকৃত সুখ উপভোগ থেকে বঞ্চিত হতে থাকবে।

দ্বিতীয়ত, ম্যাচিং সঙ্গী-সঙ্গিনীর নির্বাচনের বিষয়টি বুঝে নেওয়া জরুরী। পছন্দসই সঙ্গী-সঙ্গিনী কিংবা জীবনসাথী পেলে মতভেদের বিষয়টি আর সমস্যা হিসেবে থাকবে না। এক্ষেত্রে আর্থিক বৈষম্যের মূল বাধাটি নির্মূল হয়ে গেলে, অর্থাৎ প্রতিটি নারী-পুরুষ আত্মনির্ভরশীল হলে সম্পর্কে জড়ানোর পূর্বে গোপন অভিসন্ধির দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকবে না। বরং কাউকে ভাললাগলে নিজেদের সম্মতিতেই সম্পর্ক তৈরি হবে। বাধ্যবাধকতাবিহীন সম্পর্কের মধ্যেই বাস্তবিক প্রেম থাকে যা কেবলমাত্র পরস্পরের সম্মতির উপর নির্ভর করে। যদি সম্পর্কের বিজ্ঞানকে বুঝতে চাই তাহলে জানা যাবে আমরা নানারকম সম্বন্ধ থেকে ভিন্ন ভিন্ন সুখ উপভোগের জন্যই সম্পর্ক তৈরি করে থাকি। সম্পর্কের সুখ আমরা এমনতর পরিবেশ থেকেই পূর্ণরূপে গ্রহণ করতে পারি যেখানে কোনোপ্রকার বাধ্যবাধকতা থাকে না, ভয় থাকে না, দুশ্চিন্তা থাকে না। আমাদের সম্পর্ক শুধুমাত্র সেইসব সুখ উপভোগের জন্যই তৈরি হোক যার জন্য আমরা সম্পর্ক স্থাপন করতে চাই। সঠিক সম্পর্ক কেবলমাত্র তখনই সম্ভব হবে যখন পরস্পরের প্রতি আকর্ষণ অথবা প্রেমের অনুভব থাকবে। অপরদিকে স্ত্রী-পুরুষ সকলে আর্থিক দিক দিয়ে স্বতন্ত্র হলে একে অপরের প্রতি কেউ মালিকানা মনোভাব দেখাবে না। তখন একে অপরের সাথে থাকার একটিই কারণ এবং  প্রয়োজন থাকবে তা হল বাস্তবিক প্রেম। সম্পর্কের কোনো সময়সীমা থাকা উচিত নয়। যতদিন প্রেম রয়েছে একসাথে থাকবে। যখন প্রেম সমাপ্ত হবে তখন সম্পর্কও সমাপ্ত হবে। যখন সম্পর্ক সমাপ্ত হবে তখন সহাবস্থানও সমাপ্ত হবে। যার সাথে প্রেম অনুভব হবে তার সাথে জীবন কাটাবে। ফলে কোনো সমস্যা ছাড়াই সকলের জীবন সুখপূর্ণভাবে চলতে থাকবে।



বিচ্ছেদও পরস্পরের সুখের জন্যইঃ

সম্পর্ক যখন প্রত্যক্ষ কিংবা অপ্রত্যক্ষভাবে বাধ্য হয়ে তৈরি হয় তখন সেই সম্পর্ক দাসত্বের জন্ম দেয়, বন্ধন তৈরি করে। সন্তুষ্টি প্রদান করে না।  এই বিষয়টি পরস্পরকেই নিশ্চিত করতে হবে যে সে কার সাথে, কেমনভাবে, কতক্ষণ, কতদিন সম্পর্ক রাখতে চায়। বিষয়টিকে অত্যন্ত্য গুরুত্বসহ দেখা উচিত যেন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কেউই অপরের উপর বাধ্য না থাকে। যদি সম্পর্ক থেকে কেউ বেরিয়ে যেতে চায় তবে অপরপক্ষ যেন স্বাভাবিকভাবেই তা স্বীকার করে নিতে পারে। কোনোপ্রকার জটিলতা যেন না থাকে। জটিলতা উৎপন্ন হলে সে অপরজনকে যেমন  দুঃখী করে তুলবে তেমনই নিজেও সুখী হতে পারবে না। এমনটি হলে আমাদের সম্পর্কগুলি সার্বিকভাবে গ্রহণযোগ্য হবে। বিচ্ছেদের সময় দ্বন্দ্ব কেন উৎপন্ন হয়? সম্বন্ধ সমাপ্ত করতে তখনই অসুবিধে হয় যখন আমাদের কাছে কোনো বিকল্প থাকে না। যেহেতু এই পরিবর্তনশীল সংসারে আমাদের রুচি প্রতিনিয়ত বদলাতে থাকে সেইজন্য সবকিছুই যদি পরিবর্তনশীল রাখা যায় তবেই অধিক সুখময় হবে। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নিরন্তর পরিবর্তনশীল থাকা উচিত। বিশেষ করে সম্পর্কের ক্ষেত্রে তো অধিক সংবেদনশীল থাকা উচিত যেন একে অপরের প্রতি উদাসীনতা পরিলক্ষিত না হয়। উদাসীনতা সত্ত্বেও যদি আমরা সম্পর্ক ধরে রাখি অথবা অপরজনকে বাধ্য করে থাকি তবে এটিই বুঝে নিতে হবে আমরা আসলে দুঃখকেই নিমন্ত্রণ করছি। দুজনার সম্পর্ক থেকে যদি একজন দুঃখ অনুভব করে তবে অপরজনকে সহায়তা করা উচিত। অপরের অসুবিধা উৎপন্ন হচ্ছে ভেবে সরে আসা উচিত কিংবা বিচ্ছেদ করে নেওয়া উচিত। 

আর্থিক ও ম্যাচিং দুটি সমস্যারই মূল কারণ এবং সমাধান থাকলেও বর্তমান ব্যবস্থায় তা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে শিক্ষা ব্যবস্থার উদ্যোগ একটি বড় দায়িত্ব। বয়ঃসন্ধির সময়কালে শারীরিক-মানসিক দিকগুলোকে জানতে-বুঝতে পারা জরুরী। পাশাপাশি সম্মন্ধের কারণ, সমস্যার কারণ এবং বিচ্ছেদের বিষয়গুলো আগাম জানা থাকলে উভয়ের পক্ষে উভয়কে নির্বাচিত করা যেমন সহজ হবে তেমনই পরস্পরের প্রতি সহযোগী হয়ে উঠতে সহায়তা করবে। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের জন্য শিক্ষা, কর্মসংস্থান, সুখসুবিধা সুরক্ষার একসমান সুযোগসুবিধার নিরিখে রাষ্ট্র-ব্যবস্থার নীতি প্রণয়ন এবং ব্যবস্থাগত পরিকাঠামো নির্মাণ জরুরী। এতে জাতি-ধর্ম-দলমত নির্বিশেষে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিক সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ, চিন্তন-মনন আবশ্যক। 

মতামত জানাতে স্বাগত। 

***


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

রাষ্ট্র ব্যবস্থায় যে অধিকারগুলো জন্মগতভাবে থাকা জরুরী

কিউবার ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের কারণ কী?

ব্যবস্থাগত অসম্পূর্ণতা নাকি নেতৃত্বের ব্যর্থতা?