নারীর প্রকৃত স্বাধীনতা কী?
আগামীকাল ৮ই মার্চ "আন্তর্জাতিক নারী দিবস"
অনেকেই এ বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন যে ULM সংস্থা দ্বারা প্রস্তাবিত নতুন ব্যবস্থায় মহিলাদের জীবনযাত্রার যে আমূল পরিবর্তন ও সুবিধার কথা বলা হয়েছে তার যেন বিস্তারিত আলোচনা উপস্থাপন করি। শুধুমাত্র নারীদের জীবনযাত্রা বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা পূর্বে ফেসবুকে এভাবে কখনও লিখিনি। এই নীতি একটি সামগ্রিক রাষ্ট্র-ব্যবস্থার অঙ্গ। চলমান সরকারও এই পলিসি গ্রহণ ও প্রয়োগ করতে পারে। এই ব্যবস্থায় নারীদের সামগ্রিক বন্ধন থেকে মুক্তির বিষয়টি একটি বৈপ্লবিক সামাজিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। এর ফলে সমাজে যে ধরণের পরিবর্তন আসবে তা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
•অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা:
বর্তমানে অধিকাংশ নারী বাবা, স্বামী বা ছেলের ওপর অর্থনৈতিকভাবে নির্ভরশীল। নতুন ব্যবস্থায় যেহেতু কোনো আর্থিক লেনদেন নেই এবং প্রত্যেকে সরাসরি ব্যবস্থার (System) কাছে নিজের চাহিদার কথা জানাতে পারেন, তাই নারীদের আর কারও ওপর নির্ভরশীল থাকতে হবে না। এর ফলে সমাজে যৌতুক প্রথার মতো সামাজিক অভিশাপও চিরতরে নির্মূল হবে।
•পারিবারিক শ্রমের বোঝা থেকে মুক্তি ও দক্ষতা বৃদ্ধি:
বর্তমানে প্রতিটি পরিবারে একজন মহিলাকে চার-পাঁচজন সদস্যের রান্নার ভার বইতে হয়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১,০০০ জন মানুষের জন্য বর্তমানে বাড়িতে প্রায় ২৫০ জন মহিলা রান্না করেন, কিন্তু এই ব্যবস্থায় কমন কিচেন বা গোষ্ঠীগত রান্নাঘর থাকায় মাত্র ১০ জন মানুষ আধুনিক মেশিনের সাহায্যে সেই কাজ সম্পন্ন করবেন। রান্নার পাশাপাশি বর্তমানে একজন মহিলাকে ঘর পরিষ্কার, বাসন মাজা, কাপড় ধোয়া এবং সন্তানদের দেখাশোনা করার মতো অসংখ্য কাজ একা হাতে সামলাতে হয়। নতুন ব্যবস্থায় এই ভারী কাজগুলো (যেমন রান্না ও কাপড় ধোয়া) আর বাড়িতে করতে হবে না। এর ফলে নারীরা দীর্ঘদিনের এই একঘেয়ে শ্রম থেকে মুক্তি পাবেন।
•পেশাগত ও সৃজনশীল বিকাশ:
গৃহস্থালির কাজের চাপ না থাকায় নারীরা তাদের রুচি বা পছন্দের (Interest) ভিত্তিতে পেশাগত কাজ করার সুযোগ পাবেন। সপ্তাহে মাত্র ২৫ ঘণ্টা (দিনে ৫ ঘণ্টা) কাজ করার নিয়ম থাকায় তারা নিজেদের শখ পূরণ, জিম, বিনোদন বা পড়াশোনার জন্য প্রচুর সময় পাবেন। এটি তাদের একাধারে একজন দক্ষ কর্মী এবং সৃজনশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে।
•পারিবারিক সম্পর্কের উন্নতি:
টাকা-পয়সার অভাব বা গৃহস্থালির কাজের চাপ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যে তিক্ততা ও বিবাদ তৈরি হয়, এই ব্যবস্থায় তার অবসান ঘটবে। মহিলারা আর শুধু ঘর দেখাশোনা করার জন্য 'সংরক্ষিত' থাকবেন না, বরং একজন স্বাধীন সত্ত্বা হিসেবে সমাজে মর্যাদা পাবেন।
•সামাজিক ক্ষমতায়নের প্রয়োজনীয়তা বিলোপ:
এই ব্যবস্থায় নারী ও পুরুষ উভয়েরই সমান অধিকার থাকবে এবং প্রত্যেকে তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সেরা সুবিধা পাবে। ফলে আলাদা করে 'নারী ক্ষমতায়ন' বা এ জাতীয় প্রচারণার আর কোনো প্রয়োজন থাকবে না কারণ বৈষম্যের মূল কারণ অর্থাৎ অর্থ এবং শ্রমের অসম বণ্টন এই ব্যবস্থায় থাকছে না।
সামগ্রিকভাবে, গৃহস্থালির শ্রম থেকে মুক্তি নারীদের কেবল ঘরবন্দি জীবন থেকেই বের করে আনবে না, বরং তাদের সমাজের একজন সমান অংশীদার এবং সুখী মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।
কমন কিচেন বা গোষ্ঠীগত রান্নাঘর কী?
এই ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো কমন কিচেন, যা ব্যক্তিগত রান্নার ঝামেলা দূর করবে।
•পরিচালনা ও দক্ষতা:
প্রতি ১,০০০ জন মানুষের জন্য আবাসনের নিচে একটি করে কমন রেস্তরাঁ বা কিচেন থাকবে। বর্তমানে ১,০০০ জন মানুষের জন্য বাড়িতে প্রায় ২৫০ জন মহিলাকে রান্না করতে হয়, কিন্তু এই ব্যবস্থায় মাত্র ১০ জন কর্মী এবং স্বয়ংক্রিয় রান্নার মেশিন বা মডার্ন কুকিং অ্যাপ্লায়েন্স এর সাহায্যে সকলের জন্য উন্নত মানের খাবার তৈরি করা সম্ভব হবে।
•খাবারের বৈচিত্র্য:
এখানে প্রতিদিন ১৫ থেকে ৩০ ধরনের আইটেম থাকবে, অনেকটা বিয়ে বাড়ির ভোজের মতো । যার যা ইচ্ছে তা সেখানে গিয়ে খেয়ে আসতে পারবেন।
•সম্পদ সাশ্রয়:
ব্যক্তিগত বাড়িতে আর রান্নাঘরের (Kitchen) প্রয়োজন হবে না, ফলে যায়গার সাশ্রয় হবে। এছাড়া আলাদা করে উনুন, বাসনপত্র বা গ্যাস সিলিন্ডারের প্রয়োজন না থাকায় প্রাকৃতিক সম্পদেরও অপচয় কমবে।
•গুণমান নিয়ন্ত্রণ:
একটি অনলাইন রেটিং সিস্টেম থাকবে। যদি কোনো কিচেনের খাবার খুব ভালো হয়, তবে সেখানকার রেসিপি বা পদ্ধতি শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে অন্য কিচেনগুলোতেও ছড়িয়ে দেওয়া হবে যাতে সবাই সেরা পরিষেবা পায়।
•আগ্রহী রাঁধুনি:
নারী কিংবা পুরুষ যারা রান্না করতে ভালোবাসেন, তারা তাদের আগ্রহের ভিত্তিতেই এই কিচেনগুলোতে কাজ করতে পারবেন, রান্নার ট্রেনিং নিতে পারবেন, ফলে খাবারের মান সবসময় ভালো থাকবে।
সংক্ষেপে, এই ব্যবস্থা মহিলাদের গৃহস্থালির কাজের বোঝা কমিয়ে তাদের একজন স্বাধীন ও সৃষ্টিশীল মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করবে।
কমন কিচেনে খাবারের মেনু কে এবং কীভাবে নির্ধারণ করবে?
ইউনিভার্সাল লাইফ ম্যানেজমেন্টের (ULM) প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় কমন কিচেনের খাবারের মেনু নির্ধারণ প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ বিজ্ঞানসম্মত এবং জনগণের চাহিদার ওপর নির্ভরশীল। এমনকি নাগরিক স্বাস্থ্য, মরশুম, সহজলভ্যতা এবং সমাজের পছন্দের দিকটিও বিবেচিত হবে। এই প্রক্রিয়াটি যেভাবে কাজ করবে তার মূল দিকগুলি নিচে তুলে ধরা হলো:
•ভোক্তাদের চাহিদা ও পছন্দ:
এই ব্যবস্থায় টাকা-পয়সার লেনদেন না থাকায় মানুষ সরাসরি ব্যবস্থার কাছে তাদের চাহিদার কথা জানাবে। খাবারের মেনু মূলত জনগণের চাহিদা এবং রুচির ওপর ভিত্তি করে তৈরি হবে।
•বিশেষজ্ঞ ও আগ্রহী রাঁধুনি:
যারা রান্না করতে ভালোবাসেন এবং যাদের রান্নায় বিশেষ দক্ষতা আছে, তারাই এই কমন কিচেনগুলোতে কাজ করবেন। তারা তাদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সেরা মেনুগুলো নির্বাচন করবেন। ফলে খাবারের স্বাদ, পুষ্টিগত মান, সঠিক উপাদানের পরিমাণ ইত্যাদি যথাযথ থাকবে।
•অনলাইন রেটিং সিস্টেম:
কিচেনের খাবারের মান এবং মেনু নিয়ে একটি অনলাইন রেটিং বা রিভিউ ব্যবস্থা থাকবে। যদি কোনো বিশেষ কিচেনের কোনো নির্দিষ্ট খাবার খুব জনপ্রিয় হয় এবং উচ্চ রেটিং পায়, তবে সেই তথ্য সিস্টেমের কাছে চলে যাবে।
•সেরা রেসিপির বিনিময়:
যে খাবারের রেসিপি বা মেনু উচ্চ রেটিং পাবে, শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সেই পদ্ধতি অন্য সব কিচেনেও ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এর ফলে প্রতিটি কিচেনে সেরা মানের মেনু নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
•মেনুর বৈচিত্র্য:
প্রতিদিনের মেনুতে প্রায় ১৫ থেকে ৩০ ধরনের পদ (Items) থাকবে, অনেকটা বড় কোনো অনুষ্ঠানের ভোজের মতো। যার যা পছন্দ, তিনি সেই পদটিই গ্রহণ করতে পারবেন।
•গুণমান নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহিতা:
যদি কোনো কিচেনের মেনু বা খাবারের মান খারাপ হয়, তবে গ্রাহকরা নেতিবাচক রেটিং (Negative Rating) দিতে পারবেন। যদি ১০% এর বেশি মানুষ অসন্তোষ প্রকাশ করে, তবে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের জবাবদিহি করতে হবে বা প্রয়োজনে তাদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। অনলাইন সিস্টেম ব্যবহারের ফলে অভিযোগ নিষ্পত্তি দ্রুত সম্পন্ন হবে।
সংক্ষেপে, কমন কিচেনের মেনু কোনো একজন ব্যক্তি এককভাবে চাপিয়ে দেবে না; বরং এটি জনগণের পছন্দ, দক্ষ রাঁধুনিদের সৃজনশীলতা এবং প্রযুক্তিগত রেটিং সিস্টেমের মাধ্যমে সম্মিলিতভাবে নির্ধারিত হবে। এই ব্যবস্থাপনা দেশের সকল প্রদেশের বিভিন্ন সমাজের পছন্দ অনুযায়ী হবে।
এবার, ইউনিভার্সাল লাইফ ম্যানেজমেন্ট (ULM) প্রস্তাবিত 'সম্পূর্ণ সমাধান ব্যবস্থা' কী এবং এটি কিভাবে কাজ করবে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলোঃ
ইউনিভার্সাল লাইফ ম্যানেজমেন্ট (ULM) সংস্থার প্রস্তাবিত 'সম্পূর্ণ সমাধান ব্যবস্থা' (The Complete Solution System) হলো ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক এবং বৈশ্বিক পর্যায়ের সকল সমস্যার মূল থেকে সমাধানের একটি সামগ্রিক কাঠামো। এটি মূলত একটি নতুন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় মডেল যা মানুষের বর্তমানের ৯৯% সমস্যার স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে চায়। এই ব্যবস্থাটি ছয়টি প্রধান অঙ্গ— অর্থনীতি, শিক্ষা, রাজনীতি, পরিবার, সমাজ এবং দর্শনের সমন্বয়ে গঠিত।
এই ব্যবস্থাটি যেভাবে কাজ করে তার মূল বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
১. মুদ্রামুক্ত বা অর্থবিহীন অর্থনীতি (Money-free Economics)—
এই ব্যবস্থার সবচেয়ে বৈপ্লবিক দিক হলো টাকা বা মুদ্রার লেনদেন পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া। ইউএলএম সংস্থার মতে, বর্তমানের অধিকাংশ দুর্নীতি, অপরাধ এবং অভাবের মূলে রয়েছে টাকা। তবে বস্তু-পরিষেবার ইউনিট বা উপাদান ও শ্রমের বিকল্প গণনা পদ্ধতি থাকবে।
•চাহিদাভিত্তিক উৎপাদন:
মানুষ বস্তু-পরিষেবা বাজার থেকে কেনা-বেচার বদলে সরাসরি একটি অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে ব্যবস্থার (System) কাছে তাদের চাহিদা (Demand) জানাবে।
•বিনামূল্যে সরবরাহ:
টাকা না থাকায় কোনো কিছুর মূল্য বা কারোর বেতন থাকবে না। চাহিদার ভিত্তিতে সর্বোচ্চ উৎপাদন করে তা সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
২. শ্রম ও কাজের কাঠামো—
টাকা না থাকলে মানুষ কেন কাজ করবে, তার সমাধান হিসেবে এখানে কিছু নিয়ম রাখা হয়েছে:
•কাজের বয়স ও সময়:
কেবল ২৫ থেকে ৫০ বছর বয়সী সুস্থ নারী ও পুরুষদের একটি জীবিকা সম্পাদন করা বাধ্যতামূলক থাকবে। তাদের দিনে মাত্র ৫ ঘণ্টা এবং সপ্তাহে ৫ দিন কাজ করতে হবে।
•আগ্রহভিত্তিক কাজ:
মানুষকে তাদের রুচি বা পছন্দের (Interest) ভিত্তিতে কাজ দেওয়া হবে, ফলে কাজ আর বোঝা মনে হবে না বরং এটি হবে একটি সৃজনশীল সুখের উৎস।
৩. রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও জনগণের ক্ষমতা—
এখানে ক্ষমতা ৫ বছরে একবার ভোট দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং ২৪ ঘণ্টা জনগণের হাতে ক্ষমতা থাকবে।
•অনলাইন রেটিং সিস্টেম:
সরকারি প্রতিনিধি বা কর্মীদের প্রতিটি কাজের ওপর জনগণ অনলাইন রেটিং দেবে।
•সরাসরি প্রত্যাহার:
যদি কোনো কর্মীর কাজের ওপর ১০% মানুষ অসন্তুষ্ট হয়ে নেতিবাচক রেটিং দেয়, তবে তাকে তৎক্ষণাৎ পদচ্যুত করা হবে।
৪. ব্যক্তিগত মালিকানার বিলোপ ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা—
চলমান ব্যবস্থায় ব্যক্তি মালিকানাধীন সম্পদ মানুষের শোষণ-বঞ্চনার অন্যতম হাতিয়ার। নতুন ব্যবস্থায় ব্যক্তি সম্পদের মালিকানা একদিকে যেমন থাকবে না অপরদিকে প্রয়োজনও পড়বে না।
•ব্যক্তিগত সম্পত্তির অবসান:
জমি, ঘর-বাড়ি বা যানবাহনের মতো কোনো বস্তুরই ব্যক্তিগত মালিকানা থাকবে না। সমস্ত প্রাকৃতিক ও মানব সম্পদ ব্যবস্থার অধীনে থাকবে এবং জনগণ তা প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করবেন।
•দীর্ঘস্থায়ী পণ্য উৎপাদন:
মুনাফার কোনো বিষয় না থাকায় সম্পদ সাশ্রয়ের জন্য অত্যন্ত উন্নত ও দীর্ঘস্থায়ী (Long-lasting) পণ্য (যেমন ১০০ বছর চলবে এমন বাল্ব বা গাড়ি) তৈরি করা হবে। এতে সম্পদ ও শ্রম উভয়ের সাশ্রয় হবে।
৫. সামাজিক ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন—
এই ব্যবস্থায় নারীদের গৃহস্থালির শ্রম থেকে মুক্তির বিষয়টি একটি বৈপ্লবিক সামাজিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
•কমন কিচেন:
নারীদের গৃহস্থালির শ্রম থেকে মুক্তি দিতে প্রতি ১,০০০ জন মানুষের জন্য আধুনিক কমন রেস্টুরেন্ট বা কিচেন থাকবে, যেখানে বিভিন্ন স্বাদের পুষ্টিকর খাবার পাওয়া যাবে।
•পরীক্ষাহীন শিক্ষা:
শিক্ষা ব্যবস্থায় কোনো পরীক্ষা বা নম্বরের চাপ থাকবে না। ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত সবাই নিজের আগ্রহের বিষয় নিয়ে পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবে। প্রশিক্ষণ শেষে সকল শিক্ষার্থীর জীবিকার সুনিশ্চিত ব্যবস্থাপনা রয়েছে।
•অপরাধমুক্ত সমাজ:
যেহেতু সবকিছু চাহিদামত পাওয়া যাবে এবং ব্যক্তিগত মালিকানা থাকবে না, তাই চুরি, ডাকাতি, দুর্নীতি বা জালিয়াতির মতো অপরাধের কোনো কারণ থাকবে না।
সংক্ষেপে, এই ব্যবস্থাটি ব্যক্তিগত স্বার্থের বদলে সহযোগিতা এবং প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে একটি অভাবমুক্ত, বৈষম্যহীন এবং সুখী পৃথিবী গড়ার লক্ষ্য রাখে। নিচে এই বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে।
সকলে সমানরূপে সুখী হবে, এই বাক্যটি শুনলে ব্যবস্থাটিকে স্বপ্নের মতো মনে হলেও বিষয়টি সকলে যতই বুঝতে পারছে ততই একটি বিকল্প ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা সকলের কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠছে এবং বিস্তারের পরিধি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটি বিশ্বের জনমত দ্বারা অনুমোদিত দ্রুততম বাস্তবোচিত ব্যবস্থা হতে চলেছে। নানা বিভাগের বহু বুদ্ধিমান ব্যক্তিবর্গ ও সমাজকর্মীরা সোশ্যাল মিডিয়, লেখনী, নিউজ চ্যানেল এবং মঞ্চানুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ব্যবস্থার আলোচনা ও প্রচার করে চলেছেন। ব্যবস্থা পূর্বেও একাধিকবার বদলেছে। পুনরায় জনগণের সমর্থন প্রবল হলে বাস্তবায়নের সমস্যা উৎপন্ন হবে না। সংস্থার দাবী প্রস্তাবনাটি জনগণের কাছে দ্রুত পৌঁছে দিতে নাগরিক সমাজ অগ্রণী হোক, সম্মিলিত সিদ্ধান্ত গৃহীত হোক। নতুন ব্যবস্থার রূপরেখাটির পর্যালোচনা ও সমীক্ষার জন্য সকলে স্বাগত।
পুস্তকে বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে।
ভাল লাগলে লাইক কমেন্ট শেয়ার করতে ভুলবেন না।
যোগাযোগ- 9830925502
***



মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন