কৃষকের সমস্যার সমাধান কীভাবে সম্ভব?
ছবিটি
কোথাকার জানিনা তবে যেখানকারই হোক
বিষয়টি সকলের জানা। একাধিক প্রদেশে একাধিক ফসলের ক্ষেত্রে এমনটি ঘটে। কৃষক ফসল হয় সস্তায় বিক্রি
করতে বাধ্য হয় নাহয় ফেলে দিতে হয়।
যে বিষয়টি নিয়ে এই সমস্যা দেখা
দেয় তা হল চাহিদা এবং
উৎপাদনের ভারসাম্য না থাকা। উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে চাহিদা কমে
যায় আবার উৎপাদন কমে গেলে চাহিদা বেড়ে যায়। এই হচ্ছে সমস্যা। কৃষক যে ফসল চাষ করছেন বা করবেন বলে সিদ্ধান্ত
নিয়েছেন তার বিক্রয়মূল্য নিয়ে আগাম নিশ্চয়তা না থাকা।
এটি পলিসির ব্যাপার। সঠিক পলিসি
যে কোনও সরকার গ্রহণ করতে পারে। যেহেতু আমরা সিস্টেমের পলিসি নিয়ে কাজ করি সেহেতু ইউনিভার্সাল
লাইফ ম্যানেজমেন্ট (ULM) বা ‘সম্পূর্ণ সমাধান’
ব্যবস্থায় চাহিদা এবং উৎপাদনের ভারসাম্য
বজায় রাখার প্রক্রিয়াটি কেমন থাকবে তা আলোচনা করেছি।
এই ব্যবস্থায় মূলত
মুনাফাভিত্তিক বাজার ব্যবস্থার পরিবর্তে একটি প্রযুক্তিনির্ভর ও
বিজ্ঞানসম্মত পরিষেবা ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হবে। এই ভারসাম্য
রক্ষার মূল পদ্ধতিগুলো নিচে
বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
এই
ব্যবস্থায় বাজারের অনুমানের ভিত্তিতে উৎপাদন না করে সরাসরি
জনগণের চাহিদার ভিত্তিতে উৎপাদন করা হবে। নাগরিকরা
একটি কেন্দ্রীয় অনলাইন পোর্টাল বা ডিজিটাল অ্যাপ্লিকেশনের
মাধ্যমে তাদের প্রয়োজনীয় পণ্য ও পরিষেবার
চাহিদা জানাবেন। সরকার এই ১০০ শতাংশ
চাহিদাকে সামনে রেখেই ব্যবস্থা ১০০ শতাংশ উৎপাদন
পরিকল্পনা করবে, ফলে কোনো সম্পদের
অপচয় হবে না।
একটি
অত্যাধুনিক কেন্দ্রীয় সফটওয়্যার সিস্টেম রিয়েল-টাইম ডাটা ব্যবহার
করে চাহিদা, উৎপাদন এবং বিতরণের মধ্যে
সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখবে। সম্পদ
বণ্টনের জটিলতা নিরসনের জন্য এই ব্যবস্থা
লিনিয়ার প্রোগ্রামিং (Linear
Programming) এবং অপ্টিমাইজেশান থিওরির মতো উচ্চতর গাণিতিক
পদ্ধতি ব্যবহার করবে, যা প্রাকৃতিক সম্পদ,
মানব সম্পদ এবং মেশিনের ক্ষমতার
সাথে নাগরিক চাহিদার ভারসাম্য রক্ষা করবে।
বিশেষ
করে ৬-৮ মাসের
রূপান্তরকালীন প্রস্তুতি পর্বে, সরকার বিভিন্ন সমীক্ষার মাধ্যমে সম্ভাব্য চাহিদার একটি সঠিক ধারণা
তৈরি করবে এবং সেই
অনুযায়ী কৃষক ও কোম্পানিগুলোকে
সুনির্দিষ্ট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা প্রদান করবে। উৎপাদন বাড়াতে সরকার প্রয়োজনীয় জমি, যন্ত্রপাতি এবং
ঋণ সরবরাহ করবে এবং উৎপাদনের
সম্পূর্ণ গ্যারান্টি রাষ্ট্র বহন করবে।
এই
ব্যবস্থায় ২৫ থেকে ৫০
বছর বয়সী সকল সুস্থ নাগরিকদের
জন্য তাঁদের পছন্দ অনুযায়ী কাজ করা বাধ্যতামূলক।
গাণিতিক মডেলের মাধ্যমে রিয়েল-টাইমে নির্ধারিত হবে যে কোনো
নির্দিষ্ট সময়ে কোন বিভাগে
কতজন কর্মীর প্রয়োজন, যা উৎপাদন ও
চাহিদার ভারসাম্য রক্ষায় সাহায্য করবে। এছাড়া এই ব্যবস্থায় অপ্রয়োজনীয় পেশাগুলো যেমন— ব্যাংকিং, বীমা, দালালি, শেয়ার মার্কেট ইত্যাদি
বিলুপ্ত হয়ে যাবে ফলে বিশাল জনশক্তি সরাসরি পণ্য উৎপাদনে নিয়োজিত
হতে পারবে।
মুনাফার
উদ্দেশ্য না থাকায় অত্যন্ত
উন্নত এবং দীর্ঘস্থায়ী (Long-lasting) পণ্য তৈরি করা
হবে, যা বারবার তৈরির
প্রয়োজন কমিয়ে শ্রম ও সম্পদের
সাশ্রয় ঘটাবে। এছাড়া ব্যবহৃত পণ্যগুলো রিসাইক্লিং বা পুনর্ব্যবহারের জন্য
পুনরায় ব্যবস্থার কাছে ফেরত নেওয়া
হবে, যা প্রাকৃতিক সম্পদের
ওপর চাপ কমাবে এবং
জোগানের স্থিতিশীলতা বজায় রাখবে।
যেসব
পণ্যের উৎপাদন কম বা ঘাটতি
রয়েছে, সেগুলো ব্যক্তিগত মালিকানায় না দিয়ে শেয়ারিং
পদ্ধতি (Sharing Model)
বা সামাজিক স্তরে ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হবে। এর
ফলে সীমিত সম্পদ দিয়েও সমাজের সকলের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব
হবে।
এই
ব্যবস্থায় জিডিপি-র
পরিবর্তে সমস্ত বস্তু-পরিষেবা, নেতৃত্ব, আধিকারিক
ও সকল কর্মীর সমৃদ্ধির
মাপকাঠি হবে ‘সন্তুষ্টি সূচক
মান’। যা জনগণ যে কোনো সময় সরাসরি অনলাইন
মাধ্যমে প্রদান করতে পারবে। ফলে বস্তু-পরিষেবার ত্রুটি দ্রুত সংশোধন করা সম্ভব হবে।
মানুষের ক্ষেত্রে সমস্যার কাউন্সেলিং করা হবে এবং অযোগ্যতা প্রমাণিত হয়ে তৎক্ষণাৎ বরখাস্ত
হবেন ও যোগ্যতা অনুযায়ী ভিন্ন পদে স্থানাতরিত হবেন।
অর্থাৎ
গাণিতিক অ্যালগরিদমগুলো
অনবরত নাগরিকদের দেওয়া অনলাইন রেটিং বিশ্লেষণ করবে এবং যদি
কোনো বিশেষ ক্ষেত্রে সন্তুষ্টির মান কমে যায়,
তবে ব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই ত্রুটি সংশোধন
করে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পরিবর্তন করবে।
সংক্ষেপে, এই ব্যবস্থায় মুদ্রার
পরিবর্তে ডাটা এবং গাণিতিক
লজিক ব্যবহার করে উৎপাদন ও
বিতরণ নিয়ন্ত্রণ করা হবে, যা
একদিকে সম্পদের অপচয় বন্ধ করবে
এবং অন্যদিকে প্রতিটি নাগরিকের চাহিদা পূরণ সুনিশ্চিত করবে।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন