রাজনৈতিক বিষয়ক প্রশ্নোত্তর পর্ব

 


দিন দুয়েক পূর্বে নরেশ বাবু একটি প্রশ্ন শেয়ার করেছিলেন।

"একজন রাজনৈতিক নেতা বা নেত্রী আগামী প্রজন্মের কাছে যদি আদর্শ হয়ে উঠতে চায়, তবে তার করণীয় কী?"

আমার প্রাথমিক উত্তর ছিলঃ
"সৎ, আদর্শবান নেতৃত্ব পূর্বেও রাজনীতিতে এসেছেন ও উন্নয়নের সুযোগ পেয়েছেন। বলা যায় জনতা ভরসা করে সুযোগ দিয়েছে। এমন অনেক নেতৃত্ব আছেন যারা দুর্নীতি করেননি। তারপরও সমাধান সম্ভব করে উঠতে পারেননি কেন? অনেকে বলবেন- অধিকাংশ দুর্নীতিগ্রস্ত হলে এমন হবেই। এখানেই প্রশ্ন ওঠে তাহলে উপায় কী? এ তো গেল নেতৃত্বের কথা। অপরদিকে এমন উদাহরণও আছে যেখানে সামাজিক আন্দোলন রাজনৈতিক দল গড়ে ক্ষমতা পেয়েও চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। যেমন, জেপি আন্দোলনের সম্পূর্ণ ক্রান্তি (রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষাগত, সাংস্কৃতিক, বৌদ্ধিক ও আধ্যাত্মিক বিপ্লব)। এই আন্দোলনের মূল মন্ত্র "সম্পূর্ণ বিপ্লব" (Total Revolution) সামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামোতে আমূল পরিবর্তন আনতে ব্যর্থ হয়। এছাড়া, আন্দোলনের পর গঠিত জনতা পার্টির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও অস্থিতিশীলতা আন্দোলনের আদর্শকে ধরে রাখতে পারেনি। সমীক্ষা হিসেবে জানালাম। মূল বিষয় হচ্ছে এই সময়ে কোন উপায় গ্রহণ করলে সমাধান সম্ভব হবে। সকলে মতামত-সিদ্ধান্ত জানাতে পারেন। এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্যে আলোচনাই বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।"
(এরপর এই বিষয়ে উনি আজ একটি ভিডিও করেছেন। আমি তা দেখেছি এবং আমার মন্তব্য রেখেছি। প্রসঙ্গ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভিডিও লিংক কমেন্ট বক্সে থাকবে। আপনারাও মতামত রাখতে পারেন।)
"আমার মন্তব্যটিকে আলোকিত করবার জন্য ধন্যবাদ। দেশের শাসন ব্যবস্থা চালিত হচ্ছে একটি সিস্টেম দ্বারা। ভিডিওতে আপনি আইনি বিষয়েও একটি অংশ রেখেছেন। সকলেই স্বার্থ পূরণ করতে চায়। এই স্বার্থ স্বাভাবিক। সমস্যা হচ্ছে সাধ্যমত প্রচেষ্টা করেও সে কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে নেতিবাচক পদক্ষেপ নিতেই হচ্ছে। সেই পথ মিথ্যা মামলা করে হোক কিংবা অন্য কোনও উপায়ে হোক। তার স্বার্থ আসলে শিক্ষা, জীবিকা, চিকিৎসা, বস্তু-পরিষেবা, সুখসুবিধা, ভ্রমণ-আনন্দ-বিনোদন ও সুরক্ষা। এইসব তো তার মৌলিক অধিকার। এই অধিকার সুরক্ষিত করে দিয়ে সরকার পক্ষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন করুক। সকলে তা মেনে নেবে। সেই কঠোর বিধান নেতৃত্ব থেকে নাগরিক সকলের জন্য সমানভাবে প্রয়োগ হবে। সিস্টেম যেহেতু প্রতিটি নাগরিকের এই সামগ্রিক দায়দায়িত্ব নেয়নি বা বন্দোবস্ত করেনি সে কারণে মানুষ নেতিবাচক পথে অধিকার পূরণের চেষ্টা করছে। এইখানে প্রশ্ন হচ্ছে, প্রতিটি নাগরিকের সামগ্রিক সুখসুবিধার বন্দোবস্ত করা কি সম্ভব নয়? উত্তর হচ্ছে সঠিক ব্যবস্থাপনায় শতভাগই সম্ভব। এরজন্য প্রয়োজন হয় দুটি উপাদানের- প্রাকৃতিক সম্পদ ও মানব সম্পদ। ভারত রাষ্ট্রের কাছে সকলের জন্য মৌলিক সুবিধা প্রদানের উভয় সম্পদ পর্যাপ্ত পরিমাণে বিদ্যমান। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী সিস্টেমের গঠন কেমন হওয়া উচিত এইভাবে ভাবা হয়নি, সিস্টেম গঠনও করা হয়নি। যদিও এটি সমাজবিজ্ঞান সম্পর্কিত জ্ঞানের অংশ। সঠিক ব্যবস্থাপনার যথাযথ জ্ঞান হয়তো ছিল না। বাস্তবতা হচ্ছে নাগরিকের সামগ্রিক অধিকারকে ভেবে সিস্টেম তৈরি করা হয়নি। এই মূল দায়িত্বটিই বাকি রয়েছে। সিস্টেম বা সরকার যেহেতু সকলের সুখসুবিধা প্রদান করেনি ও দায়িত্ব নেয়নি সে কারনে নাগরিকদের মধ্যেও রাজনৈতিক দায়িত্বের প্রতি ও রাষ্ট্র গঠনের প্রতি উদাসীনতা রয়েছে। এতে নাগরিককে প্রত্যক্ষ দোষারোপও করা যায় না। বরং সম্মিলিত উদ্যোগ গৃহীত হওয়া জরুরী। এই উদাসীনতার কারণ আরও স্পষ্ট করে বললে চলমান সিস্টেম নাগরিককে রাজনৈতিক ও আর্থিক সিদ্ধান্তের অধিকার প্রদানই করেনি। এ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ব্যর্থতা। উল্টে নাগরিক সমস্ত অধিকার প্রতিনিধির হাতে তুলে দেয়। এই সুযোগ নেতৃত্বগণ সর্বসমক্ষে চমৎকারভাবে কাজে লাগাচ্ছেন। অন্যদিকে আবার নাগরিক সমাজ সচেতন হয়ে এযাবত বহু নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ও সরকারের বিরুদ্ধে জনস্বার্থ মামলা করেছে। হয় সেইসব মামলা দোলায়মান হয়ে রয়েছে নতুবা যৎসামান্য সুরাহার উদাহরণ দেখিয়ে চেপে দেওয়া হয়েছে। সমস্যা রয়ে গিয়েছে তিমিরেই। জনস্বার্থ মামলাগুলি (PIL) সফল না হওয়ার বা প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার পেছনে বহু আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা কাজ করে। এই জটিলতাও ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থার অংশ। এখানে সংশয় হচ্ছে, সচেতন হয়ে ও প্রমাণাদি নিয়ে প্রতিনিধির বিরুদ্ধেও তেমন কিছু করা যায় নি। যা পুনরায় ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থাকেই নির্দেশ করে। অর্থাৎ সমস্ত প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। এই ত্রুটিপূর্ণ বিধানের মৌলিক সংশোধন জরুরী হয়ে পড়েছে। সামগ্রিক নাগরিক সমাজ দায়িত্ব গ্রহণ করলে এ কাজ স্বাভাবিকভাবেই সম্ভব হবে। অনেক ক্ষেত্রে জন-প্রতিনিধি চাইলেও সুরাহা করতে পারেন না। সেখানেও গতানুগতিকতা কাটিয়ে মৌলিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না। এখানে বাজেটও একটি মস্ত সমস্যা। আবার, বাজেট বরাদ্দ হলে আর্থিক দুর্নীতি অন্যতম বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাহলে উপায় হয়ে দাঁড়িয়েছে সামগ্রিক আর্থিক-সামাজিক-রাজনৈতিক ব্যবস্থাগত নীতির পরিবর্তন। এই পরিবর্তন সম্ভব হলে জাতি-ধর্ম-ভাষা-শ্রেণী নির্বিশেষে সকলের স্থায়ী কল্যাণ সম্ভব হবে। ফলে বিষয়টিকে সম্পূর্ণরূপে অনুধাবন করলে এই দায়িত্ব পালনে সকলে সামিল হবে বলেই আমি মনে করি।
কেন সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে, একই প্রচেষ্টা পুনরায় করলে ফলাফল যে একই আসবে- এই ছিল উপরোক্ত আলোচনা। এবার বিকল্প কী কিংবা নতুন পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে তা কোন পথে কীভাবে সম্ভব হবে এ বিষয়ে পরিবর্তী আলোচনা চলতে পারে। কারণ, আমরা এই সময়ে একটি বড় সিদ্ধান্তের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছি। এভাবে তো আর চলতে পারে না। ফলে সম্মিলিত পর্যালোচনা জরুরী হয়ে পড়েছে।
এ আমার সমীক্ষার অংশ। প্রশ্নে, মতামতে, সিদ্ধান্তে সকলে স্বাগত। Naresh B Positive
***

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

রাষ্ট্র ব্যবস্থায় যে অধিকারগুলো জন্মগতভাবে থাকা জরুরী

কিউবার ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের কারণ কী?

ব্যবস্থাগত অসম্পূর্ণতা নাকি নেতৃত্বের ব্যর্থতা?