ভারতবর্ষকে সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে রূপায়িত করতে আর্থিক পলিসির বড়সড় পরিবর্তন জরুরী। কোন মুদ্রানীতি-অর্থনীতির পলিসি এই কাজে সহায়ক হবে?
সোভিয়েত ইউনিয়নের অর্থনৈতিক ব্যর্থতাঃ
১. অর্থনীতি বিষয়ে আলোচনার সময় যেহেতু সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির বিষয়টি এসেই যায় সেহেতু সোভিয়েত ইউনিয়ন, চীন সহ অন্যান্য রাষ্ট্রের প্রসঙ্গও আসবে। বরং অতীতের আলোচনা এলেই যথাযথ সমীক্ষা করে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া সম্ভব। সোভিয়েত ইউনিয়নের সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট মিখাইল গর্বাচেভ সোভিয়েত ব্যবস্থাকে আধুনিক করতে পেরেস্ত্রোইকা (অর্থনৈতিক পুনর্গঠন) এবং গ্লাসনোস্ত (রাজনৈতিক উন্মুক্ততা) নীতি চালু করেন। কিন্তু এই সংস্কারগুলো হিতে বিপরীত হয় এবং দীর্ঘদিনের চেপে রাখা জনঅসন্তোষকে উসকে দেয়, যা শেষ পর্যন্ত কমিউনিস্ট শাসনের ভিত্তি দুর্বল করে ফেলে। ফলে ১৯৭০ ও ৮০-র দশকে সোভিয়েত অর্থনীতি চরম মন্দার কবলে পড়ে। কেন্দ্রীয় পরিকল্পনাভিত্তিক অর্থনীতির অদক্ষতা, নিত্যপণ্যের তীব্র সংকট এবং প্রযুক্তিগতভাবে পশ্চাৎপদতা জনগণের মধ্যে প্রচণ্ড হতাশা তৈরি করে।
কিউবার অর্থনৈতিক ব্যর্থতাঃ
১. ভুল মুদ্রানীতি ও সংস্কারের উদ্দেশ্যে ভুল নীতি:
২০২১ সালে সরকার "অর্ডেনামিয়েন্তো" (Ordering Task) নামক একটি মুদ্রানীতি সংস্কার শুরু করে, যার লক্ষ্য ছিল দুই ধরণের মুদ্রার অবসান ঘটানো। তবে এই পরিকল্পনাটি ব্যর্থ হয় এবং এর ফলে কিউবার ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয়, যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমিয়ে দিয়েছে। সরকার একাধিক মুদ্রার বদলে একক মুদ্রা (পেসো) চালুর চেষ্টা এবং জ্বালানি ও বিদ্যুতের ওপর থেকে ভর্তুকি প্রত্যাহার করার ফলে দ্রব্যমূল্য আকাশচুম্বী হয়েছে। ভুল মুদ্রানীতি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং রাউল কাস্ত্রোর আমল থেকে শুরু হওয়া সংস্কারগুলো ধীরগতির হওয়ায় তা অর্থনীতির কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করতে পারেনি। ২০২৪ সালের শুরুতে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম এক ধাক্কায় প্রায় ৫০০% বাড়ানো হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।
২. কেন্দ্রীভূত পরিকল্পনা ও অদক্ষতা:
কিউবার অর্থনীতি এখনও সোভিয়েত ধাঁচের কেন্দ্রীয় পরিকল্পনায় পরিচালিত হয়। রাষ্ট্রীয় কোম্পানিগুলোর অদক্ষতা, দুর্নীতির সুযোগ এবং প্রতিযোগিতার অভাবের কারণে উৎপাদনশীলতা কমে গেছে। রাষ্ট্রের ৯০ শতাংশের বেশি অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বেসরকারীকরণের অভাব। কেন এ কথা বলছি? মার্কিন সহায়তা থেকে সরে গিয়ে সমৃদ্ধ সমাজতান্ত্রিক দেশ গড়তে বাধা কেউ দেয়নি। বরং বহু দেশ সহায়তা করেছে। নিজ দেশের কাছে সব থাকা সত্ত্বেও বিকল্প সফল ব্যবস্থা কেন গড়তে পারেনি? মার্কস প্রদত্ত নীতি একে একে প্রয়োগ করেও কেন বিফল এই সমীক্ষা কি অবান্তর? দেশে একদিকে এলিট শ্রেণীর বিলাসবহুল জীবনযাত্রা অপরদিকে সাধারণ মানুষের কাছে খাবারের মত জরুরী উপাদানটুকুই নেই। বহুদিন মার্কিন অধিকার কিউবা নেয়নি। তারপরও কেন প্রকৃত সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়তে পারেনি? উর্বর জমি, প্রাকৃতিক সম্পদ আর নাগরিকের একচ্ছত্র সমর্থন থাকার পরও কেন সমৃদ্ধশালী অর্থনীতি গঠনের লক্ষ্যে বিফল এই সমীক্ষা কি অবান্তর?
চীনের অর্থনৈতিক ব্যর্থতাঃ
১. গ্রেট লিপ ফরওয়ার্ড (Great Leap Forward):
১৯৫৮ সালে শুরু হওয়া এই পরিকল্পনার লক্ষ্য ছিল দ্রুত শিল্পায়ন। কিন্তু কৃষকদের চাষাবাদ বাদ দিয়ে বাড়ির উঠানে 'পিগ আয়রন' বা নিম্নমানের লোহা তৈরিতে বাধ্য করায় কৃষি উৎপাদন ধসে পড়ে। এর ফলে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়, যাতে কোটি কোটি মানুষ মারা যায়।
২. ভুল কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা:
বাজার কী চায় তা বিবেচনা না করে সরকার ঠিক করে দিত কী উৎপাদিত হবে। এর ফলে দেখা যেত প্রয়োজনের চেয়ে বেশি অকেজো জিনিস তৈরি হচ্ছে, আবার নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের তীব্র সংকট দেখা দিচ্ছে।
ফলে এই সময়ে একই নীতি প্রয়োগ করলে পূর্বের মতন একই ফলাফল আসবে। সুতরাং ত্রুটি সংশোধন করে নতুন নীতির প্রয়োগ জরুরী। এই বিষয়ে সংশোধিত নীতি কিংবা নতুন আইডিয়া কেউ আলোকপাত করতে পারেন।
***

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন