পারিবারিক ব্যবস্থা

 

পারিবারিক ব্যবস্থা

 

পারিবারিক সমস্যার সমাধান কীভাবে সম্ভব হবে?

ইউনিভার্সাল লাইফ ম্যানেজমেন্ট (ULM) প্রস্তাবিত নতুন ব্যবস্থায় পারিবারিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান মূলত আর্থিক নির্ভরতা বিলোপ, শ্রমের সুষম বণ্টন এবং নিঃস্বার্থ ভালোবাসার পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে সম্ভব হবে। এর মূল দিকগুলো নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

 

. আর্থিক নির্ভরতার অবসান:

বর্তমান সমাজে অধিকাংশ পারিবারিক কলহের মূলে থাকে টাকা-পয়সা এবং একে অপরের ওপর আর্থিক নির্ভরতা। নতুন ব্যবস্থায় কোনো মুদ্রার লেনদেন থাকবে না এবং পরিবারের প্রতিটি সদস্য সরাসরি ব্যবস্থার সাথে যুক্ত থাকবেন। ফলে পণ্য বা পরিষেবার জন্য স্ত্রীকে স্বামীর ওপর কিংবা সন্তানদের বাবার ওপর নির্ভর করতে হবে না, যা সম্পর্কের মধ্যকার তিক্ততা নিয়ন্ত্রণ দূর করবে।

 

. গৃহস্থালির শ্রম থেকে মুক্তি:

বর্তমানে রান্নাবান্না, বাসন মাজা ঘর পরিষ্কারের মতো একঘেয়ে ভারী কাজের সিংহভাগ দায়ভার নারীদের ওপর থাকে, যা অনেক সময় বিবাদের কারণ হয়। কমন কিচেন বা গোষ্ঠীগত রান্নাঘর এবং উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে পরিবারে এই শ্রমের বোঝা থাকবে না। এর ফলে সদস্যদের মধ্যে কাজের চাপ নিয়ে কোনো বিবাদ থাকবে না এবং তাঁরা একে অপরকে দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সময় পাবেন।

 

. সম্পর্কের ভিত্তি হবে কেবল প্রেম:

এই ব্যবস্থায় সম্পর্কের ভিত্তি হবে নিছক নিঃস্বার্থ ভালোবাসা বা প্রেম, কোনো বাধ্যবাধকতা নয়। যেহেতু সদস্যরা আর্থিক বা সামাজিক কোনো কারণে একে অপরের ওপর নির্ভরশীল নন, তাই যতক্ষণ পর্যন্ত পরস্পরের প্রতি টান শ্রদ্ধা থাকবে, ততক্ষণই তাঁরা একসাথে থাকবেন। জোরপূর্বক বা প্রয়োজনে পড়ে কোনো অসুখী সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার গ্লানি এখানে থাকবে না।

 

. ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি:

আগামীকালের খাবার, সন্তানদের পড়াশোনা কিংবা প্রবীণ বয়সের চিকিৎসার খরচ নিয়ে পরিবারের প্রধানদের যে গভীর মানসিক চাপে থাকতে হয়, তা এই ব্যবস্থায় থাকবে না। ব্যবস্থা নিজেই জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সকল দায়িত্ব নেবে, ফলে পারিবারিক পরিবেশে কোনো মানসিক চাপ বা অনিশ্চয়তা থাকবে না।

 

. সন্তান প্রবীণদের সুরক্ষা:

যদি কোনো পরিবারে বিচ্ছেদ ঘটে কিংবা কোনো সদস্য আলাদা থাকতে চান, তবে সন্তানদের লালন-পালন বা প্রবীণদের সুরক্ষার দায়িত্ব ব্যবস্থা সরাসরি গ্রহণ করবে। ফলে সদস্যদের বিচ্ছেদ হলেও তা অন্য সদস্যদের জীবনে বড় কোনো সংকটের সৃষ্টি করবে না।

 

. যৌতুক কুপ্রথার বিলোপ:

 অর্থনৈতিক সাম্য এবং মুদ্রাহীন সমাজ হওয়ার ফলে সমাজ থেকে যৌতুক প্রথার মতো অভিশাপ চিরতরে বিলুপ্ত হবে। নারীরা স্বাধীন সত্তা হিসেবে মর্যাদা পাবেন এবং পরিবারের সদস্যরা একে অপরকে শোষণ বা দমিয়ে রাখার প্রয়োজন বোধ করবেন না।

 

সংক্ষেপে, এই ব্যবস্থায় পরিবার কেবল একটি অর্থনৈতিক ইউনিট নয়, বরং একটি আবেগীয় প্রেমপূর্ণ সংগঠনে রূপান্তরিত হবে, যেখানে সদস্যরা নিঃস্বার্থভাবে একে অপরের সঙ্গ উপভোগ করতে পারবেন।

 

 

সন্তানদের লালন-পালনের দায়িত্ব ব্যবস্থা কীভাবে গ্রহণ করবে?

ইউনিভার্সাল লাইফ ম্যানেজমেন্ট (ULM) প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় সন্তানদের লালন-পালন বিকাশের দায়িত্বটি একটি সামগ্রিক সামাজিক রাষ্ট্রীয় পরিষেবা হিসেবে গ্রহণ করা হবে। এই প্রক্রিয়ার মূল দিকগুলো নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

 

. জন্মগত অধিকার সমান সুবিধা:

জন্মের পর থেকেই একটি শিশু পরিবারের অন্য সদস্যদের মতো সমাজের সমস্ত আধুনিক সুখ-সুবিধা সমানভাবে পাওয়ার অধিকারী হবে। শিশুরা সরাসরি ব্যবস্থার সাথে যুক্ত থাকবে এবং তাদের প্রয়োজনীয় পণ্য বা পরিষেবা (যেমনখাবার, খেলনা বা পোশাক) ডিজিটাল পোর্টালের মাধ্যমে অর্ডার করতে পারবে।

 

. আর্থিক দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি:

সন্তানদের পড়াশোনা, চিকিৎসা বা ভবিষ্যতের সংস্থানের জন্য অভিভাবকদের কোনো অর্থ সঞ্চয় বা আয়ের ওপর নির্ভর করতে হবে না। লালন-পালনের সমস্ত ব্যয়ভার ব্যবস্থা সরাসরি বহন করবে, যার ফলে অভিভাবকদের ওপর কোনো আর্থিক বোঝা থাকবে না।

 

. চাপমুক্ত পরীক্ষাহীন শিক্ষা:

২৫ বছর বয়স পর্যন্ত সকল ছাত্র-ছাত্রীর জন্য মনোরম পরিবেশে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আরামদায়ক শিক্ষা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে। এই শিক্ষা ব্যবস্থায় পরীক্ষা বা নম্বরের কোনো চাপ থাকবে না; বরং শিশুটি কী পছন্দ করে এবং তার আগ্রহ কোন বিষয়ে, তার ভিত্তিতেই পড়াশোনা দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দেওয়া হবে।

 

. নিরাপত্তা রাষ্ট্রীয় অভিভাবকত্ব:

যদি কোনো কারণে পিতামাতা সন্তানদের নিজেদের কাছে রাখতে না চান অথবা পরিবারের বিচ্ছেদ ঘটে, তবে সেই সন্তানদের লালন-পালনের পূর্ণ দায়িত্ব ব্যবস্থা সরাসরি গ্রহণ করবে। প্রতিটি শিশু ব্যবস্থায় নিজেকে সম্পূর্ণ নিরাপদ, স্বাধীন এবং সুরক্ষিত অনুভব করবে।

 

. কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা:

শিক্ষা প্রশিক্ষণ শেষে প্রতিটি শিক্ষার্থীর যোগ্যতা এবং পছন্দ অনুযায়ী একটি সম্মানজনক জীবিকা সুনিশ্চিত থাকবে। ফলে সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অভিভাবকদের মনে কোনো অনিশ্চয়তা বা ভয় থাকবে না।

 

. সম্পর্কের ভিত্তি হবে ভালোবাসা:

যেহেতু সন্তানদের জীবন ধারণের জন্য পিতামাতার ওপর আর্থিক নির্ভরতা থাকবে না, তাই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আর্থিক অভাবজনিত বিবাদ বা তিক্ততা থাকবে না। সম্পর্কের মূল ভিত্তি হবে কেবল নিঃস্বার্থ ভালোবাসা বা প্রেম, কোনো বাধ্যবাধকতা নয়।

 

সংক্ষেপে, এই ব্যবস্থায় সন্তান লালন-পালন কোনো ব্যক্তিগত লড়াই নয়, বরং এটি ব্যবস্থার পক্ষ থেকে একটি সুনিশ্চিত সামাজিক দায়বদ্ধতা, যা প্রতিটি শিশুর প্রতিভা বিকাশ এবং নিরাপদ শৈশব নিশ্চিত করে।

 

 

টাউনশিপে শিশুদের ২৫ বছর পর্যন্ত বড় করার দায়িত্ব কি সিস্টেমের?

হ্যাঁ, ইউনিভার্সাল লাইফ ম্যানেজমেন্ট (ULM) বাসম্পূর্ণ সমাধানব্যবস্থায় টাউনশিপে শিশুদের জন্ম থেকে ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত লালন-পালন এবং শিক্ষার সম্পূর্ণ দায়িত্ব ব্যবস্থার বা সিস্টেমের

 

এই দায়িত্বটি যেভাবে পালিত হবে তার বিস্তারিত বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:

১. রাষ্ট্রীয় লালন-পালন আর্থিক ভারমুক্তি:

এই ব্যবস্থায় শিশুদের শিক্ষা এবং লালন-পালনের সম্পূর্ণ দায়ভার সিস্টেমের ওপর ন্যস্ত থাকে, যার ফলে অভিভাবকদের ওপর কোনো আর্থিক বোঝা বা দুচিন্তা থাকে না শিশু জন্মের পর থেকে ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত তার প্রয়োজনীয় যাবতীয় খরচ (যেমনখাবার, পোশাক, খেলনা এবং অন্যান্য সুখ-সুবিধা) সরাসরি সরকার বা ব্যবস্থা বহন করবে।

২. আরামদায়ক মনোরম পরিবেশ:

২৫ বছর বয়স পর্যন্ত বিদ্যালয়ের সকল ছাত্র-ছাত্রীর জন্য মনোরম পরিবেশ এবং সর্বোচ্চ আরামদায়ক জীবনযাত্রার ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা হবে। শিশুরা তাদের প্রয়োজনীয় পণ্য বা পরিষেবা সরাসরি সিস্টেমের ডিজিটাল পোর্টালের মাধ্যমে অর্ডার করে গ্রহণ করতে পারবে।

৩. অভিভাবকহীন বা বিশেষ পরিস্থিতির সুরক্ষা:

যদি কোনো কারণে বাবা-মা সন্তানকে কাছে রাখতে না চান বা কোনো বিশেষ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তবে ব্যবস্থা নিজেই সেই শিশুর পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করবে এমনকি ২৫ বছর বয়স হওয়ার আগে যদি সন্তানরা বাবা-মায়ের থেকে আলাদা থাকতে চায়, তবে সিস্টেম তাদের জন্য আলাদা আবাসনের ব্যবস্থা করবে।

৪. বিকাশ স্বাধীনতা:

এই ব্যবস্থায় মনে করা হয় যে, ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত একজন মানুষ পুরোপুরি বিকশিত হয় না, তাই এই সময় পর্যন্ত তাদের সঠিক নির্দেশ প্রদান সুরক্ষার প্রয়োজন রয়েছে। ২৫ বছর বয়স পূর্ণ হলে তারা একজন স্বাধীন সত্তা হিসেবে গণ্য হয় এবং তাদের পছন্দ যোগ্যতা অনুযায়ী একটি জীবিকা সুনিশ্চিত করা হয়।

৫. পারিবারিক সম্পর্কের উন্নতি:

যেহেতু শিশুদের সমস্ত প্রয়োজন ব্যবস্থা পূরণ করে, তাই সন্তানদের নিজের প্রয়োজনের জন্য বাবা-মায়ের ওপর আর্থিক নির্ভরতা থাকে না। এর ফলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সম্পর্কের ভিত্তি হয় কেবল পারস্পরিক প্রেম শ্রদ্ধা, কোনো বাধ্যবাধকতা নয়।

সংক্ষেপে, এই ব্যবস্থায় শিশু প্রতিপালন কোনো ব্যক্তিগত সংগ্রাম নয়, বরং এটি একটি সামাজিক রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব, যেখানে প্রতিটি শিশু সমান সুযোগ-সুবিধা সুরক্ষার মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠার অধিকার পায়।

 

 

 

পরিবার

পারিবারিক ব্যবস্থা কেমন থাকবে?

ইউনিভার্সাল লাইফ ম্যানেজমেন্ট (ULM) প্রস্তাবিত নতুন ব্যবস্থায় পারিবারিক কাঠামোটি হবে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র, আর্থিক দুশ্চিন্তামুক্ত এবং নিঃস্বার্থ ভালোবাসার ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি আবেগীয় সংগঠন এই ব্যবস্থায় পরিবার কীভাবে পরিচালিত হবে তার মূল দিকগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:

 

. আর্থিক নির্ভরতার অবসান:

এই ব্যবস্থায় পরিবারের কোনো সদস্য অন্য সদস্যের ওপর আর্থিক বা বস্তুগত প্রয়োজনের জন্য নির্ভরশীল থাকবেন না। প্রতিটি সদস্য (শিশু থেকে বৃদ্ধ) সরাসরি ব্যবস্থার (System) সাথে যুক্ত থাকবেন এবং নিজেদের প্রয়োজনীয় পণ্য বা পরিষেবা সরাসরি ব্যবস্থার কাছে অর্ডার করতে পারবেন। ফলে আর্থিক লেনদেন নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বা বাবা-ছেলের মধ্যে যে তিক্ততা তৈরি হয়, তার চিরস্থায়ী অবসান ঘটবে।

 

. সম্পর্কের ভিত্তি হবে কেবলপ্রেম’:

নতুন দর্শনে সম্পর্কের মূল ভিত্তি হবে নিঃস্বার্থ ভালোবাসা বা প্রেম, কোনো বাধ্যবাধকতা নয়। যেহেতু কোনো আর্থিক দায়বদ্ধতা নেই, তাই সদস্যরা যতক্ষণ একে অপরের প্রতি টান অনুভব করবেন, ততক্ষণই একসাথে থাকবেন। জোরপূর্বক বা প্রয়োজনে পড়ে কোনো অসুখী সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার গ্লানি এখানে থাকবে না।

 

. গৃহস্থালির একঘেয়ে শ্রম থেকে মুক্তি:

কমন কিচেনবা গোষ্ঠীগত রান্নাঘর এবং উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে পরিবারে রান্না করা, বাসন মাজা বা কাপড় ধোয়ার মতো ভারী কাজগুলো আর ব্যক্তিগতভাবে করতে হবে না। এর ফলে পরিবারের সদস্যরা, বিশেষ করে মহিলারা দীর্ঘদিনের গৃহশ্রমের বোঝা থেকে মুক্তি পাবেন এবং একে অপরকে দেওয়ার মতো প্রচুর গুণগত সময় (Quality Time) পাবেন।

 

. সন্তান প্রবীণদের রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা:

সন্তানদের পড়াশোনা, লালন-পালন বা প্রবীণদের চিকিৎস ভরণপোষণের সমস্ত দায়িত্ব ব্যবস্থা সরাসরি গ্রহণ করবে। ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত প্রতিটি শিশুর সমস্ত ব্যয়ভার ব্যবস্থা বহন করবে। এমনকি যদি কোনো পরিবারে বিচ্ছেদ ঘটে, তবে সন্তানদের দেখাশোনা বা সুরক্ষার জন্য অভিভাবকদের কোনো দুশ্চিন্তা করতে হবে না, কারণ ব্যবস্থা নিজেই তাদের অভিভাবকত্ব গ্রহণ করবে।

 

. ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তামুক্ত জীবন:

আগামীকালের খাবার, সংসার পরিচালনার ব্যয় কিংবা বার্ধক্যের নিরাপত্তার জন্য কাউকে অর্থ সঞ্চয় করতে হবে না। ফলে পারিবারিক পরিবেশে কোনো মানসিক চাপ বা অনিশ্চয়তা থাকবে না, যা পরিবারে বিশ্বাস সৌহার্দ্য বৃদ্ধি করবে।

 

. শোষণ নিয়ন্ত্রণমুক্ত পরিবেশ:

যেহেতু সবাই আর্থিকভাবে স্বাধীন, তাই এক ব্যক্তি অন্য ব্যক্তিকে দমানোর বা নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ পাবেন না। নারী, শিশু এবং প্রবীণরা নিজেদের সর্বদা সুরক্ষিত স্বাধীন অনুভব করবেন। সমাজে যৌতুক প্রথার মতো কুপ্রথাগুলোও এই ব্যবস্থার কারণে চিরতরে বিলুপ্ত হবে

 

সংক্ষেপে, এই ব্যবস্থায় পরিবার কেবল একটি অর্থনৈতিক ইউনিট থাকবে না, বরং এটি হবে পারস্পরিক শ্রদ্ধা আনন্দের মিলনস্থল, যেখানে মানুষ কেবল সম্পর্কের মাধুর্য উপভোগের জন্যই একসাথে বসবাস করবে।

 

 

পারিবারিক সুখের ভিত্তি হিসেবেপ্রেমকীভাবে কাজ করবে?

 

ইউনিভার্সাল লাইফ ম্যানেজমেন্ট (ULM) বাসম্পূর্ণ সমাধানব্যবস্থায় পারিবারিক সুখের মূল ভিত্তি হিসেবে প্রেম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বর্তমান ব্যবস্থায় পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিবাদের মূলে যে আর্থিক সামাজিক বাধ্যবাধকতা থাকে, নতুন ব্যবস্থায় তা অপসারিত হয়ে সম্পর্কের ভিত্তি হবে কেবল পারস্পরিক আকর্ষণ নিঃস্বার্থ ভালোবাসা।

 

 

পারিবারিক সুখের ভিত্তি হিসেবে প্রেম যেভাবে কার্যকর হবে তা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

 

 

. আর্থিক নির্ভরতামুক্ত স্বাভাবিক সম্পর্ক:

বর্তমান সমাজে পরিবারের অধিকাংশ কলহের মূলে থাকে অর্থ-সম্পদ এবং পরিবারের সদস্যদের একে অপরের ওপর আর্থিক নির্ভরতা। নতুন ব্যবস্থায় পরিবারের প্রতিটি সদস্য (শিশু থেকে বৃদ্ধ) সরাসরি ব্যবস্থার (System) সাথে যুক্ত থাকবেন এবং তাদের প্রয়োজনীয় পণ্য বা পরিষেবা সরাসরি ব্যবস্থার কাছেই অর্ডার করতে পারবেন। ফলে পণ্য বা অেথৈর জন্য স্ত্রীকে স্বামীর ওপর কিংবা সন্তানদের বাবার ওপর নির্ভর করতে হবে না। যখন কেউ আর্থিক কারণে অন্যের ওপর নির্ভরশীল থাকবে না, তখনই সম্পর্কের মধ্যে বাস্তবিক স্বচ্ছতা ফিরে আসবে এবং প্রেমই হবে সম্পর্কের একমাত্র সেতুবন্ধন

 

. বাধ্যবাধকতাহীন সহাবস্থান:

এই ব্যবস্থায় একসাথে থাকার পেছনে কোনো সামাজিক বা অর্থনৈতিক জবরদস্তি থাকবে না। পরিবারের ভিত্তি হবে পারস্পরিক প্রেম; যেখানে সদস্যরা অনুভব করবেন যে তারা একে অপরের সাথে থাকলে সুখী হচ্ছেন, কেবল তখনই তারা একসাথে থাকবেন। সম্পর্কের মধ্যে কোনো গোপন অভিসন্ধি বা প্রতারণার প্রয়োজন থাকবে না, কারণ সবার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা সুখ সুনিশ্চিত থাকবে।

 

. বিচ্ছেদের গ্লানি দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি:

যদি কোনো সম্পর্কে প্রেমের অভাব ঘটে, তবে জোর করে সেই অসুখী সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার কোনো বাধ্যবাধকতা এই ব্যবস্থায় নেই। প্রেম না থাকলে সম্পর্ক স্বাভাবিকভাবেই বিচ্ছেদ হয়ে যেতে পারে এবং সদস্যরা পুনরায় নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী নতুন পরিবার বা গোষ্ঠী গড়ে তুলতে পারেন। যেহেতু ব্যবস্থা নিজেই সন্তানদের লালন-পালন (২৫ বছর বয়স পর্যন্ত) এবং প্রবীণদের সুরক্ষার দায়িত্ব গ্রহণ করবে, তাই বিচ্ছেদের ফলে সদস্যদের জীবনে কোনো আর্থিক বা নিরাপত্তামূলক সংকট তৈরি হবে না।

 

. গৃহশ্রমের বোঝা থেকে মুক্তি:

বর্তমানে গৃহস্থালির ভারী কাজের চাপ (যেমন রান্না বা ঘর পরিষ্কার) অনেক সময় পারিবারিক তিক্ততার কারণ হয়। 'কমন কিচেন' বা গোষ্ঠীগত রান্নাঘর এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে সদস্যদের এই একঘেয়ে শ্রম থেকে মুক্তি দেওয়া হবে। এর ফলে পরিবারের সদস্যরা একে অপরের সাথে কাটানোর জন্য প্রচুর গুণগত সময় (Quality Time) পাবেন, যা পারিবারিক প্রেম সৌহার্দ্য বৃদ্ধি করবে।

 

. ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তাহীন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ:

আগামীকালের খাবার, সন্তানদের পড়াশোনা কিংবা চিকিৎসার খরচ নিয়ে কোনো মানসিক চাপ থাকবে না। দুশ্চিন্তামুক্ত মনেই প্রকৃত প্রেমের বিকাশ ঘটে। যখন কোনো ব্যক্তি ব্যবস্থা দ্বারা সম্পূর্ণ নিরাপদ বোধ করবেন, তখন তাঁর পারিবারিক আচরণ হবে অনেক বেশি মধুর সংবেদনশীল।

 

 

সংক্ষেপে, এই ব্যবস্থায় পরিবার কেবল একটি অর্থনৈতিক ইউনিট নয়, বরং এটি হবে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস এবং নিছক আনন্দের একটি মিলনস্থল, যার একমাত্র নিয়ন্ত্রক হবে প্রেম।

 

 

প্রেম এবং পারিবারিক ব্যবস্থা কেমন থাকবে?

ইউনিভার্সাল লাইফ ম্যানেজমেন্ট (ULM) বাসম্পূর্ণ সমাধানব্যবস্থায় প্রেম এবং পারিবারিক কাঠামোটি হবে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র, আর্থিক দুশ্চিন্তামুক্ত এবং নিঃস্বার্থ ভালোবাসার ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি আবেগীয় সংগঠন এই নতুন ব্যবস্থায় পারিবারিক প্রেমের সম্পর্কের স্বরূপ নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

 

. আর্থিক নির্ভরতার অবসান:

বর্তমান সমাজে অধিকাংশ পারিবারিক কলহের মূলে থাকে টাকা-পয়সা এবং একে অপরের ওপর আর্থিক নির্ভরতা। নতুন ব্যবস্থায় কোনো মুদ্রার লেনদেন থাকবে না এবং পরিবারের প্রতিটি সদস্য (শিশু থেকে বৃদ্ধ) সরাসরি ব্যবস্থার (System) সাথে যুক্ত থাকবেন। ফলে পণ্য বা পরিষেবার জন্য স্ত্রীকে স্বামীর ওপর কিংবা সন্তানদের বাবার ওপর নির্ভর করতে হবে না, যা সম্পর্কের মধ্যকার তিক্ততা, মিথ্যাচার নিয়ন্ত্রণ দূর করবে।

 

. সম্পর্কের ভিত্তি হবে কেবলপ্রেম’:

এই ব্যবস্থায় সম্পর্কের মূল ভিত্তি হবে নিছক নিঃস্বার্থ ভালোবাসা বা প্রেম, কোনো সামাজিক বা অর্থনৈতিক বাধ্যবাধকতা নয়। যেহেতু কোনো আর্থিক দায়বদ্ধতা বা নিরাপত্তার অভাব নেই, তাই সদস্যরা যতক্ষণ একে অপরের প্রতি টান আকর্ষণ অনুভব করবেন, ততক্ষণই একসাথে থাকবেন। জোরপূর্বক বা প্রয়োজনে পড়ে কোনো অসুখী সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার গ্লানি এখানে থাকবে না।

 

. গৃহস্থালির শ্রম থেকে মুক্তি:

কমন কিচেনবা গোষ্ঠীগত রান্নাঘর এবং উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে পরিবারে রান্না করা, বাসন মাজা বা কাপড় ধোয়ার মতো ভারী কাজগুলো আর ব্যক্তিগতভাবে করতে হবে না [১৩৯, ২৪৭, ২৮৩] এর ফলে পরিবারের সদস্যরা, বিশেষ করে মহিলারা গৃহশ্রমের চিরাচরিত বন্দিদশা থেকে মুক্তি পাবেন এবং একে অপরকে দেওয়ার মতো প্রচুর গুণগত সময় (Quality Time) পাবেন।

 

. সন্তান প্রবীণদের রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা:

সন্তানদের লালন-পালন, পড়াশোনা কিংবা প্রবীণদের চিকিৎসা ভরণপোষণের সমস্ত দায়িত্ব ব্যবস্থা সরাসরি গ্রহণ করবে। ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত প্রতিটি শিশুর সমস্ত ব্যয়ভার ব্যবস্থা বহন করবে, ফলে সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অভিভাবকদের মনে কোনো অনিশ্চয়তা বা ভয় থাকবে না। এমনকি যদি কোনো পরিবারে বিচ্ছেদ ঘটে, তবে সন্তানদের সুরক্ষা বা প্রবীণদের যত্নের জন্য সদস্যদের কোনো আর্থিক সংকটে পড়তে হবে না।

 

. যৌতুক কুপ্রথার বিলোপ:

অর্থনৈতিক সাম্য এবং মুদ্রাহীন সমাজ হওয়ার ফলে সমাজ থেকে যৌতুক প্রথার মতো অভিশাপ চিরতরে বিলুপ্ত হবে। নারীরা আর্থিকভাবে স্বাধীন মর্যাদাপূর্ণ সত্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবেন এবং পরিবারের সদস্যরা একে অপরকে শোষণ বা দমিয়ে রাখার প্রয়োজন বোধ করবেন না।

 

. পারিবারিক সুখের স্তর:

এই দর্শনে পারিবারিক সুখের নৈতিক ভিত্তি হিসেবেপ্রেম’-কে চিহ্নিত করা হয়েছে। পরিবারে কোনো আর্থিক লেনদেন বা নির্ভরতা না থাকায় সম্পর্কের মধ্যে বাস্তবিক স্বচ্ছতা বিশ্বাস ফিরে আসবে, যা পারিবারিক বন্ধনকে মধুর সুদৃঢ় করবে।

 

. যৌন স্বাধীনতা সুস্থ সম্পর্ক:

অভাবমুক্ত স্বাধীন পরিবেশে প্রাপ্তবয়স্করা পারস্পরিক বোঝাপড়া প্রেমের ভিত্তিতে স্বাধীনভাবে সঙ্গী নির্বাচন করতে পারবেন। জীবন-জীবিকার সংঘর্ষ বা পারিবারিক দুশ্চিন্তা না থাকায় মানুষ মানসিকভাবে সুস্থ থাকবে, যা সুস্থ সামাজিক যৌন সম্পর্ক বজায় রাখতে সাহায্য করবে।

 

সারসংক্ষেপে, এই ব্যবস্থায় পরিবার কেবল একটি অর্থনৈতিক ইউনিট থাকবে না, বরং এটি হবে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস এবং নিছক আনন্দের একটি মিলনস্থল, যেখানে মানুষ কেবল সম্পর্কের মাধুর্য উপভোগের জন্যই একসাথে বসবাস করবে।

 

 

 

মহিলাদের জন্য সুবিধাসমূহ

 

 

ইউনিভার্সাল লাইফ ম্যানেজমেন্ট (ULM) সংস্থা দ্বারা প্রস্তাবিত এই নতুন ব্যবস্থায় মহিলাদের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন এবং সুবিধার কথা বলা হয়েছে। এই ব্যবস্থায় নারীদের গৃহস্থালির শ্রম থেকে মুক্তির বিষয়টি একটি বৈপ্লবিক সামাজিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। এর ফলে সমাজে যে ধরণের পরিবর্তন আসবে তা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

 

১. অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ব্যক্তিগত স্বাধীনতা:

বর্তমানে অধিকাংশ নারী বাবা, স্বামী বা ছেলের ওপর অর্থনৈতিকভাবে নির্ভরশীল। নতুন ব্যবস্থায় যেহেতু কোনো আর্থিক লেনদেন নেই এবং প্রত্যেকে সরাসরি ব্যবস্থার (System) কাছে নিজের চাহিদার কথা জানাতে পারেন, তাই নারীদের আর কারও ওপর নির্ভরশীল থাকতে হবে না। এর ফলে সমাজে যৌতুক প্রথার মতো সামাজিক অভিশাপও চিরতরে নির্মূল হবে।

২. পারিবারিক শ্রমের বোঝা থেকে মুক্তি দক্ষতা বৃদ্ধি:

বর্তমানে প্রতিটি পরিবারে একজন মহিলাকে চার-পাঁচজন সদস্যের রান্নার ভার বইতে হয়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ,০০০ জন মানুষের জন্য বর্তমানে বাড়িতে প্রায় ২৫০ জন মহিলা রান্না করেন, কিন্তু এই ব্যবস্থায় কমন কিচেন বা গোষ্ঠীগত রান্নাঘর থাকায় মাত্র ১০ জন মানুষ আধুনিক মেশিনের সাহায্যে সেই কাজ সম্পন্ন করবেন। রান্নার পাশাপাশি বর্তমানে একজন মহিলাকে ঘর পরিষ্কার, বাসন মাজা, কাপড় ধোয়া এবং সন্তানদের দেখাশোনা করার মতো অসংখ্য কাজ একা হাতে সামলাতে হয়। নতুন ব্যবস্থায় এই ভারী কাজগুলো (যেমন রান্না কাপড় ধোয়া) আর বাড়িতে করতে হবে না। এর ফলে নারীরা দীর্ঘদিনের এই একঘেয়ে শ্রম থেকে মুক্তি পাবেন।

৩. পেশাগত সৃজনশীল বিকাশ:

গৃহস্থালির কাজের চাপ না থাকায় নারীরা তাদের রুচি বা পছন্দের (Interest) ভিত্তিতে পেশাগত কাজ করার সুযোগ পাবেন। সপ্তাহে মাত্র ২৫ ঘণ্টা (দিনে ঘণ্টা) কাজ করার নিয়ম থাকায় তারা নিজেদের শখ পূরণ, জিম, বিনোদন বা পড়াশোনার জন্য প্রচুর সময় পাবেন। এটি তাদের একাধারে একজন দক্ষ কর্মী এবং সৃজনশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে।

৪. পারিবারিক সম্পর্কের উন্নতি:

টাকা-পয়সার অভাব বা গৃহস্থালির কাজের চাপ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যে তিক্ততা বিবাদ তৈরি হয়, এই ব্যবস্থায় তার অবসান ঘটবে। মহিলারা আর শুধু ঘর দেখাশোনা করার জন্য 'সংরক্ষিত' থাকবেন না, বরং একজন স্বাধীন সত্ত্বা হিসেবে সমাজে মর্যাদা পাবেন।

৫. সামাজিক ক্ষমতায়নের প্রয়োজনীয়তা বিলোপ:

এই ব্যবস্থায় নারী পুরুষ উভয়েরই সমান অধিকার থাকবে এবং প্রত্যেকে তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সেরা সুবিধা পাবে। ফলে আলাদা করে 'নারী ক্ষমতায়ন' বা জাতীয় প্রচারণার আর কোনো প্রয়োজন থাকবে না কারণ বৈষম্যের মূল কারণ অর্থাৎ অর্থ এবং শ্রমের অসম বণ্টন এই ব্যবস্থায় থাকছে না।

সামগ্রিকভাবে, গৃহস্থালির শ্রম থেকে মুক্তি নারীদের কেবল ঘরবন্দি জীবন থেকেই বের করে আনবে না, বরং তাদের সমাজের একজন সমান অংশীদার এবং সুখী মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।

 

 

 

কমন কিচেন বা গোষ্ঠীগত রান্নাঘর কী?

 

 

এই ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো কমন কিচেন, যা ব্যক্তিগত রান্নার ঝামেলা দূর করবে।

১. পরিচালনা দক্ষতা:

প্রতি ,০০০ জন মানুষের জন্য আবাসনের নিচে একটি করে কমন রেস্তরাঁ  বা কিচেন থাকবে। বর্তমানে ,০০০ জন মানুষের জন্য বাড়িতে প্রায় ২৫০ জন মহিলাকে রান্না করতে হয়, কিন্তু এই ব্যবস্থায় মাত্র ১০ জন কর্মী এবং স্বয়ংক্রিয় রান্নার মেশিন বা মডার্ন কুকিং অ্যাপ্লায়েন্স এর সাহায্যে সকলের জন্য উন্নত মানের খাবার তৈরি করা সম্ভব হবে।

২. খাবারের বৈচিত্র্য:

এখানে প্রতিদিন ১৫ থেকে ৩০ ধরনের আইটেম থাকবে, অনেকটা বিয়ে বাড়ির ভোজের মতো যার যা ইচ্ছে তা সেখানে গিয়ে খেয়ে আসতে পারবেন।

৩. সম্পদ সাশ্রয়:

ব্যক্তিগত বাড়িতে আর রান্নাঘরের (Kitchen) প্রয়োজন হবে না, ফলে যায়গার সাশ্রয় হবে। এছাড়া আলাদা করে উনুন, বাসনপত্র বা গ্যাস সিলিন্ডারের প্রয়োজন না থাকায় প্রাকৃতিক সম্পদেরও অপচয় কমবে।

৪. গুণমান নিয়ন্ত্রণ:

একটি অনলাইন রেটিং সিস্টেম থাকবে। যদি কোনো কিচেনের খাবার খুব ভালো হয়, তবে সেখানকার রেসিপি বা পদ্ধতি শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে অন্য কিচেনগুলোতেও ছড়িয়ে দেওয়া হবে যাতে সবাই সেরা পরিষেবা পায়।

৫. আগ্রহী রাঁধুনি:

নারী কিংবা পুরুষ যারা রান্না করতে ভালোবাসেন, তারা তাদের আগ্রহের ভিত্তিতেই এই কিচেনগুলোতে কাজ করতে পারবেন, রান্নার ট্রেনিং নিতে পারবেন, ফলে খাবারের মান সবসময় ভালো থাকবে।

সংক্ষেপে, এই ব্যবস্থা মহিলাদের গৃহস্থালির কাজের বোঝা কমিয়ে তাদের একজন স্বাধীন সৃষ্টিশীল মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করবে।

 

 

কমন কিচেনে খাবারের মেনু কে এবং কীভাবে নির্ধারণ করবে?

 

ইউনিভার্সাল লাইফ ম্যানেজমেন্টের (ULM) প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় কমন কিচেনের খাবারের মেনু নির্ধারণ প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ বিজ্ঞানসম্মত এবং জনগণের চাহিদার ওপর নির্ভরশীল। এমনকি মরশুম, সহজলভ্যতা এবং সমাজের পছন্দের দিকটিও বিবেচিত হবে। এই প্রক্রিয়াটি যেভাবে কাজ করবে তার মূল দিকগুলি নিচে তুলে ধরা হলো:

 

১. ভোক্তাদের চাহিদা পছন্দ:

এই ব্যবস্থায় টাকা-পয়সার লেনদেন না থাকায় মানুষ সরাসরি ব্যবস্থার কাছে তাদের চাহিদার কথা জানাবে। খাবারের মেনু মূলত জনগণের চাহিদা এবং রুচির ওপর ভিত্তি করে তৈরি হবে।

২. বিশেষজ্ঞ আগ্রহী রাঁধুনি:

যারা রান্না করতে ভালোবাসেন এবং যাদের রান্নায় বিশেষ দক্ষতা আছে, তারাই এই কমন কিচেনগুলোতে কাজ করবেন। তারা তাদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সেরা মেনুগুলো নির্বাচন করবেন। ফলে খাবারের স্বাদ, পুষ্টিগত মান, সঠিক উপাদানের পরিমাণ ইত্যাদি যথাযথ থাকবে।

৩. অনলাইন রেটিং সিস্টেম:

কিচেনের খাবারের মান এবং মেনু নিয়ে একটি অনলাইন রেটিং বা রিভিউ ব্যবস্থা থাকবে। যদি কোনো বিশেষ কিচেনের কোনো নির্দিষ্ট খাবার খুব জনপ্রিয় হয় এবং উচ্চ রেটিং পায়, তবে সেই তথ্য সিস্টেমের কাছে চলে যাবে।

৪. সেরা রেসিপির বিনিময়:

যে খাবারের রেসিপি বা মেনু উচ্চ রেটিং পাবে, শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সেই পদ্ধতি অন্য সব কিচেনেও ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এর ফলে প্রতিটি কিচেনে সেরা মানের মেনু নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

৫. মেনুর বৈচিত্র্য:

প্রতিদিনের মেনুতে প্রায় ১৫ থেকে ৩০ ধরনের পদ (Items) থাকবে, অনেকটা বড় কোনো অনুষ্ঠানের ভোজের মতো। যার যা পছন্দ, তিনি সেই পদটিই গ্রহণ করতে পারবেন।

৬. গুণমান নিয়ন্ত্রণ জবাবদিহিতা:

যদি কোনো কিচেনের মেনু বা খাবারের মান খারাপ হয়, তবে গ্রাহকরা নেতিবাচক রেটিং (Negative Rating) দিতে পারবেন। যদি ১০% এর বেশি মানুষ অসন্তোষ প্রকাশ করে, তবে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের জবাবদিহি করতে হবে বা প্রয়োজনে তাদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। অনলাইন সিস্টেম ব্যবহারের ফলে অভিযোগ নিষ্পত্তি দ্রুত সম্পন্ন হবে।

সংক্ষেপে, কমন কিচেনের মেনু কোনো একজন ব্যক্তি এককভাবে চাপিয়ে দেবে না; বরং এটি জনগণের পছন্দ, দক্ষ রাঁধুনিদের সৃজনশীলতা এবং প্রযুক্তিগত রেটিং সিস্টেমের মাধ্যমে সম্মিলিতভাবে নির্ধারিত হবে। এই ব্যবস্থাপনা দেশের সকল প্রদেশের বিভিন্ন সমাজের পছন্দ অনুযায়ী হবে।

 

 

 


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

রাষ্ট্র ব্যবস্থায় যে অধিকারগুলো জন্মগতভাবে থাকা জরুরী

কিউবার ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের কারণ কী?

ব্যবস্থাগত অসম্পূর্ণতা নাকি নেতৃত্বের ব্যর্থতা?