মার্কস প্রদত্ত দর্শনের সমালোচনা কি মার্কসীয় নীতির অংশ?
পূর্বের অধ্যায়গুলোতে সোভিয়েত ও চীনে মার্কসবাদ প্রয়োগের ইতিহাস বিস্তারিত আলোচিত হয়েছে। আমরা এও জেনেছি, কেন সোভিয়েত ও চীনের প্রয়োগ মার্কস প্রদত্ত নীতি অনুযায়ী ছিল না। জেনেছি লেনিন ও মাও এর নতুন পরীক্ষার ফলে কী দুর্দশা ঘটেছিল। জেনেছি যাদের উদ্দেশ্যে ছিল বিপ্লব ও সমাজতন্ত্র সেই কৃষক-মজুরদের অধিকার বাস্তবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। অর্থাৎ কম্যুনিস্ট পার্টি, সরকার ও আমলাদের সাথে সিংহভাগ জনতার সুখসুবিধা ও অধিকারের মধ্যে প্রবল ব্যবধান ছিল। বহু মার্কসবাদী এই বাস্তবতাগুলো মানতে চান না। অন্ধত্ব বর্জন করে এ বিষয়ে সমালোচনা না হওয়া আদতে মার্কসবাদের ক্ষতিই করেছে। মার্কসীয় লেখক ও নেতৃত্বদের ব্যাখ্যার সাথে বাস্তব ঘটনার তফাত প্রমাণিত হয়েছে। মার্কস প্রদত্ত সমাজতন্ত্র ও সাম্যবাদের প্রতি প্রবলভাবে উদ্বুদ্ধ হবার কারণে অনেক সময় ত্রুটি অগোচরে রয়ে গিয়েছে। এতে একই ভুলের পুনরাবৃত্তিও হয়েছে এবং ফলাফলও একই এসেছে।
এই বিষয়টিকে আমরা দুটি পর্বে আলোচনা করবো।
প্রথম পর্বে থাকবে কেন মার্কসীয় তত্ত্বের সমালোচনা এবং প্রয়োগের সমালোচনা মার্কসকে অপমান করা নয় এবং দ্বিতীয় পর্বে থাকবে সবকিছুকে প্রশ্ন করা কীভাবে মার্কসের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
রাজনৈতিক বা দার্শনিক অন্ধত্বের বিরুদ্ধে এটি একটি অত্যন্ত শক্তিশালী যুক্তি। মার্কসীয় দর্শনের সমালোচনা করা মার্কসকে অপমান করা নয়, বরং মার্কসের দেখানো পথই অনুসরণ করা।
মার্কস নিজেই তাঁর তত্ত্বকে কোনো চিরন্তন, অপরিবর্তনীয় ঐশ্বরিক বাণী বা ডগমা (Dogma) মনে করতেন না। তিনি স্পষ্টভাবেই তাঁর তত্ত্বকে সময়ের নিরিখে, বাস্তব অভিজ্ঞতা ও বিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে মিলিয়ে আপডেট বা পরিবর্তন করার তাগিদ দিয়েছিলেন। নিচে এর সুনির্দিষ্ট ঐতিহাসিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রামাণিক সত্যগুলো তুলে ধরা হলো:
## ১. মার্কসের প্রিয় নীতিবাক্য: "সবকিছুকে প্রশ্ন করো" (De Omnibus Dubitandum)—
মার্কসের চরিত্রের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল তাঁর তীব্র বৈজ্ঞানিক ও সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি।
* প্রমাণ:
১৮৬৫ সালে মার্কসের মেয়ে জেনি মার্কসকে কিছু প্রশ্ন করেছিলেন (যা ইতিহাসে 'Marx's Confessions' নামে পরিচিত)। সেখানে একটি প্রশ্ন ছিল—"আপনার প্রিয় নীতিবাক্য (Favorite Motto) কী?" মার্কস ল্যাটিন ভাষায় উত্তর দিয়েছিলেন: "De omnibus dubitandum", যার বাংলা অর্থ—"সবকিছুকেই অবিরত সন্দেহ করো" বা "সবকিছুকে প্রশ্ন করো"।
* তাৎপর্য:
যিনি নিজের অনুসারীদের সবকিছুকে প্রশ্ন করার শিক্ষা দেন, তিনি যে তাঁর নিজের তত্ত্বকেও অন্ধভাবে অনুকরণ করতে নিষেধ করেছেন, তা এই একটি বাক্যেই প্রমাণিত হয়।
## ২. বিদ্যমান সবকিছুর নির্মম সমালোচনা (Ruthless Criticism of All That Exists)—
১৮৪৩ সালে বন্ধু আরনল্ড রুজের কাছে লেখা একটি চিঠিতে মার্কস তাঁর দর্শনের মূল উদ্দেশ্য পরিষ্কার করেছিলেন।
* প্রমাণ:
মার্কস লিখেছিলেন: "আমরা বিশ্বের সামনে কোনো ডগমা বা অন্ধ মতবাদ নিয়ে হাজির হতে চাই না... আমাদের যা করতে হবে তা হলো—বিদ্যমান সবকিছুর এক নির্মম সমালোচনা (Ruthless criticism of all that exists), এই সমালোচনা ফলাফলের ভয়ে ভীত হবে না এবং ক্ষমতার সাথে সংঘর্ষেও পিছপা হবে।"
* তাৎপর্য:
মার্কসের এই 'নির্মম সমালোচনা'র নীতিটি তাঁর নিজের তত্ত্বের ওপরও সমভাবে প্রযোজ্য। সময় বদলে গেলে যদি তত্ত্বের ফলাফল বদলে যায়, তবে তত্ত্বের সংশোধন করাটাই প্রকৃত মার্কসবাদ।
## ৩. বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তত্ত্ব পরিবর্তন: 'কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো'র ভূমিকা (১৮৭২)—
মার্কস ও এঙ্গেলস যে বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে নিজেদের তত্ত্ব আপডেট করতেন, তার সবচেয়ে বড় লিখিত প্রমাণ রয়েছে ১৮৭২ সালের কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টোর জার্মান সংস্করণের ভূমিকায়।
* প্রমাণ:
১৮৭১ সালের 'প্যারিস কমিউন' (Paris Commune)-এর বিপ্লবী অভিজ্ঞতার পর মার্কস ও এঙ্গেলস যৌথভাবে ম্যানিফেস্টোর ভূমিকায় লেখেন: "গত পঁচিশ বছরে পরিস্থিতির অনেক বদল হয়েছে... এই ইশতেহারে বর্ণিত সাধারণ নীতিগুলো মোটের ওপর আজও সঠিক। কিন্তু, এগুলোর বাস্তব প্রয়োগ (Practical application) সব সময় এবং সর্বত্র নির্ভর করবে তৎকালীন ঐতিহাসিক পরিস্থিতির ওপর। সেই কারণে, দ্বিতীয় খণ্ডের শেষে যে বিপ্লবী পদক্ষেপগুলোর প্রস্তাব করা হয়েছে, আজ সেগুলোর ওপর অতিরিক্ত জোর দেওয়া ভুল হবে। আজকের দিনে এই অনুচ্ছেদটি অনেকখানি বদলে লিখতে হতো।"
* তাৎপর্য:
মার্কস নিজেই স্বীকার করেছেন যে ১৮৪৮ সালের লেখা তত্ত্ব ১৮৭২ সালের বাস্তব অভিজ্ঞতার নিরিখে খাপছাড়া হয়ে গেছে এবং একে পরিবর্তন বা আপডেট করা প্রয়োজন।
## ৪. জ্ঞানের উৎস তত্ত্ব বা প্র্যাক্সিস (Praxis)—
মার্কসের জ্ঞানতত্ত্ব বা '[Theses on Feuerbach] (১৮৪৫)-এর দ্বিতীয় থিসিসে তিনি পরিষ্কার করেছেন যে কোনো তত্ত্ব ঘরে বসে ভাবার বিষয় নয়, তা বাস্তব প্রয়োগের মাধ্যমে প্রমাণিত হতে হয়।
* প্রমাণ:
তিনি লিখেছেন: "মানুষের চিন্তা অবজেক্টিভ বা বাস্তব সত্য কিনা, তা কোনো তত্ত্বের বিতর্ক নয়, বরং একটি ব্যবহারিক (Practical) প্রশ্ন। মানুষকে অবশ্যই তার চিন্তার সত্যতা বাস্তবে (In practice) প্রমাণ করতে হবে।"
* তাৎপর্য:
যদি কোনো তত্ত্ব বাস্তব প্রয়োগের পর (যেমন সোভিয়েত রাশিয়া বা মাওবাদী চীনের কিছু অর্থনৈতিক মডেল) কাঙ্ক্ষিত ফলাফল দিতে ব্যর্থ হয় বা মানুষের মনস্তত্ত্বের সাথে সাংঘর্ষিক হয়, তবে সেই অভিজ্ঞতার আলোকেই তত্ত্বকে পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে। এটাই মার্কসের 'প্র্যাক্সিস' বা তত্ত্ব ও প্রয়োগের মেলবন্ধন।
## ৫. এঙ্গেলসের স্বীকারোক্তি: বিজ্ঞান ও ইতিহাসের সাথে তত্ত্বের পরিবর্তন—
মার্কসের আজীবন সহযোদ্ধা ফ্রেডরিখ এঙ্গেলস তাঁর Ludwig Feuerbach and the End of Classical German Philosophy গ্রন্থে দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদের গতিশীলতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে লিখেছেন:
* প্রমাণ:
"প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের প্রতিটি যুগান্তকারী আবিষ্কারের সাথে সাথে, বস্তুবাদকেও তার নিজের রূপ পরিবর্তন করতে হয় (Materialism has to change its form)। এবং মানব ইতিহাসের গতিপথ যখন নতুন মোড় নেয়, তখন ইতিহাসের ব্যাখ্যাকেও (ঐতিহাসিক বস্তুবাদ) নতুন রূপ দিতে হয়।"
* তাৎপর্য:
মার্কস ও এঙ্গেলস দুজনেই বিশ্বাস করতেন বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও সমাজ যত উন্নত হবে, তাদের তত্ত্বকেও তত বেশি আপডেট করতে হবে।
## উপসংহার—
অতএব, আপনার পূর্বে করা পোস্টটি তাত্ত্বিকভাবে সম্পূর্ণ সঠিক ছিল। মার্কসবাদ কোনো স্থবির ধর্মীয় অনুশাসন বা ধর্মগ্রন্থ নয় যে এর প্রতিটি লাইনকে চিরন্তন সত্য বলে মেনে নিতে হবে। মার্কসবাদ মূলত সমাজ ও অর্থনীতিকে বিশ্লেষণ করার একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি (Scientific Method)। বিজ্ঞানের নিয়মই হলো নতুন তথ্য, নতুন অভিজ্ঞতা এবং সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে পুরনো হাইপোথিসিস বা তত্ত্বকে সংশোধন ও পরিমার্জন করা।
আজকের যুগে দাঁড়িয়ে যাঁরা মার্কসের ১৯ শতকের সূত্রগুলোকে অন্ধভাবে অনুকরণ করতে চান, তাঁরা আসলে মার্কসের সবচেয়ে বড় অবমাননা করেন। আর যাঁরা বর্তমান সময়ের জটিলতা, মনস্তাত্ত্বিক বাস্তবতা এবং ইতিহাসের অভিজ্ঞতা দিয়ে মার্কসীয় তত্ত্বের ভুলগুলো সংশোধন করে একে যুগোপযোগী করতে চান, তাঁরাই প্রকৃত অর্থে মার্কসের বৈজ্ঞানিক ও সমালোচনামূলক নীতিকে বাঁচিয়ে রাখছেন।
দ্বিতীয় পর্ব—
## মার্কসের প্রিয় নীতিবাক্য—"সবকিছুকে প্রশ্ন করো"। এই নীতিবাক্য কি মার্কসের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য নয়?
এই নীতিবাক্যটি শতভাগ মার্কসের নিজের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য এবং মার্কসবাদীদের জন্য এটি একটি মৌলিক কর্তব্য।
মার্কস যদি আজ বেঁচে থাকতেন, তবে তিনি নিজেই নিজের তত্ত্বকে আধুনিক সমাজ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং বিংশ শতাব্দীর কমিউনিস্ট রাষ্ট্রগুলোর বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে কঠোরভাবে প্রশ্ন করতেন ও সংশোধন করতেন।
এই নীতিটি কেন মার্কসের নিজের ওপরও প্রযোজ্য, তা নিচে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট যৌক্তিক ও তাত্ত্বিক প্রমাণের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা হলো:
## ১. দ্বন্দ্বতত্ত্বের নিজস্ব নিয়ম (The Logic of Dialectics)—
মার্কসের দর্শনের মূল ভিত্তি হলো 'দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ' (Dialectical Materialism)। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, জগতের কোনো কিছুই স্থায়ী বা চিরন্তন নয়। সবকিছুই পরিবর্তনশীল এবং প্রতিনিয়ত পুরনোর সাথে নতুনের দ্বন্দ্বের মাধ্যমে সমাজ এগিয়ে যায়।
* যুক্তি:
যদি দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদের এই নিয়মটি মহাবিশ্বের সবকিছুর জন্য সত্য হয়, তবে তা খোদ 'মার্কসীয় তত্ত্বের' জন্যও সত্য।
* প্রয়োগ:
মার্কসের তত্ত্ব উনবিংশ শতাব্দীর শিল্প বিপ্লবের প্রেক্ষাপটে তৈরি হয়েছিল। আজকের ২১ শতকের ডিজিটাল অর্থনীতি ও গিগ ইকোনমির যুগে সেই পুরনো সূত্রগুলোকে প্রশ্ন না করে অন্ধভাবে গ্রহণ করা মানে মার্কসের নিজের 'দ্বন্দ্বতত্ত্ব'কেই অস্বীকার করা।
## ২. মার্কসীয় তত্ত্ব কোনো ধর্মগ্রন্থ বা 'ডগমা' নয়—
মার্কসের আজীবন সহযোদ্ধা ফ্রেডরিখ এঙ্গেলস বারবার সতর্ক করেছিলেন যে, তাঁদের তত্ত্বকে যেন কোনো অপরিবর্তনীয় ঐশ্বরিক বাণী হিসেবে দেখা না হয়।
* প্রমাণ:
এঙ্গেলস তাঁর বিখ্যাত একটি চিঠিতে স্পষ্ট লিখেছিলেন—"আমাদের ইতিহাসের তত্ত্বটি হলো মূলত অধ্যয়নের একটি গাইডলাইন, এটি কোনো তৈরি পোশাকের মতো নয় যা অন্ধভাবে গায়ে চড়িয়ে দেওয়া যাবে (Our conception of history is above all a guide to study, not a lever for construction after the manner of the Hegelian)."
* যুক্তি:
ধর্মগ্রন্থকে প্রশ্ন করা যায় না, কিন্তু বিজ্ঞান ও দর্শনকে প্রশ্ন করতেই হয়। মার্কসবাদ যেহেতু নিজেকে একটি সামাজিক বিজ্ঞান বলে দাবি করে, তাই বিজ্ঞানের নিয়মেই একে প্রতিনিয়ত প্রশ্ন ও পরীক্ষা (Experiment) করতে হবে।
## ৩. অন্ধ অনুকরণকারীদের প্রতি মার্কসের নিজেরই বিরক্তি—
মার্কসের জীবদ্দশায় যখন ফ্রান্সে একদল অনুসারী তাঁর তত্ত্বের মূল চেতনা না বুঝে আক্ষরিক অর্থে অন্ধ অনুকরণ শুরু করেছিল, তখন মার্কস অত্যন্ত বিরক্ত হয়েছিলেন।
* ঐতিহাসিক সত্য:
ফরাসি সমাজতন্ত্রী পল লাফার্গ এবং অন্যদের অন্ধ উগ্রতা দেখে মার্কস ফরাসি ভাষায় একটি বিখ্যাত মন্তব্য করেছিলেন—"Ce qu'il y a de certain c'est que moi, je ne suis pas Marxiste." যার বাংলা অর্থ—"একটি বিষয় অন্তত নিশ্চিত যে, আমি নিজে কোনো 'মার্কসবাদী' নই।"
* যুক্তি:
মার্কস নিজেই তাঁর নামের চারপাশে কোনো অন্ধ উপাসক দল বা 'Cult' তৈরি হোক তা চাননি। তিনি চেয়েছিলেন মানুষ যেন তাঁর তত্ত্বকে অন্ধভাবে বিশ্বাস না করে, বরং স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে শেখে।
## ৪. বাস্তব ফলাফলের ভিত্তিতে তত্ত্বের পুনর্মূল্যায়ন—
মার্কসের 'প্র্যাক্সিস' (Praxis) তত্ত্ব অনুযায়ী, যেকোনো চিন্তার সত্যতা প্রমাণিত হয় তার বাস্তব প্রয়োগের মাধ্যমে।
* যুক্তি:
বিংশ শতাব্দীতে সোভিয়েত ইউনিয়ন, পূর্ব ইউরোপ বা মাওবাদী চীনে মার্কসবাদের কিছু অর্থনৈতিক নীতি প্রয়োগ করার পর যখন দেখা গেল যে তা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, স্বৈরাচার এবং মানবিক স্বাধীনতার সংকটের জন্ম দিচ্ছে, তখন সেই বাস্তব ফলাফলের ওপর দাঁড়িয়ে মার্কসের তত্ত্বকে প্রশ্ন করাটা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়ে। কেন তত্ত্বটি বাস্তবে এই রূপ নিল—এই প্রশ্নটি তোলাই প্রকৃত মার্কসীয় চেতনা।
## উপসংহার—
মার্কসের দর্শনকে একটি 'খোলা জানালা'-র মতো দেখা উচিত, কোনো 'বন্ধ দেয়াল' হিসেবে নয়। যারা মার্কসকে কোনো প্রশ্নাতীত ঈশ্বর বানিয়ে ফেলেন, তারা আসলে মার্কসবাদের মূল বৈজ্ঞানিক আত্মাকেই হত্যা করেন।
তাই মার্কসের নিজের নীতি অনুযায়ী, তাঁর দর্শনের সীমাবদ্ধতা, ভুল পূর্বাভাস এবং মানব মনস্তত্ত্ব বুঝতে তাঁর খামতিগুলোকে খোলা মনে প্রশ্ন করা এবং সময়ের নিরিখে তা সংশোধন করাই হলো প্রকৃত প্রগতিশীলতা।
***
কার্ল মার্কস ও ফ্রিডরিখ এঙ্গেলসের কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো (Communist Manifesto) বা কমিউনিস্ট ইশতেহার প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ১৮৪৮ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি। অর্থাৎ বর্তমান ২০২৬ সাল অনুযায়ী এটি ১৭৮ বছর আগে লন্ডন ও যুক্তরাজ্যে জার্মান ভাষায় প্রকাশিত হয়েছিল। এরপর একাধিক দেশে মার্কসের থিয়োরিকে প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা হয়েছে। এর মধ্যে সোভিয়েত ও চীনের প্রয়োগ এবং ফলাফল আমরা জেনেছি।
পরবর্তী অধ্যায়ে প্রবেশের পূর্বে কয়েকটি প্রশ্ন—আমরা কেন মার্কসবাদ চর্চা করছি এবং প্রয়োগের ইতিহাস পড়ছি? মার্কস প্রদত্ত থিয়োরির কোন সিদ্ধান্ত জাগতিক এবং কোন সিদ্ধান্ত সময়ের সাথে আপডেট হওয়া জরুরী? এই প্রশ্নগুলোর আলোচনা, সমীক্ষা ও সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া একদিকে যেমন মার্কসেরই পদ্ধতি অপরদিকে সময়ের নিরিখে এই কাজ না হলে মার্কসবাদ কি একটি থিয়োরি হিসেবেই থেকে যাবে?
আপনারাও প্রশ্ন এবং মতামত জানাতে পারেন।
পরবর্তী অধ্যায়ে থাকবে,
জগতের সমস্তকিছু পরিবর্তনশীল। এই সিদ্ধান্তের নিরিখে মার্কসীয় তত্ত্বের কোন বিষয়গুলো সময়ের নিরিখে আপডেট হওয়া জরুরী। মার্কসের কোন কোন অনুমানগুলো সময়ের সাথে ভুল প্রমাণিত হয়েছে। অর্থাৎ মার্কস প্রদত্ত রূপরেখা অনুযায়ী ঘটেনি।
বর্তমান যুগের বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী বা চিন্তাবিদ যারা মার্কসকে শ্রদ্ধা করেও তাঁর তত্ত্বের আধুনিক সময়ের আলোকে সমালোচনা বা সংস্কার করেছেন।
***
মতামত জানাবেন।
***
লাইক শেয়ার কমেন্ট ফলো করতে ভুলবেন না।
***
#marxandengels #karlmarx #FriedrichEngels #CommunistManifesto #daskapital #marxism #PoliticalTheory #PoliticalPhilosophy #EconomicHistory #historybuff #Socialism101 #ClassStruggle #LaborHistory #philosophyquotes #HistoricalMaterialism #critiqueofcapitalism #PoliticalScience #industrialrevolution #SocialJustice #LeftistHistory #EconomicTheory #GreatThinkers #historygeek #readingthemanifesto
***

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন