স্তালিন আমলের ইতিবাচক দিকের প্রচার অধিক হলেও নেতিবাচক দিকটি জানাই অধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন?


পর্ব ১

জোসেফ স্তালিনের নেতৃত্বে সোভিয়েত ইউনিয়নের দ্রুত শিল্পায়ন এবং মহাকাশ গবেষণার ভিত্তি স্থাপন (যার ফলশ্রুতিতে ১৯৫৭ সালে স্পুটনিক ১ উৎক্ষেপণ করা হয়) এক বিশাল অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সাফল্য ছিল, কিন্তু এর একটি অত্যন্ত অন্ধকার এবং নেতিবাচক দিক রয়েছে। স্তালিনের এই রাষ্ট্রীয় অগ্রগতির পেছনে লাখ লাখ মানুষের জীবনহানি, চরম অত্যাচার এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ইতিহাস জড়িয়ে আছে।

স্তালিনের আমলের প্রধান নেতিবাচক এবং নির্মম দিকগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:

* মহাদূর্ভিক্ষ (হলোডোমোর)—১৯৩২-১৯৩৩ সালের মধ্যে স্তালিনের জোরপূর্বক কৃষিজমির যৌথকরণ (Collectivization) নীতির কারণে ইউক্রেন, কাজাখস্তান এবং রাশিয়ার কিছু অংশে এক ভয়াবহ কৃত্রিম দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। শুধুমাত্র ইউক্রেনেই প্রায় ৩০ থেকে ৫০ লাখ মানুষ না খেয়ে মারা যায়, যা 'হলোডোমোর' নামে পরিচিত।

* মহা-সন্ত্রাস বা গ্রেট পার্জ (Great Purge)—১৯৩৬ থেকে ১৯৩৮ সালের মধ্যে স্তালিন নিজের ক্ষমতা নিষ্কণ্টক করতে কমিউনিস্ট পার্টির ভেতরের বিরোধী নেতা, সেনা কর্মকর্তা, বুদ্ধিজীবী এবং সাধারণ নাগরিকদের ওপর ব্যাপক দমন-পীড়ন চালান। আনুমানিক ৭ থেকে ১২ লাখ মানুষকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

* গুলাগ (Gulag) শ্রমশিবির—স্তালিনের আমলে লাখ লাখ রাজনৈতিক বন্দী, বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী এবং সাধারণ মানুষকে সাইবেরিয়াসহ বিভিন্ন দুর্গম অঞ্চলের 'গুলাগ' নামক বাধ্যতামূলক শ্রমশিবিরে পাঠানো হয়। চরম ঠাণ্ডা, অনাহার এবং অতিরিক্ত খাটুনির ফলে সেখানে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ মানুষ মারা যান।

* জোরপূর্বক উচ্ছেদ ও নির্বাসন—স্তালিন প্রায় ক্ষতিকর বা "রাষ্ট্রদ্রোহী" মনে করে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীকে (যেমন- চেচেন, তাতার, কোরিয়ান এবং পোলিশ) তাদের পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি থেকে জোরপূর্বক মধ্য এশিয়া বা সাইবেরিয়ায় নির্বাসিত করেন। পথেই মারা যান লাখ লাখ মানুষ।

* ব্যক্তিপূজা ও একনায়কতন্ত্র—স্তালিন সোভিয়েত ইউনিয়নে এমন এক স্বৈরাচারী ব্যবস্থা তৈরি করেছিলেন যেখানে গণমাধ্যমের কোনো স্বাধীনতা ছিল না। চারপাশের মানুষের মধ্যে তীব্র ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল এবং স্তালিনকে প্রায় ঈশ্বরের মতো প্রদর্শন (Cult of Personality) করা হতো।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, স্তালিন সোভিয়েত ইউনিয়নকে একটি পারমাণবিক ও শিল্পোন্নত পরাশক্তিতে পরিণত করেছিলেন ঠিকই, কিন্তু তার জন্য সাধারণ মানুষকে দিতে হয়েছিল অকল্পনীয় রক্ত ও প্রাণের মূল্য।


## সোভিয়েত ইতিহাসের ধারাবাহিক নিয়ে কাজ করতে গিয়ে যে সমস্ত শিহরিত ঘটনা উঠে এসেছে জেনে অবাক হয়েছি। বাম লেখকগণ কতখানি অন্ধত্ব পোষণ করেন তা বুঝেছি। লেনিন, স্তালিন ও কেজিবির গোপন নথি ১৯৯১ এর পর রাশিয়ান সরকার দ্বারা অফিসিয়ালি ওপেন। এমনকি ওপেন করে দিয়েছে আর্কাইভও। বিশ্বের ইতিহাসবিদগণ সেইসব নথির সত্যতা যাচাইও করে নিয়েছেন। সকল তথ্য আজকাল উপলব্ধ। স্তালিন বিষয়ে এই সংক্ষিপ্ত একপাক্ষিক লেখায় তাঁকে ব্যক্তিপূজায় গুণগান করা হয়েছে। যা সঠিক সমীক্ষা নয় বরং সমাজের সাথে মিথ্যাচার। সোভিয়েত ও চীনের ধারাবাহিক ইতিহাস ইচ্ছে না থাকা সত্ত্বেও ফেসবুকের মতন সমাজ মাধ্যমেই পরিবেশন করেছি। উদ্দেশ্য ছিলঃ সকলে যেন পড়তে পারেন, জানতে পারেন।



পর্ব ২

১৯৫৬ সালে নিকিতা ক্রুসচেভের ঐতিহাসিক "গোপন বক্তৃতা" (Secret Speech) এবং পরবর্তীতে ১৯৯০-এর দশকে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মুখে সোভিয়েত গোপন নথি (Soviet Archives) উন্মুক্ত হওয়ার পর স্তালিনের নিষ্ঠুর একনায়কতন্ত্রের এমন সব তথ্য প্রমাণসহ বেরিয়ে আসে যা বিশ্বকে স্তম্ভিত করে দেয়। এর আগে যেসব ঘটনাকে পশ্চিমা অপপ্রচার বলে উড়িয়ে দেওয়া হতো, রাষ্ট্রীয় দলিলে সেগুলো সত্য বলে প্রমাণিত হয়। উন্মুক্ত হওয়া নথির মাধ্যমে স্তালিনের যেসব গোপন ও ভয়ঙ্কর তথ্য সামনে আসে, তা নিচে দেওয়া হলো:

## ১. ক্রুসচেভের গোপন বক্তৃতা (১৯৫৬) থেকে প্রাপ্ত তথ্য—

১৯৫৬ সালে কমিউনিস্ট পার্টির ২০তম কংগ্রেসে ক্রুসচেভ স্তালিনের "ব্যক্তিপূজা" ও স্বৈরাচারী আচরণের তীব্র নিন্দা করেন:

* লেনিনের শেষ ইচ্ছা গোপন করা—ভ্লাদিমির লেনিন মৃত্যুর আগে একটি চিঠি লিখেছিলেন (Lenin's Testament), যেখানে তিনি স্তালিনকে অত্যন্ত রুঢ়, নিষ্ঠুর ও বিপজ্জনক বলে উল্লেখ করে তাকে দলের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সুপারিশ করেছিলেন। স্তালিন এটি চেপে যান, যা ক্রুসচেভ ফাঁস করে দেন।

* নির্দোষ কমিউনিস্টদের নিধন—স্তালিন নিজের ক্ষমতা ধরে রাখতে কমিউনিস্ট পার্টির অনুগত নেতা, সমাজতন্ত্রী এবং সেনাবাহিনীর দক্ষ জেনারেলদের "জনগণের শত্রু" সাজিয়ে হত্যা করেছিলেন।

* যুদ্ধকালীন কাপুরুষতা ও ব্যর্থতা—ক্রুসচেভ অভিযোগ করেন যে, ১৯৪১ সালে জার্মানির আকস্মিক আক্রমণের পর স্তালিন ভয়ে ও পক্ষাঘাতগ্রস্তের মতো কয়েকদিন অবশ হয়ে লুকিয়ে ছিলেন। তিনি সামরিক কমান্ডারদের যুক্তিসঙ্গত পরামর্শ উপেক্ষা করায় যুদ্ধের শুরুতে লাখ লাখ সোভিয়েত সেনা মারা যান।


পর্ব ৩

## ২. ১৯৯০ সালে সোভিয়েত গোপন নথি (Archives) উন্মুক্ত হবার পর প্রাপ্ত তথ্য—

১৯৮৯-১৯৯০ সালের মিখাইল গর্বাচেভের "গ্লাসনস্ত" (উন্মুক্ততা) নীতি এবং ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর আসল নথিপত্র বিশ্বের ঐতিহাসিকদের হাতে আসে। এর মাধ্যমে নিম্নলিখিত অন্ধকার সত্যগুলো প্রমাণিত হয়:

* কাতিন গণহত্যা (Katyn Massacre) ও স্তালিনের সরাসরি স্বাক্ষর—১৯৪০ সালে পোল্যান্ডের প্রায় ২২,০০০ আটক সেনা কর্মকর্তা এবং বুদ্ধিজীবীকে বনের ভেতর গুলি করে হত্যা করা হয়। এতদিন সোভিয়েত ইউনিয়ন দাবি করত এটি জার্মানির কাজ। কিন্তু ১৯৯০ সালে বের হওয়া ফাইলে দেখা যায়, স্তালিন নিজে ওই পোলিশ বন্দীদের মৃত্যুদণ্ডের আদেশে স্বাক্ষর করেছিলেন।

* হলোদুমোর বা কৃত্রিম দুর্ভিক্ষের সত্যতা—ইউক্রেনের মানবসৃষ্ট দুর্ভিক্ষের নথিপত্র প্রমাণ করে যে, এটি কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছিল না। স্তালিন ইচ্ছাকৃতভাবে ইউক্রেনের সমস্ত খাদ্যশস্য ও বীজ কেড়ে নিয়েছিলেন এবং ক্ষুধার্ত মানুষদের ওই অঞ্চল থেকে বের হওয়া নিষিদ্ধ করতে সেনা মোতায়েন করেছিলেন।

* নাৎসি জার্মানির সাথে গোপন চুক্তি (Molotov–Ribbentrop Pact)—১৯৩৯ সালে জার্মানির সাথে সোভিয়েতের যে অনাক্রমণ চুক্তি হয়েছিল, তার একটি গোপন অংশ (Secret Protocol) ১৯৯০ সালে উন্মুক্ত হয়। এতে দেখা যায়, স্তালিন ও হিটলার গোপনে আলোচনা করে পোল্যান্ড, ফিনল্যান্ড এবং বাল্টিক রাষ্ট্রগুলোকে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার চুক্তি করেছিলেন। অর্থাৎ, যুদ্ধের শুরুতে স্তালিন প্রকারান্তরে হিটলারের সহযোগী ছিলেন।

* গুলাগের বন্দীদের প্রকৃত পরিসংখ্যান—ফাইলে দেখা যায় গুলাগ শ্রমশিবিরে বন্দীদের দিয়ে ক্রীতদাসের মতো কাজ করিয়ে খনি খনন, বড় বড় খাল ও রেললাইন তৈরি করা হতো। নথিতে কোটি কোটি বন্দীর নাম, তাদের ওপর হওয়া নির্যাতন এবং মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট হিসাব পাওয়া যায়, যা আগে রাষ্ট্র গোপন রাখত।

* মৃত্যুদণ্ডের কোটা পদ্ধতি—নথিতে অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য মেলে যে, স্তালিন ও তার গোপন পুলিশ বাহিনী (NKVD) বিভিন্ন অঞ্চলের জন্য মানুষকে হত্যার 'কোটা' বা লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দিত (যেমন—অমুক অঞ্চল থেকে ৫,০০০ 'সন্ত্রাসী' ধরে ৩,০০০ জনকে গুলি করতে হবে)। স্থানীয় কর্মকর্তারা স্তালিনের নজরে আসতে প্রায়ই কোটার চেয়ে বেশি মানুষকে গুলি করে মারতেন।

সংক্ষেপে—ক্রুসচেভ যেখানে মূলত কমিউনিস্ট পার্টির ভেতরের নেতাদের ওপর স্তালিনের অত্যাচারের কথা প্রকাশ করেছিলেন, ১৯৯০ সালের নথিপত্র প্রমাণ করে যে স্তালিনের নৃশংসতা শুধু দলের ভেতর নয়, বরং গোটা সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং তার প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর কোটি কোটি সাধারণ মানুষের ওপর বিষাক্ত থাবা বসিয়েছিল।


পর্ব ৪

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি বরণ করে, যেখানে প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ মানুষ মারা যান। এর বিপরীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের অর্থনৈতিক ও সামরিক  সহায়তা সোভিয়েত ইউনিয়নের যুদ্ধ জয়ে এবং টিকে থাকতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।

যুদ্ধকালীন প্রাণহানি এবং মিত্র দেশগুলোর সহায়তার বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:

## ১. সেনা ও সাধারণ মানুষের প্রাণহানির পরিসংখ্যান—

সোভিয়েত ইউনিয়ন—২ কোটি ৭০ লাখ, জার্মানি—৬৮ থেকে ৮৮ লাখ এবং আমেরিকা—৪ লাখ ১৮ হাজার।

## ২. আমেরিকা ও ব্রিটেনের কাছ থেকে সোভিয়েতের সহায়তা—

* ল্যান্ড-লিজ নীতি (Lend-Lease Act)—এটি ছিল আমেরিকার সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক সহায়তা। এই কর্মসূচির আওতায় আমেরিকা সোভিয়েত ইউনিয়নকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিমান, এবং কাঁচামাল সরবরাহ করে।

* যানবাহন ও লজিস্টিকস—যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত সেনা ও রসদ সরবরাহের জন্য আমেরিকা সোভিয়েতকে প্রায় ৪,০০,০০০ জিপ ও ট্রাক এবং ২,০০০ এর বেশি রেল ইঞ্জিন সরবরাহ করে। এটি সোভিয়েত লাল ফৌজের (Red Army) গতিশীলতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল।

* খাদ্য ও জ্বালানি—সোভিয়েতের প্রধান প্রধান কৃষিশিল্পের অঞ্চলগুলো জার্মানি দখল করে নেওয়ায় সেখানে তীব্র খাদ্যসংকট দেখা দেয়। এই সময় আমেরিকা সোভিয়েতকে লাখ লাখ টন খাবার (বিশেষ করে টিনজাত মাংস ও ময়দা) এবং উচ্চ-মানের বিমান জ্বালানি পাঠায়।

* ব্রিটিশ আর্কটিক কনভয় (Arctic Convoys)—ব্রিটেন তাদের রাজকীয় নৌবাহিনীর মাধ্যমে অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং বরফাবৃত উত্তর মহাসাগর পাড়ি দিয়ে সোভিয়েতের 'মুরমানস্ক' ও 'আরখানগেলস্ক' বন্দরে যুদ্ধের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল, ট্যাংক এবং যুদ্ধবিমান পৌঁছে দিত।

* গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান—ব্রিটিশ গোয়েন্দারা জার্মানির গোপন কোড (Enigma) ভেঙে নাৎসি বাহিনীর আক্রমণের ছক আগে থেকেই সোভিয়েতকে জানিয়ে সাহায্য করত, যার ফলে সোভিয়েত বাহিনী প্রতিরক্ষার সুবর্ণ সুযোগ পায়।

সংক্ষেপে বলতে গেলে—সোভিয়েত সেনারা নিজেদের রক্ত এবং বিপুল জীবনের বিনিময়ে জার্মানিকে স্থলযুদ্ধে পরাস্ত করেছিল ঠিকই, কিন্তু মার্কিন ও ব্রিটিশ অর্থনৈতিক ও লজিস্টিক সহায়তা ছাড়া সোভিয়েতের পক্ষে এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব ছিল।


পর্ব ৫

জোসেফ স্তালিনের একমাত্র কন্যা স্বেতলানা আলিলুয়েভা (Svetlana Alliluyeva) (পরবর্তীতে মার্কিন নাগরিকত্ব নিয়ে লানা পিটার্স নামে পরিচিত হন) তাঁর পিতাকে একজন "নৈতিক ও আধ্যাত্মিক দানব" (Moral and Spiritual Monster) এবং তাঁর শাসনব্যবস্থাকে একটি "হত্যাকারী ব্যবস্থা" হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ১৯৬৭ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে দলত্যাগ (Defection) করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নেওয়ার পর তিনি বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তৈরি করেন। তিনি তাঁর বাবার নিষ্ঠুর একনায়কতন্ত্র এবং পারিবারিক জীবনের গোপন অন্ধকার দিক নিয়ে একাধিক স্মৃতিকথামূলক বই লিখেছেন এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বিস্ফোরক সাক্ষাৎকার দিয়েছেন।

স্বেতলানা তাঁর পিতার প্রসঙ্গে যা লিখেছেন ও বলেছেন, তার সুনির্দিষ্ট প্রামাণিক বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:

## ১. লিখিত স্মৃতিকথা ও বইয়ের প্রমাণ (Written Evidence)

সোভিয়েত ইউনিয়ন ছাড়ার পর স্বেতলানা বেশ কয়েকটি বই প্রকাশ করেন, যা স্তালিনের অভ্যন্তরীণ নিষ্ঠুরতার অকাট্য দলিল হিসেবে গণ্য করা হয়:

* 'টুয়েন্টি লেটার্স টু আ ফ্রেন্ড' (Twenty Letters to a Friend - 1967): এই বিশ্বখ্যাত স্মৃতিকথায় স্বেতলানা ক্রেমলিনের ভেতরের অবরুদ্ধ ও ভীতিময় জীবনের বর্ণনা দেন। তিনি লিখেছেন যে, বড় হওয়ার পর তিনি যখন বুঝতে পারেন তাঁর বাবা লাখ লাখ নির্দোষ মানুষকে সাইবেরিয়ার শ্রমশিবিরে (Gulag) পাঠাচ্ছেন ও হত্যা করছেন, তখন তাঁর মানসিক জগত ভেঙে চুরমার হয়ে যায়।

* বইয়ের উক্তি: "সবকিছু আমার মানসিক ভারসাম্য প্রায় কেড়ে নিয়েছিল... এরপর থেকে আমার বাবার কোনো কথা বা আদেশ চোখ বন্ধ করে মেনে নেওয়া আমার পক্ষে আর সম্ভব ছিল না।" (উৎস: [Goodreads: Stalin's Daughter Quotes by Rosemary Sullivan.

* 'অনলি ওয়ান ইয়ার' (Only One Year - 1969): এই বইটিতে তিনি কেন সাম্যবাদী ব্যবস্থা এবং তাঁর বাবার নিষ্ঠুর উত্তরাধিকারকে পুরোপুরি ত্যাগ করে আমেরিকায় রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়েছিলেন, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। এই গ্রন্থে তিনি পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করেন যে, তিনি তাঁর পিতার কৃতকর্মের জন্য তীব্র লজ্জিত।

## ২. সাক্ষাৎকারে দেওয়া মৌখিক বক্তব্য (Spoken Evidence)

আমেরিকায় পৌঁছানোর পর ১৯৬৭ এবং ১৯৬৯ সালে দেওয়া বিভিন্ন ঐতিহাসিক সাক্ষাৎকারে স্বেতলানা তাঁর পিতার শাসনব্যবস্থা এবং ব্যক্তিস্বভাব নিয়ে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেন:

* পিতাকে 'দানব' আখ্যা দেওয়া: ১৯৬৯ সালে বিবিসি (BBC)-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি সরাসরি তাঁর পিতাকে একনায়ক এবং অমানবিক হিসেবে চিত্রিত করেন।

* সাক্ষাৎকারের উক্তি: "তিনি (স্তালিন) শুধু একজন স্বৈরাচারী শাসকই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন একজন নৈতিক ও আধ্যাত্মিক দানব, যিনি নিজের ক্ষমতার জন্য পুরো দেশের মানুষকে ক্রীতদাসে পরিণত করেছিলেন।" উৎস: BBC Archive 1969: Stalin's Daughter Interview.

* নামের বন্দিদশা: ২০১০ সালে The Hindu-কে দেওয়া এক শেষ সাক্ষাৎকারে তাঁর জীবনের ট্র্যাজেডি প্রকাশ করে বলেছিলেন: "আমি যেখানেই যাই না কেন—আমেরিকা হোক বা সুইজারল্যান্ড, আমি সবসময় আমার পিতার নামের একজন রাজনৈতিক বন্দী হয়েই রয়ে গেলাম।"

## ৩. স্তালিনের পারিবারিক নিষ্ঠুরতার প্রমাণ

স্বেতলানা প্রকাশ করেন যে, স্তালিন শুধু দেশের মানুষের ওপরই নয়, নিজের পরিবারের ওপরও চরম নিষ্ঠুর ছিলেন:

* মায়ের আত্মহত্যা: স্বেতলানার বয়স যখন মাত্র ৬ বছর, তখন তাঁর মা (স্তালিনের দ্বিতীয় স্ত্রী নাদেজদা) স্তালিনের নিষ্ঠুর আচরণ সহ্য করতে না পেরে মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করেন। রাষ্ট্র এটিকে অসুস্থতাজনিত মৃত্যু বলে প্রচার করলেও স্বেতলানা পরে আসল সত্য জানতে পারেন এবং তাঁর বাবার প্রতি তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়।

* প্রেমিককে নির্বাসন: ১৬ বছর বয়সে স্বেতলানা 'আলেক্সেই কাপলার' নামের এক ইহুদি চলচ্চিত্র নির্মাতার প্রেমে পড়েন। স্তালিন এতে ক্ষিপ্ত হয়ে কাপলারকে ১০ বছরের জন্য সাইবেরিয়ার বরফাবৃত 'ভোরকুটা' শ্রমশিবিরে নির্বাসিত করেন। স্বেতলানা লিখেছেন, এটাই ছিল প্রথম ঘটনা যা দেখে তিনি বোঝেন তাঁর পিতা দেশের মানুষের সাথে কীরূপ নৃশংস আচরণ করেন।

## তথ্য যাচাইয়ের জন্য নির্ভরযোগ্য লিংক (Evidence Links):

1. স্বেতলানার দলত্যাগ এবং পিতাকে "দানব" ডাকার ঐতিহাসিক বিবরণ জানতে দেখুন: Svetlana Alliluyeva - Wikipedia

2. বিবিসি-র আর্কাইভে থাকা তাঁর ১৯৬৯ সালের মূল ভিডিও সাক্ষাৎকারটি দেখতে পারেন এখানে: 1969: Stalin's Daughter on Defecting From the Soviet Union (YouTube)

3. তার জীবনের ওপর লিখিত পুরস্কারজয়ী জীবনীগ্রন্থ: Stalin's Daughter: The Extraordinary and Tumultuous Life of Svetlana Alliluyeva

সব মিলিয়ে, স্তালিনের কন্যা নিজেই প্রমাণ করে গেছেন যে, সোভিয়েত প্রচারযন্ত্রের আড়ালে স্তালিন আসলে ছিলেন চরম অত্যাচারী ও নিষ্ঠুর স্বভাবের একজন মানুষ।


পর্ব ৬

কার্ল মার্কসের মূল সাম্যবাদী দর্শন এবং জোসেফ স্তালিনের আমলে বাস্তবায়িত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার (স্তালিনবাদ) মধ্যে তাত্ত্বিক ও প্রয়োগিক ক্ষেত্রে গভীর মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। মার্কস যেখানে একটি রাষ্ট্রহীন, শ্রেণীহীন মুক্ত সমাজের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, স্তালিন সেখানে একটি চরম আমলাতান্ত্রিক ও সর্বাত্মকবাদী (Totalitarian) রাষ্ট্রীয় কাঠামো তৈরি করেছিলেন।

নিচে তাঁদের মূল পার্থক্যগুলো প্রধান কয়েকটি স্তম্ভের ভিত্তিতে আলোচনা করা হলো:


## ১. রাষ্ট্রের ভূমিকা ও অস্তিত্ব (Role of the State)


* মার্কসের দর্শন: মার্কসের তাত্ত্বিক মডেলে সমাজতন্ত্র ছিল সাম্যবাদে পৌঁছানোর একটি অন্তর্বর্তীকালীন ধাপ মাত্র। তাঁর মতে, উৎপাদনের উপায়গুলো জনগণের নিয়ন্ত্রণে চলে আসার পর এবং শ্রেণীভেদ বিলুপ্ত হলে একসময় রাষ্ট্রের কোনো প্রয়োজন থাকবে না এবং রাষ্ট্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত (Wither away) হয়ে যাবে।

* স্তালিনের ব্যবস্থা: স্তালিন মার্কসের এই ধারণার বিপরীত মেরুতে গিয়ে সোভিয়েত ইউনিয়নে রাষ্ট্রের ক্ষমতাকে চরম স্তরে নিয়ে যান। "এক দেশে সমাজতন্ত্র" (Socialism in One Country) নীতির অধীনে তিনি রাষ্ট্রকে সমাজ ও অর্থনীতির সর্বময় নিয়ন্ত্রক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন, যা মার্কসীয় বিলুপ্তির ধারণার সম্পূর্ণ পরিপন্থী ছিল।


## ২. আন্তর্জাতিকতাবাদ বনাম জাতীয়তাবাদ (Internationalism vs. Nationalism)


* মার্কসের দর্শন: মার্কসের মূল স্লোগানই ছিল, "দুনিয়ার মজদুর, এক হও!"। তিনি বিশ্বাস করতেন পুঁজিবাদের চরিত্র বৈশ্বিক, তাই সাম্যবাদী বিপ্লবকেও হতে হবে আন্তর্জাতিক বা বিশ্ববিপ্লব। কোনো একটি নির্দিষ্ট দেশের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে সমাজতন্ত্র আটকে থাকতে পারে না।

* স্তালিনের ব্যবস্থা: স্তালিন ট্রটস্কির "স্থায়ী বিপ্লব" বা বিশ্ববিপ্লবের ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি নিজের ক্ষমতা সুসংহত করতে "এক দেশে সমাজতন্ত্র" তত্ত্ব দেন। তিনি বিশ্ববিপ্লবের চেয়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের নিজস্ব সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি বৃদ্ধি এবং রুশ জাতীয়তাবাদকে পুনরুজ্জীবিত করার ওপর জোর দেন।


## ৩. শ্রমিক শ্রেণীর একনায়কত্ব বনাম আমলাতান্ত্রিক একনায়কত্ব (Dictatorship of the Proletariat)


* মার্কসের দর্শন: মার্কস "শ্রমিক শ্রেণীর একনায়কত্ব" বলতে বুঝিয়েছিলেন শোষক পুঁজিপতিদের দমনের জন্য শ্রমিকদের সমষ্টিগত ও গণতান্ত্রিক শাসন। এটি কোনো একক ব্যক্তি বা দলের একনায়কত্ব ছিল না, বরং সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের শাসন ছিল।

* স্তালিনের ব্যবস্থা: স্তালিনের আমলে এটি রূপান্তরিত হয় কমিউনিস্ট পার্টির (বিশেষত স্তালিনের নিজের) একনায়কত্বে। সমস্ত ক্ষমতা চলে যায় দলের শীর্ষ আমলাতন্ত্রের (Nomenklatura) হাতে। স্তালিনের সিদ্ধান্তের বাইরে কোনো ভিন্নমত প্রকাশের স্বাধীনতা শ্রমিকদেরও ছিল না।


## ৪. অর্থনীতি ও কৃষি ব্যবস্থা (Economy and Agriculture)


* মার্কসের দর্শন: মার্কস চেয়েছিলেন উৎপাদনের উপায়ের ওপর কোনো ব্যক্তিগত মালিকানা থাকবে না, বরং তা সমাজের সবার যৌথ নিয়ন্ত্রণে থাকবে। তবে তিনি চাষীদের বা মেহনতি মানুষের ওপর জোরপূর্বক রাষ্ট্রীয় নির্যাতন বা নিপীড়ন সমর্থন করেননি।

* স্তালিনের ব্যবস্থা: স্তালিন পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার মাধ্যমে দ্রুত শিল্পায়নের জন্য জোরপূর্বক যৌথ খামার ব্যবস্থা (Collectivization) চালু করেন। এর ফলে 'কুলাক' (ধনী চাষী) এবং লক্ষ লক্ষ সাধারণ কৃষক নিজেদের জমি ও গবাদি পশু হারায়, যা পরবর্তীতে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ (যেমন ইউক্রেনের 'হলোডোমোর') ডেকে এনেছিল।


## ৫. মানবিক মুক্তি বনাম সর্বাত্মকবাদী দমননীতি (Human Liberation vs. Totalitarianism)


* মার্কসের দর্শন: মার্কসের দর্শনের মূল লক্ষ্য ছিল পুঁজিবাদী ব্যবস্থার শৃঙ্খল থেকে মানুষের মানবিক ও আত্মিক মুক্তি (Emancipation), যেখানে মানুষ তার শ্রমের সঠিক মূল্য পাবে এবং বিচ্ছিন্নতাবোধ (Alienation) থেকে মুক্তি পাবে।

* স্তালিনের ব্যবস্থা: স্তালিনের ব্যবস্থা ছিল চরম পুলিশি রাষ্ট্র এবং দমনমূলক। ১৯৩০-এর দশকের "গ্রেট পার্জ" (Great Purge) বা মহানিষ্কাশনের মাধ্যমে স্তালিন নিজের দলের ভেতরের প্রতিপক্ষ, বুদ্ধিজীবী এবং সাধারণ মানুষকে সাইবেরিয়ার শ্রমশিবিরে (Gulag) পাঠান অথবা মৃত্যুদণ্ড দেন। মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এখানে সম্পূর্ণরূপে খর্ব হয়।


## এক নজরে মূল বৈসাদৃশ্য:


মূল লক্ষ্য—

কার্ল মার্কসের দর্শন—রাষ্ট্রহীন, শ্রেণীহীন মুক্ত মানব সমাজ।

জোসেফ স্তালিনের ব্যবস্থা—শক্তিশালী ও সর্বময় ক্ষমতাসম্পন্ন রাষ্ট্র কাঠামো।


বিপ্লবের পরিধি—

কার্ল মার্কসের দর্শন—আন্তর্জাতিক ও বৈশ্বিক বিপ্লব।

জোসেফ স্তালিনের ব্যবস্থা—এক দেশের ভেতরেই সমাজতন্ত্র সুদৃঢ় করা।


ক্ষমতার কেন্দ্র—

কার্ল মার্কসের দর্শন—সাধারণ শ্রমিক ও জনগণের সমষ্টিগত নিয়ন্ত্রণ।

জোসেফ স্তালিনের ব্যবস্থা—কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ নেতৃত্ব ও সুনির্দিষ্ট আমলাতন্ত্র।


ভিন্নমতের স্থান—

কার্ল মার্কসের দর্শন—পুঁজিবাদ বিরোধী কিন্তু তাত্ত্বিক স্বাধীনতায় বিশ্বাসী।

জোসেফ স্তালিনের ব্যবস্থা—যেকোনো ভিন্নমত বা বিরোধিতার নির্মম দমন।


সংক্ষেপে বলা যায়, মার্কসের তাত্ত্বিক সাম্যবাদ যেখানে মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমতার মাধ্যমে পরম মুক্তির কথা বলেছিল, স্তালিনবাদ ছিল সেই তত্ত্বকে ব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার চরম কেন্দ্রীকরণ এবং জোরপূর্বক আধুনিকায়নের একটি কঠোর প্রশাসনিক মডেল।


***

তথ্য-উৎস ও গ্রন্থপঞ্জি—

সোভিয়েত গোপন নথি (Soviet Archives) উন্মুক্ত হওয়ার পর স্তালিনের অপরাধের যে প্রমাণগুলো পাওয়া গেছে, তা নিয়ে বিশ্ববিখ্যাত ঐতিহাসিকরা একাধিক তথ্যসমৃদ্ধ বই রচনা করেছেন। এই তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য নিচে কিছু নির্ভরযোগ্য প্রামাণিক পুস্তক এবং বিশ্বকোষের রেফারেন্স লিংক দেওয়া হলো:

## ১. প্রধান প্রামাণিক পুস্তকসমূহ (Authoritative Books)

* Stalin: The First In-depth Biography Based on Explosive New Documents from Russia's Secret Archives.

* লেখক: এডভার্ড রাদজিনস্কি (Edvard Radzinsky)

* বিবরণ: ১৯৯০-এর দশকে রাশিয়ার গোপন নথিপত্র উন্মুক্ত হওয়ার পর সেগুলোর ওপর ভিত্তি করে লেখা প্রথম পূর্ণাঙ্গ জীবনীগ্রন্থ। এতে লেনিনের গোপন চিঠি, নাৎসি জার্মানির সাথে গোপন চুক্তি এবং স্তালিনের ব্যক্তিগত আদেশের বহু অকাট্য প্রমাণ রয়েছে।

* The Great Terror: A Reassessment

* লেখক: রবার্ট কনকুয়েস্ট (Robert Conquest)

* বিবরণ: স্তালিনের "মহা-সন্ত্রাস" (Great Purge) নিয়ে লেখা এটি ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত ও নির্ভরযোগ্য বই। ১৯৯০ সালে সোভিয়েত নথি প্রকাশের পর লেখক তাঁর আগের গবেষণাকে নতুন নথির আলোকে পুনর্মূল্যায়ন (Reassessment) করে প্রকাশ করেন, যা স্তালিনের কোটা পদ্ধতিতে হত্যার বিষয়টি প্রমাণ করে。 [1] 

* The Secret Protocol: The Molotov-Ribbentrop Pact and the Falsification of History

* লেখক: আন্তোনেলা স্যালোমনি (Antonella Salomoni)

* বিবরণ: এই বইটি ১৯৩৯ সালের হিটলার-স্তালিন অনাক্রমণ চুক্তির সেই "গোপন প্রোটোকল" (Secret Protocol) নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে, যা ১৯৯২ সাল পর্যন্ত সোভিয়েত ইউনিয়ন অস্বীকার করে আসছিল।

* Stalin and His Hangmen: The Tyrant and Those Who Killed for Him.

* লেখক: ডোনাল্ড রেফিল্ড (Donald Rayfield)

* বিবরণ: স্তালিনের গোপন পুলিশ বাহিনী (NKVD) কীভাবে কোটা ধরে সাধারণ মানুষ ও বুদ্ধিজীবীদের নির্যাতন ও হত্যা করত, তার আর্কাইভাল নথির বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে এই গ্রন্থে।

## ২. বিশ্বকোষ ও ঐতিহাসিক নথির রেফারেন্স লিংক (Encyclopedia & Article Links)

* ক্রুসচেভের গোপন বক্তৃতা (১৯৫৬): ১৯৫৬ সালে নিকিতা ক্রুসচেভ কীভাবে স্তালিনের স্বৈরাচারী রূপ উন্মোচন করেন এবং লেনিনের শেষ উইলের কথা প্রকাশ করেন, তা জানতে পঠিতব্য:

* Britannica: Khrushchev's Secret Speech - Facts & Significance.

* কাতিন গণহত্যা (Katyn Massacre): ১৯৪০ সালে পোলিশ সেনাদের হত্যায় স্তালিনের সরাসরি জড়িত থাকার গোপন নথি ফাঁসের ইতিহাস জানতে বিস্তারিত দেখতে পারেন:

* The Soviet Katyn Lie and the Anglo-American Response.

* হিটলার-স্তালিন গোপন চুক্তি (Molotov-Ribbentrop Pact): পোল্যান্ড ও বাল্টিক রাষ্ট্র ভাগ করার সেই কুখ্যাত গোপন চুক্তির বিষয়ে ঐতিহাসিক বিবরণের জন্য ভিজিট করুন:

* Victims of Communism Memorial Foundation: The Molotov-Ribbentrop Pact.

* Communist Crimes: The Criminal Secret Protocol of the Molotov-Ribbentrop Pact.

এই বই ও লিংকগুলো আপনাকে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ নথিপত্র এবং বিশ্বস্বীকৃত ঐতিহাসিক প্রমাণাদি সম্পর্কে একটি গভীর ধারণা দেবে।

***


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

কিউবার ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের কারণ কী?

রাষ্ট্র ব্যবস্থায় যে অধিকারগুলো জন্মগতভাবে থাকা জরুরী

একটি বিকল্প অর্থনীতি কেন জরুরী?