বুদ্ধ ও ওশোর মধ্যে বিশেষ সাদৃশ্যটি কী?

 

দুজনেই মনুষ্য জীবন নিয়ে, জীবনের উদ্দেশ্য নিয়ে, জীবনযাপনের দিশা-দর্শন নিয়ে সাধনা করেছেন, তত্ত্ব দিয়েছেন। এর অর্থ এই যে মানুষ তাঁদের তত্ত্বকে যাচাই না করেই পরমসত্যটি ব্যবহারিক বলে গ্রহণ করে নেবে। যুগে যুগে মানুষ তুলনা-পর্যালোচনা করবে এমনটিই স্বাভাবিক। বিশেষ করে যতদিন না দুঃখের অবসান হয়। তাঁরা নিজ সময়ের আর্থসামাজিক ব্যবস্থা, বোধ, জ্ঞান অনুযায়ী সমস্যার সমাধান অন্বেষণ করেছেন, প্রয়োগের প্রচেষ্টা করেছেন, তত্ত্ব দিয়েছেন। এরপর সময় বদলেছে, জ্ঞান-বিজ্ঞান-চেতনা বদলেছে। তুলনা করে, যাচাই করে দেখা উচিত ওই সময়ের উপদেশ-তত্ত্ব এই সময়ের বাস্তবতার সাথে মিলছে কিনা, কাজে লাগছে কিনা। যা কাজের হবে রেখে দেওয়া উচিত, কাজে লাগানো উচিত, এবং অন্যের কাজে আসবে ভেবে প্রচার করা উচিত। যা কাজে লাগবে না বাতিল করা উচিত এবং অন্যদের জানানো উচিত বাতিল করে দিতে। বলা যায় নিজে যাচাই করে দেখে নেওয়া উচিত। যেমনটি ওশোর ক্ষেত্রে অভিনেতা বিনোদ খান্না করেছিলেন। পাঁচ বছর ওশোর পরিচালিত পথে সাধনা করে পুনরায় বলিউডে ফিরেছিলেন। যাচাই করবার এই ফর্মুলা উল্লেখিত দুই ব্যক্তিত্বের ক্ষেত্রেই নয় বরং পূর্বের সকল মনীষীদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। এতে সম্মান-অসম্মান কিংবা অপমানের কিছু নেই। যাচাই, পর্যালোচনা না করতে পারলে যারা করেছেন, করতে পারেন তাঁদের খুঁজে নিন। শিখে নিন। বুদ্ধের ক্ষেত্রেও বহু সাধক আছেন তাঁদের খুঁজে নিন। জেনে-বুঝে নিন।

বুদ্ধ এবং ওশোর মধ্যে একটি বিরাট সাদৃশ্য রয়েছে। এই সাদৃশ্য নিয়ে খুব বেশি আলোচনা-পর্যালোচনা দেখা যায় না। বিষয়টি হচ্ছে নির্বাণ। বুদ্ধের মতে এটিই জীবনের মূল উদ্দেশ্য। ওশোও এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন। বুদ্ধ ইচ্ছে-আকাঙ্ক্ষা ত্যাগের মাধ্যমে, কঠোর নিয়মের মাধ্যমে নির্বাণলাভের তত্ত্ব দিয়েছেন। অপরদিকে ওশো ভোগের মাধ্যমে, আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের মাধ্যমে নির্বাণলাভের তত্ত্ব দিয়েছেন।

ধাঁধা দুই স্থানেই রয়েছে। সেটা খুঁজে নিন। 

সর্বপ্রথম যে সংশয়ের নিষ্পত্তি অতি আবশ্যক তা হচ্ছে মনুষ্য জীবনের উদ্দেশ্য কি? এই উত্তরের স্পষ্টতা ব্যতীত পরবর্তী কোনও কর্মই যথার্থ বলে বিবেচিত হবে না। উদ্দেশ্যহীন কর্মের পরিণতিও উদ্দেশ্যহীন হবে। সিদ্ধান্ত হিসেবে যে উত্তরই ওঠে আসুক না কেন অপরজন তা কেন গ্রহণ করবেন? কীভাবে তিনি যাচাই করবেন উক্ত উদ্দেশ্য তার কাজে লাগবে কিনা? সকলের জীবনের উদ্দেশ্য কি এক?

দ্বিতীয়ত, উক্ত দুই ব্যক্তিত্বের মূল সিদ্ধান্ত নিয়ে। নির্বাণ আসলে কী সে বিষয়ে স্পষ্ট হওয়া এবং সমস্ত সংশয় দূর করা। 'নির্বাণ' আদৌ জীবনের উদ্দেশ্য হতে পারে কিনা তা যাচাই করে দেখা। যদি সার্বিকভাবে নির্বাণ জীবনের উদ্দেশ্য হয় তবে প্রচার-প্রসার করা। যদি না হয় বাতিল করে দেওয়া। কাজের নয় বলে প্রচার করা।

তৃতীয়ত, যদি নির্বাণ মনুষ্য জীবনের মূল উদ্দেশ্য না হয় তবে প্রকৃত উদ্দেশ্য কী হতে পারে তা নির্ধারণ করা। যাচাই করে, আলোচনা-পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া। প্রকৃত উদ্দেশ্য বলতে প্রকৃতিগতও বা সহজাত প্রবৃত্তিও ধরে নিতে পারেন। জীবনের উদ্দেশ্য এমন হওয়া উচিত যেন সকল জীবনের জন্য প্রযোজ্য হয়। তা না হলে তা আর জীবনের উদ্দেশ্য থাকে না। অমুক-তমুক ব্যক্তির উদ্দেশ্য বলে বিবেচিত হবে। 

বিস্তারিত মতামত আদান-প্রদানে আগ্রহী বন্ধুরা স্বাগত।

আলোচনা/অনুসন্ধান- 9830925502

***

পড়তে পারেন, "ধর্মীয় উন্মত্ততার স্থায়ী সমাধান কীভাবে সম্ভব?"

https://ulmbangla.blogspot.com/2022/06/blog-post_16.html

***

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

রাষ্ট্র ব্যবস্থায় যে অধিকারগুলো জন্মগতভাবে থাকা জরুরী

কিউবার ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের কারণ কী?

ব্যবস্থাগত অসম্পূর্ণতা নাকি নেতৃত্বের ব্যর্থতা?