ব্যবস্থাগত নীতির পরিবর্তন জরুরী


দল বা নেতৃত্ব দেশে রাজ্যে বদলাচ্ছে, কিন্তু জনজীবনের দুরবস্থা একই রয়ে যাচ্ছে, একই রয়ে যাবে যদি আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক ব্যবস্থা একই থাকে। বিকল্প আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক ব্যবস্থার উদ্দেশ্যে নাগরিক সমাজকে উদ্যোগে সামিল হতে হবে। দলমত নির্বিশেষে জনশক্তির দাবী জোরালো হলে সরকার পক্ষ সংশোধন করতে বাধ্য হবে, পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে নাগরিক পক্ষ বিকল্প আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করবে। নাগরিক শক্তির উপর কিছু নেই।


ULM Bangla ইউটিউব চ্যানেলে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা রয়েছে


প্রতিটি পরিবারের সমৃদ্ধ জীবনযাপনের উদ্দেশ্যে যে নীতি জরুরী ছিল তা প্রণয়ন করাই হয়নি। দেশে যে সম্পদ রয়েছে তার যথাযথ উৎপাদন-বিতরণ-ম্যানেজমেন্ট প্রক্রিয়া তৈরি করা হয়নি। এমনটি হলে প্রতিটি পরিবারের জন্য শিক্ষা, জীবিকা, স্বাস্থ্য, শিল্প, সুখসুবিধা, সুরক্ষা সম্ভব হতো। শুধুমাত্র প্রাণ বাঁচিয়ে রাখার জীবন নয় সমৃদ্ধশালী আধুনিক জীবনযাপনের সমস্ত সুখসুবিধার ব্যবস্থাপনা সম্ভব হতো। এই ব্যবস্থাপনা স্থায়ীভাবেই সম্ভব কারণ ভারতে পর্যাপ্ত উর্বর ভুমি রয়েছে, প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে, মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ রয়েছে। পাশাপাশি কর্ম সম্পাদনার জন্য মানব সম্পদ রয়েছে। সময় ও শ্রম লাঘবের জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তি রয়েছে। এরজন্য প্রথমেই জরুরী নীতির পরিবর্তন। নীতিই হচ্ছে আইন, নীতিই হচ্ছে সিদ্ধান্ত। বিশেষ করে অর্থনীতি রাজনীতির মৌলিক পরিবর্তন। এই দুই নীতি যথাযথ হলে শিক্ষানীতি, স্বাস্থ্যনীতি, কর্মসংস্থাননীতি, শিল্পনীতি, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সুখসুবিধা ইত্যাদি নীতির সঠিক রুপায়ন সম্ভব হবে।

এখানে নির্দিষ্ট একটি দলের ম্যানিফেস্টোর কথা বলছি না, রাষ্ট্রব্যবস্থার নীতির কথা বলছি। যদি রাষ্ট্রের ব্যবস্থা জনতার অধিকারের পক্ষে না থাকে তবে সরকারে যে দলই থাকুক না কেন অসম্পূর্ণতা-অসঙ্গতি থেকেই যাবে। এছাড়া দলকে নানা সংকীর্ণতা ঘিরে ধরে, সীমারেখায় আবদ্ধ হয়ে পড়ে। দলের পক্ষে যে মনোভাব বা সুবিধা থাকে বিপক্ষের দিকে তেমন থাকে না। এই সংকীর্ণতা অযৌক্তিক। এই মুহূর্তে ভারতের জন্য জরুরী সামগ্রিক কল্যাণের উদ্দেশ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা। পূর্ণাঙ্গ এই অর্থে যে এটি কোনও নির্দিষ্ট দলের পক্ষে নয় বরং সমগ্র ভারতবাসীর জন্য। যা হবে দলমত নির্বিশেষে সার্বিক সমৃদ্ধির জন্য। ভারতবাসীকে এই মুহূর্তে আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক নীতিমালার সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া উচিত, সার্বিক কল্যাণের নিরিখে নীতি হলে দেশের প্রতিটি দলের সমর্থন না করবার কারণ তো চোখে পড়ে না। বরং এ উদ্যোগে ব্যক্তি নাগরিক থেকে সকল দল সহমত হবে, সামিল হবে। 

বিস্তারিত আলোচনায় স্বাগত।

ফোন- 9830925502

ভাল লাগলে মন্তব্য করতে পারেন, শেয়ার করতে পারেন।



পড়ুনঃ সরকার, প্রশাসন এবং নেতৃত্ব গঠনের প্রক্রিয়া


***

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

রাষ্ট্র ব্যবস্থায় যে অধিকারগুলো জন্মগতভাবে থাকা জরুরী

কিউবার ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের কারণ কী?

ব্যবস্থাগত অসম্পূর্ণতা নাকি নেতৃত্বের ব্যর্থতা?